📌 জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী বলেছেন, শুষ্ক মৌসুমে উজান দেশের একতরফা পানি প্রত্যাহার ও নদী দূষণ বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তাকে বিপদে ফেলেছে। তিনি ফারাক্কা বাঁধের পুনর্মূল্যায়ন ও আন্তর্জাতিক চুক্তি নবায়নের দাবি জানিয়েছেন
শুষ্ক মৌসুমে উজান দেশের একতরফা পানি প্রত্যাহার বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে সতর্ক করেছেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, নদীদূষণ, অবৈধ বালু উত্তোলন ও নদী দখলসহ বিভিন্ন কারণে দেশের নদীসমূহ সংকটে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী বলেছেন, শুষ্ক মৌসুমে উজান দেশের একতরফা পানি প্রত্যাহার বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তাকে বিপদে ফেলেছে।
- 📌 ৫৪টি আন্তসীমান্ত নদীর বাস্তব সংখ্যা আরও বেশি, যার মাধ্যমে দূষণ বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।
- 📌 তিস্তা নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি কমে যাওয়ার কারণে নদী অববাহিকার মানুষের জীবনযাপন বিপদে পড়েছে।
- 📌 ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের প্রায় ৫০ বছর পর বাংলাদেশের ওপর এর প্রভাব পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
- 📌 ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ শেষ হওয়া বাংলাদেশ-ভারত পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের প্রক্রিয়া ধীরগতির কারণে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
- 📌 ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ২২ দিনের মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগে স্থানীয় রাজনৈতিক সমর্থন না পাওয়ার কারণে জেলেদের মাছ ধরা ঠেকাতে চ্যালেঞ্জ।
📰 বিস্তারিত
‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’ সমাপনী দিনের ‘ওয়াটার, রিভার্স, অ্যান্ড রিজিওনাল ডিপ্লোমেসি’ সেশনে মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী বলেছেন, শহর ও শিল্পাঞ্চলের নদীগুলো জৈব ও অজৈব দূষণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, নদীভাঙন, অবৈধ বালু উত্তোলন ও নদী দখলও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদী অব্যবহৃত হলে সেখানে দখল ও অবৈধ ব্যবহার বাড়তে থাকে।
মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে চুক্তি নবায়নের প্রক্রিয়া ধীরগতির কারণে বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তিনি বলেছেন, বিদ্যমান চুক্তিতে পানির পরিবেশগত প্রবাহ নিশ্চিত করার বিষয়টি নেই। তিনি দাবি করেছেন, পুরো নদী অববাহিকাকে বিবেচনায় নিয়ে পানির হিসাব করতে হবে।
তিনি আরও বলেছেন, ফারাক্কা বাঁধের কার্যকারিতা পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ফারাক্কা নির্মাণের প্রায় ৫০ বছর হয়ে গেছে। তাই এটি ভারতের জন্য কতটা কার্যকর এবং বাংলাদেশের ওপর এর কী প্রভাব পড়ছে, তা নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তিনি বলেছেন, ফারাক্কা ধ্বংস নয়, ‘ডিকমিশন’ বা কার্যক্রম বন্ধ করার বিষয়টি পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী বলেছেন, নদী রক্ষায় আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, কোনো নদীকে নদী হিসেবে চিহ্নিত করাই প্রথম কাজ। এরপর তাকে আইনি সুরক্ষা দিতে হবে এবং নদী দূষণবিরোধী আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। তিনি বলেছেন, দেশে এ বিষয়ে অনেক আইন থাকলেও সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগে স্থানীয় রাজনৈতিক দল ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা না পাওয়ার কারণে জেলেদের মাছ ধরা ঠেকাতে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
"শুষ্ক মৌসুমে উজানে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহারের কারণে দেশের পানি নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিস্তা নদীর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানির পরিমাণ খুব কম থাকে, আবার বর্ষায় অতিরিক্ত পানি আসে। এ ধরনের পরিস্থিতি নদী অববাহিকার মানুষের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সোনারগাঁও, ঢাকা; তিস্তা নদী, বাংলাদেশ; আন্তর্জাতিক নদীসমূহ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী, নাইজেরিয়ার অ্যান্থনি জুড উচে ইগওয়ে, পাকিস্তানের মুহাম্মদ আজিম আলী শাহ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৪টি আন্তর্জাতিক নদী, ১১ ডিসেম্বর, ৫০ বছর, ৭ অক্টোবর, ১২টা, ২২ দিন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!