📌 মুন্সিগঞ্জের বালাশুরের নাগরনন্দী ঘোষবাড়িতে পরিবারের ১৪টি শাখার সদস্য একত্রিত হয়ে আয়োজিত দুর্গাপূজা এবার 'সম্প্রীতির বাংলাদেশ' থিম নিয়ে। ঢাকাবাসীও মোটরসাইকেলে দেড় ঘণ্টা পথ পেরিয়ে পূজা দেখতে আসেন। পূজার আয়োজন ব্যয় ২৫ লাখ টাকা
মুন্সিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী নাগরনন্দী ঘোষবাড়িতে পরিবারের ১৪টি শাখার সদস্য একত্রিত হয়ে আয়োজিত দুর্গাপূজা এবার 'সম্প্রীতির বাংলাদেশ' বার্তা নিয়ে বিশেষ মর্যাদা পেয়েছে। ঢাকার বাসিন্দারা মোটরসাইকেলে দেড় ঘণ্টার পথ পেরিয়ে এই ঐতিহ্যবাহী পূজা দেখতে আসছেন। বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের এই ঐতিহ্যবাহী পূজা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, পরিবারের ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৪টি শাখার সদস্য একত্রিত হয়ে মুন্সিগঞ্জের নাগরনন্দী ঘোষবাড়িতে দুর্গাপূজা আয়োজন, যা ২০১৫ সাল থেকে পরিবারের উদ্যোগে চলছে।
- 📌 পূজার থিম 'সম্প্রীতির বাংলাদেশ' — মসজিদ, মন্দির ও গির্জার প্রতীকী উপস্থাপন করে ধর্মীয় সহাবস্থানের বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।
- 📌 ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে আয়োজিত পূজায় প্রতিমা, মণ্ডপসজ্জা, আচার-অনুষ্ঠান ও প্রসাদ বিতরণের জন্য অর্থ খরচ হয়েছে।
- 📌 কলকাতার কুমারটুলি থেকে সংগ্রহ করা ঐতিহ্যবাহী প্রতিমা ও সাজসজ্জা পূজাকে আরো বিশেষ করে তুলেছে।
- 📌 ২০১৫ সাল থেকে পরিবারের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই পূজা করোনা ও দেশের অস্থিতিশীলতা সত্ত্বেও অব্যাহত রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
মুন্সিগঞ্জের বালাশুরের নাগরনন্দী ঘোষবাড়িতে প্রতি বছর দুর্গাপূজা আয়োজন করা হয়। এই পূজা শুধু দেবী দুর্গার আরাধনা নয়, পরিবারের ১৪টি শাখার সদস্যদের একত্রিত হওয়ার একটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ থেকে নতুন প্রজন্মের সদস্যরা একসঙ্গে মিলিত হন এবং পূর্বপুরুষের রীতিনীতিগুলো শেখানোর মাধ্যমে ঐতিহ্য বজায় রাখেন।
পূজার অন্যতম উদ্যোক্তা প্রমীত কুমার ঘোষ বলেন, পরিবারের অধিকাংশ সদস্য শহরকেন্দ্রিক জীবনযাপন করে। জীবিকার প্রয়োজনে সবাই ব্যস্ত থাকায় আগের মতো একসঙ্গে বাড়িতে সময় কাটানোর সুযোগ কমে গিয়েছিল। সেই দূরত্ব কমিয়ে পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয় ও সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার উদ্দেশ্যে ২০১৫ সাল থেকে এই পূজা আয়োজন শুরু হয়। তিনি বলেন, ‘ছোট করে হোক, তবু বাড়িতে একটা পূজা শুরু করি—এমন ইচ্ছা থেকেই আমরা সবাই আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিই।’
পূজার আয়োজন দেখতে ঢাকাবাসী আলোকচিত্রী সুমন ইউসুফ ও তার সহকর্মীরা মোটরসাইকেলে প্রায় দেড় ঘণ্টার পথ পেরিয়ে মুন্সিগঞ্জের বালাশুরে গিয়েছিলেন। এই পূজা পরিবারের ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। প্রতিবছরই এই পূজায় দেবী দুর্গার আরাধনার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের একত্রিত হওয়ার আনন্দও বাড়ে।
এবারের পূজার থিম 'সম্প্রীতির বাংলাদেশ'। এই থিমের মধ্য দিয়ে পরিবারের সদস্যরা ধর্মীয় সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। দেবী দুর্গা শক্তি ও শুভ শক্তির প্রতীক হওয়ায় এই পূজা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় প্রতিষ্ঠার বার্তাও বহন করে। পূজার অন্যতম উদ্যোক্তা দীপক কুমার ঘোষ বলেন, প্রতিবছর পূজায় দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন। মুন্সিগঞ্জ সদর ছাড়াও পদ্মার ওপার থেকে অনেকে আসেন এই আয়োজন দেখতে।
"ছোট করে হোক, তবু বাড়িতে একটা পূজা শুরু করি—এমন ইচ্ছা থেকেই আমরা সবাই আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিই।"
পূজার আয়োজন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য। দীপক কুমার ঘোষের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছর পূজায় ব্যয় হয়েছিল ২০ লাখ টাকার কিছু বেশি। এ বছর সেই ব্যয় প্রায় ২৫ লাখ টাকা হতে পারে বলে তাঁদের ধারণা। প্রতিমা, মণ্ডপসজ্জা, ধর্মীয় আচার, অতিথি আপ্যায়ন ও প্রসাদ বিতরণের জন্য এই অর্থ খরচ হয়। প্রতিমার সাজসজ্জা ও অলংকারের জন্য পরিবারের সদস্যরা কলকাতার কুমারটুলি থেকে ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী সংগ্রহ করেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মুন্সিগঞ্জ সদর, বালাশুর, নাগরনন্দী ঘোষবাড়ি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রমীত কুমার ঘোষ, দীপক কুমার ঘোষ, আলোকচিত্রী সুমন ইউসুফ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪টি শাখা, ২৫ লাখ টাকা, ২০১৫ সাল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!