📌 মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুর পর তার পাপেট শিল্পের অসমাপ্ত প্রকল্প ও পাপেট বাড়ির সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সহকর্মীরা। ধানমন্ডির বাড়িতে এখনো প্রায় একশ পাপেট রয়েছে, কিন্তু শিল্পীর মৃত্যুর পর কাজের গতি থেমে গেছে
মুস্তাফা মনোয়ারের চিরন্তন শিল্পসৃজনী পাপেট জগতের অসমাপ্ত প্রকল্প ও তার তৈরি পাপেট চরিত্রগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিল্পীর সহকর্মীরা। ২৯ জুন চিরবিদায় নেওয়া এই শিল্পীর বাড়িতে এখনো প্রায় একশ পাপেটের অদ্ভুতুড়ে উপস্থিতি রয়েছে, কিন্তু তার মৃত্যুর পর থেকে কাজের গতি সম্পূর্ণ থেমে গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুর পর তার পাপেট বাড়িতে কাজের গতি সম্পূর্ণ থেমে গেছে, কিন্তু শুটিং পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি চলছে
- 📌 শিল্পীর তৈরি প্রায় একশ পাপেটের মধ্যে রয়েছে বিটিভির জনপ্রিয় শো ‘মনের কথা’র চরিত্র পারুল, বাউল ভাই ও ষাঁড়
- 📌 ‘বীর পুরুষ’ নামের পাপেট চলচ্চিত্রের পরিকল্পনা ছিল রবীন্দ্রনাথের শিশুতোষ কবিতাকে চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত করা, কিন্তু শিল্পীর অসুস্থতার কারণে কাজ অসমাপ্ত রইল
- 📌 অনুকূল চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে শিল্পীর সহকর্মীরা বলেছেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে মুস্তাফা মনোয়ার কাজটি শেষ করতে পারেননি, কিন্তু সহযোগিতায় কাজটি শেষ হতে পারে
- 📌 পাপেট তৈরির প্রতিটি অংশে শিল্পীর নিজস্ব কারিগরি দক্ষতা ছিল — একটা পাপেট তৈরি করতে দেড় মাসের বেশি সময় লাগত
📰 বিস্তারিত
ধানমন্ডির পুরাতন ধাঁচের বাড়ির নিচতলায় পাপেট শিল্পের স্টুডিওতে দেখা গেল, রং গোলাচ্ছেন দুজন কর্মী। শিল্পীর সহযাত্রী অনুকূল চন্দ্র দাস তাদের নির্দেশনা দিচ্ছেন। তিনি বলেন, নব্বইয়ের দশকে চারুকলায় পড়ার সময় থেকেই মুস্তাফা মনোয়ারের কাজের সঙ্গী ছিলেন। বাড়ির দুটি তলায় গড়ে উঠেছে শিল্পীর শিল্পের ভুবন। নিচতলায় স্টুডিওতে আকাশি-নীলের ক্যানভাসে ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া রঙের পোঁচ দেখা যায়। ওপরে সার বাঁধা আলোকসম্পাতের যন্ত্র, স্ট্যান্ড, কৃত্রিম গাছ — সবই বিটিভির জনপ্রিয় পাপেট শো ‘মনের কথা’র শুটিংয়ের স্মৃতি বহন করে।
অনুকূল চন্দ্র দাস শিল্পীর পাপেট বাড়ির দিকে নিয়ে যান। এই কক্ষটিকে ‘যন্তরমন্তর গৃহ’ বলা যেতে পারে। চারদিকে নানা ধরনের ধাতব যন্ত্রপাতি — হাতুড়ি, বাটালি, স্ক্রু ড্রাইভার, ড্রিল মেশিন, প্লায়ার্স, কাঠ কাটার যন্ত্র, এমনকি পুরোনো লেদ মেশিনও। মাথার ওপরে যন্ত্রপাতি, কাপড়ের বান্ডিল, কাঠের ছোট গুঁড়ি — সবই পাপেট তৈরির সরঞ্জাম। অনুকূল বলেন, পাপেট শো টিভিতে সহজ দেখতে হলেও এর পেছনের খাটুনি বিশাল। একটা পাপেট চরিত্র বানাতে দেড় মাসের বেশি সময় লাগে। শুধু বানানো শেষ নয়, মহড়াও করতে হয়। কারণ পাপেটকে যতটা সম্ভব জ্যান্ত মানুষ বা প্রাণীর ভাব নিয়ে আসতে হয়।
শিল্পীর মৃত্যুর পর থেকে গত কয়েক মাসে কোনো কাজ হয়নি, কিন্তু শুটিং পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। অনুকূল জানান, শিল্পী নিজেই পাপেট তৈরির প্রতিটি অংশ ওয়ার্কশপ ঘরে বসে নির্দেশনা দিয়ে বানাতেন। জাপানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে নিজে আনিয়েছিলেন যন্ত্রগুলো। পাপেট বাড়িতে এখনো রয়েছে শিল্পীর তৈরি প্রায় একশ পাপেট। ঘরে ঢুকলেই চোখে পড়ে দেয়ালজুড়ে ঝোলানো বর্ণিল মুখ — কারও ঠোঁটে হাসি, কারও মুখ হাঁ হয়ে আছে যেন এখনই কথা বলে উঠবে। টেবিলে ছড়িয়ে আছে ছেনি, তুলি, রঙের কৌটা, সেলাই কাটার সরঞ্জাম।
অনুকূল বলেন, ‘বীর পুরুষ’ নামের পাপেট চলচ্চিত্রের পরিকল্পনা ছিল রবীন্দ্রনাথের শিশুতোষ কবিতা ‘বীর পুরুষ’কে চলচ্চিত্রে রূপ দিতে। ইচ্ছা ছিল আরেকটি চলচ্চিত্র ‘সুভা’ নিয়ে করা, কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে শিল্পী কাজটি শেষ করতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘পাণ্ডুলিপি তৈরি থেকে শুরু করে পাপেট ক্যারেক্টার তৈরির কাজ আমরা অনেকটাই এগিয়ে নিয়েছিলাম। কিন্তু স্যার আর কাজটি শেষ করতে পারেননি। কেউ উদ্যোগ নিলে, আমাদের সহযোগিতায় কাজটি শেষ হতে পারে।’
"পাপেটের প্রতিটা অংশই ওয়ার্কশপ ঘরে বসে নিজে নির্দেশনা দিয়ে বানাতেন মুস্তাফা মনোয়ার। নিজেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে কাজ করতেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ধানমন্ডি, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অনুকূল চন্দ্র দাস, মুস্তাফা মনোয়ার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৯ (জুন), ১০০ (পাপেট)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!