📌 কল্যাণপুর থেকে পদ্মা পেরিয়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালী যাত্রায় এক ব্যক্তির রহস্যময় অভিজ্ঞতা। হারিয়ে যাওয়া মানুষটির খোঁজে যাত্রা শুরু হলেও কোথায় যাচ্ছেন তা নিজেই জানেন না
কল্যাণপুর ফুটওভার ব্রিজের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের অবস্থান নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত একজন মানুষ। পিঠে ব্যাগ, পরনে নীল জিনস প্যান্ট আর কালো ফুলহাতা শার্ট। ব্যাগে ল্যাপটপ, ক্যামেরা, কয়েকটি টি-শার্ট, ট্রাউজার, নোটবুক, কলম আর একজোড়া চশমা। সময় রাত সাড়ে ৯টা। চারদিকে কর্মব্যস্ত শহরের কোলাহল আর হকারদের ডাকাডাকিতে মুখরিত পরিবেশ। অভ্যাসবশত হাতের ক্যাসিও ঘড়িতে সময় দেখলেন ৯টা ১৪ মিনিট। কোনো তাড়া নেই, কোথায় যাবেন সেটাও জানেন না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কল্যাণপুর ফুটওভার ব্রিজ থেকে শুরু হয় ব্যক্তির অজানা যাত্রা
- 📌 ব্যাগে ছিল ল্যাপটপ, ক্যামেরা, কয়েকটি টি-শার্ট, ট্রাউজার, নোটবুক ও চশমা
- 📌 সময় ছিল রাত সাড়ে ৯টা, ঘড়িতে সময় দেখেছিলেন ৯টা ১৪ মিনিট
- 📌 ব্যক্তির জানা ছিল না তিনি কোথায় যাচ্ছেন বা কার কাছে যাচ্ছেন
- 📌 রং-চা খেয়ে সাময়িক খিদে মেটানোর চেষ্টা করেন
- 📌 দূরপাল্লার বাসে উঠে মোবাইল বন্ধ করে ব্যাগে রেখে দেন
- 📌 গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে বাস ছেড়ে যায় রাত সাড়ে ৯টায়
- 📌 ব্যক্তির উদ্দেশ্য ছিল হারিয়ে যাওয়া মানুষটির জন্মভিটা দেখতে যাওয়া
- 📌 কুষ্টিয়া কুমারখালী চরগোবরার মনিরুলদের বাড়ির ঠিকানা ছিল একমাত্র সম্বল
- 📌 রাত ১১টা ২৬ মিনিটে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে বাস থামে
📰 বিস্তারিত
কল্যাণপুর ফুটওভার ব্রিজের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের অস্তিত্ব নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত একজন মানুষ। চারদিকে শহরের ব্যস্ততা আর কর্মজীবীদের ছুটে চলা। তিনি ছিলেন একা। ব্যাগে ছিল ল্যাপটপ, ক্যামেরা, কয়েকটি টি-শার্ট, ট্রাউজার, নোটবুক, কলম আর একজোড়া চশমা। সময় রাত সাড়ে ৯টা। অভ্যাসবশত হাতের ক্যাসিও ঘড়িতে সময় দেখলেন ৯টা ১৪ মিনিট। কোনো তাড়া নেই, কোথায় যাবেন সেটাও জানেন না। শুধু জানেন তিনি কল্যাণপুর থেকে যাত্রা শুরু করেছেন।
টংদোকান থেকে একটা ‘সানন্দা’ ম্যাগাজিন নিয়ে নিলেন। প্রায় বিশ বছর পর হাতে তুলে নেওয়া সেই ম্যাগাজিন। জানেন না মানুষ এখনো এসব ম্যাগাজিন পড়ে কি না। রং-চা খেলেন খিদে কমাতে। আনমনে ম্যাগাজিনের পাতা উল্টাতে থাকলেন। দূরপাল্লার একজন বাস কন্ডাক্টরের কণ্ঠে শুনতে পেলেন কুষ্টিয়া কুমারখালীর কথা। বাসের নাম ‘রাবেয়া’। কোনো চিন্তা না করে দৌড়ে বাসে উঠে গেলেন। বাসে উঠেই মোবাইল বন্ধ করে ব্যাগের ভেতর রেখে দিলেন।
গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে এসে এক বোতল পানি আনালেন। গাবতলী থেকে বাস ছেড়ে দিল রাত সাড়ে ৯টায়। বাসে যাত্রী কম থাকায় মাঝামাঝি বসে জানালার পাশে। জানালা একটু খুলে দিলেন। ভাবতে লাগলেন তিনি কোথায় যাচ্ছেন, কার কাছে যাচ্ছেন। তাঁর কাছে সম্বল ছিল শুধু কুষ্টিয়া কুমারখালী চরগোবরার মনিরুলদের বাড়ির ঠিকানা। জানতেন না সেই মানুষটি সেখানে আছেন কি না। কিন্তু তাঁর জন্মভিটা দেখতে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল প্রবল।
রাত ১১টা ২৬ মিনিটে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে বাস থেমে গেল। ব্যক্তি নেমে গেলেন ফেরির তিনতলায়। সেখান থেকে দেখা যাচ্ছিল মরে যাওয়া পদ্মা নদীর সৌন্দর্য। দূরে কোনো একটা ডিঙিনৌকায় টিমটিম করে আলো জ্বলছিল। হয়তো কোনো জেলে জাল ফেলে অপেক্ষা করছিল। প্রায় ৩০ মিনিট লাগল ফেরি পার হতে। জানালাটা টেনে দিলেন কারণ হালকা হিমেল হাওয়া আসছিল।
বাস কন্ডাক্টরের ডাকে ঘুম থেকে সজাগ হয়ে উঠলেন। কন্ডাক্টর জানালেন আর দুই কিলোমিটার সামনে কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড। ঘড়িতে তখন প্রায় রাত দুইটা। কুমারখালী বাসস্ট্যান্ডে নেমে চারদিকে তাকালেন। দু-একটা টংদোকান ছাড়া সব দোকান বন্ধ। কয়েকটা নেড়ি কুকুর ঘেউ ঘেউ করছিল। জীবনের প্রথম তিনি এদিকে এলেন।
"তুমি সব সময় একটা রহস্য লুকিয়ে রাখতে আমাদের মাঝে এবং সেটা করতে খুব সযতনে, যেটা আমি বুঝতে পারিনি। যদি জানতাম বা বুঝতাম, তাহলে আমি তোমার বাসার ঠিকানা ও বোনের নাম্বার তোমার কাছ থেকে নিয়ে রাখতাম। শুধু জানতাম, তুমি তোমার বোনের সঙ্গে থাকো।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কল্যাণপুর, ঢাকা
- 👥 ব্যক্তি: একজন রহস্যময় যাত্রী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ বছর, ৯টা ১৪ মিনিট, ১১টা ২৬ মিনিট, ৩০ মিনিট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!