📌 সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মুন্ডা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসবে কারামগাছের ঘাটতি পূরণে পিপুলের ডাল ব্যবহার করা হয়েছে। উপকূলের লবণাক্ততা ও অতিরিক্ত গরমের কারণে কারামগাছ টিকে না থাকায় উৎসবের রীতি পরিবর্তিত হয়েছে। মুন্ডারা বিশ্বাস করেন, এই গাছের সাথে জড়িত তাদের ধর্মীয় ও পরিবেশগত ঐতিহ্য হুমকির মুখে পড়েছে
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্ডাপাড়ায় মুন্ডা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পাঁচ দিনব্যাপী কারাম উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। তবে এই বার উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া কারামগাছের পরিবর্তে পিপুলের একটি ডালকে পূজার স্থানে রাখা হয়েছে। উপকূলের লবণাক্ততা ও অতিরিক্ত গরমের কারণে এলাকায় কারামগাছের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে, যা মুন্ডাদের ধর্মীয় ও পরিবেশগত ঐতিহ্যকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পিপুলের ডালে উৎসব: কারামগাছের ঘাটতি পূরণে শ্যামনগরে পিপুলের একটি ডালকে পূজার স্থানে ব্যবহার করা হয়েছে।
- 📌 কারামগাছের অস্তিত্ব হুমকির মুখে: উপকূলের লবণাক্ততা ও অতিরিক্ত গরমের কারণে এলাকায় কারামগাছ টিকে থাকতে পারছে না।
- 📌 আয়োজনের পরিবর্তন: ২০২৪ সালেও জয়পুরহাট থেকে কারামগাছ আনতে হয়েছিল। স্থানীয় চারা লাগানোর চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে।
- 📌 উৎসবের ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে: খুলনার কয়রার মুন্ডাপাড়ায় ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলার পর কারাম উৎসবের স্মৃতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
- 📌 লোককথার সাথে জড়িত উৎসব: ধর্মা ও কর্মা দুই ভাইয়ের গল্পের সাথে কারাম উৎসবের ঐতিহ্য জড়িত।
📰 বিস্তারিত
মুন্ডাপাড়ায় গত মঙ্গলবার শেষ হওয়া কারাম উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছিল পিপুলের একটি ডাল দিয়ে। দাতিনাখালি মুন্ডাপাড়ার বাসিন্দা দীপালি মুন্ডা বলেছেন, ‘স্বামী ও সন্তানের মঙ্গল কামনায় কারাম উৎসবে অংশ নেয়াম। পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে শিখেছি কারাম দেবতার পূজার রীতি। কিন্তু এলাকায় কারামগাছ না থাকায় পিপুলের ডাল পুঁতে পূজা করতে হয়েছে।’ মুন্ডা সম্প্রদায়ের মানুষের ভাষ্য, উপকূলের লবণাক্ততা ও অতিরিক্ত গরমের কারণে এলাকায় কারামগাছ টিকে থাকতে পারছে না।
সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থার (সামস) নির্বাহী পরিচালক কৃষ্ণপদ মুন্ডা জানান, ‘এবার জয়পুরহাট থেকে কারামগাছ আনতে পারেনি। তাই বিকল্প হিসেবে পিপুলগাছের ডাল দিয়ে পূজা করা হয়েছে। কারামগাছ ও পিপুলগাছ কিছুটা সমগোত্রীয় হওয়ায় সবাই এতে রাজি হন।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০২৪ সালেও জয়পুরহাট থেকে কারামগাছ আনতে হয়েছিল। স্থানীয়ভাবে চারা লাগানোর চেষ্টাও হয়েছিল, কিন্তু গরমে সেটি মারা যায়।’
কারাম উৎসব মুন্ডাদের কাছে শুধু এক দিনের পূজা নয়। এটি তিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত চলে। পূজার স্থানে বিভিন্ন বীজ দেওয়া হয় এবং স্থাপন করা হয় কারামের ডাল। পূজার পর শুরু হয় নাচ-গান। খুলনার কয়রার মুন্ডাপাড়ায় ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলার আগে কারাম উৎসব হতো। আইলার পর বাঁধ ভেঙে ঢুকে পড়া নোনা পানি বদলে দেয় সেই চিত্র। ধীরে ধীরে কমতে থাকে কারামগাছ এবং উৎসবও বন্ধ হয়ে যায়। নলপাড়া গ্রামের নমিতা রানী মুন্ডা বলেন, ‘২০০৯ সালের আগেই শেষবার উৎসব হয়েছিল। এরপর আর হয়নি। কারামগাছই তো নেই, উৎসব হবে কীভাবে?’
"একসময় যে গাছের ডালকে ঘিরে মুন্ডাপাড়ায় রাতভর নাচ-গান হতো, সেই গাছ এখন দূরের জেলা থেকে আনতে হয়। এবার সেটিও না আসায় উৎসব হয়েছে পিপুলের একটি ডালে। গাছটি আবার লাগালে উপকূলের মাটিতে বাঁচবে কি না, তা জানি না। তবে মাদলের তালে যে উৎসব এবার মুন্ডাপাড়ায় ফিরেছে, সেটি যেন আর হারিয়ে না যায়—এটাই চাওয়া আমাদের।"
মুন্ডা সম্প্রদায়ের পূজারি নারায়ণ চন্দ্র মুন্ডা।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শ্যামনগর উপজেলা, সাতক্ষীরা ও খুলনার কয়রা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দীপালি মুন্ডা, কৃষ্ণপদ মুন্ডা, নমিতা রানী মুন্ডা, নারায়ণ চন্দ্র মুন্ডা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ থেকে ৭ দিন (উৎসবের দৈর্ঘ্য), ২০০৯ (আইলার আগে শেষ কারাম উৎসব)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!