📌 টাকা দিয়ে সুখ কেনা যায় না বলে প্রচলিত ধারণা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, আর্থিক নিরাপত্তা মানুষের জীবনে স্বস্তি ও নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি এনে দেয়, যা পরোক্ষভাবে সুখের অনুভূতি বৃদ্ধি করে
টাকা দিয়ে সুখ কেনা যায় না বলে বহুকাল ধরে প্রচলিত ধারণা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ৩৩ হাজার ৩৯১ জন কর্মজীবী প্রাপ্তবয়স্কের কাছ থেকে সংগ্রহ করা প্রায় ১৭ লাখ ২৬ হাজার মুহূর্তভিত্তিক অনুভূতির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আয় বৃদ্ধির সঙ্গে মানুষের দৈনন্দিন ভালো থাকার অনুভূতিও সমানুপাতিকভাবে বৃদ্ধি পায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গবেষণায় অংশ নিয়েছিলেন ৩৩ হাজার ৩৯১ জন কর্মজীবী প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ
- 📌 সংগ্রহ করা হয় প্রায় ১৭ লাখ ২৬ হাজার মুহূর্তভিত্তিক অনুভূতির তথ্য
- 📌 অংশগ্রহণকারীদের মধ্যম বার্ষিক পারিবারিক আয় ছিল ৮৫ হাজার মার্কিন ডলার
- 📌 আয় বৃদ্ধির সঙ্গে মানুষের জীবন নিয়ে সন্তুষ্টিও বৃদ্ধি পায়
- 📌 গবেষণায় বলা হয়েছে, "টাকা সুখ কিনতে পারে না" এবং "টাকার কোনো ভূমিকা নেই" উক্তিগুলো সম্পূর্ণ সত্য নয়
📰 বিস্তারিত
গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ম্যাথিউ কিলিংসওয়ার্থ। তাঁর গবেষণায় উঠে এসেছে যে, আয় বৃদ্ধির সঙ্গে মানুষের দৈনন্দিন ভালো থাকার অনুভূতি বৃদ্ধি পায়। জীবন নিয়ে সন্তুষ্টিও সমান তালে বৃদ্ধি পায়। আগে অনেকে ধারণা করতেন যে, নির্দিষ্ট একটি আয় স্তরের পর সুখ থেমে যায়। কিন্তু এই গবেষণায় এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের জীবনযাত্রার মান, পারিবারিক দায়িত্ব, ঋণ, স্বাস্থ্য, কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সম্পর্কের মতো বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে। দেখা গেছে, আয় বৃদ্ধির সঙ্গে মানুষের সুখ বৃদ্ধি পায় ঠিকই, তবে তা সবার জন্য একই রকম নয়। কারও কারও ক্ষেত্রে আয় বৃদ্ধির প্রভাব কমে যেতে পারে বা স্থির হয়ে যেতে পারে।
২০২৩ সালে পেনসিলভানিয়া ও প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায়ও দেখা গেছে যে, গড়ে আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সুখ বৃদ্ধি পায়। তবে যাঁরা তুলনামূলক বেশি অসুখী, তাঁদের ক্ষেত্রে আয় বৃদ্ধির প্রভাব এক পর্যায়ের পর কমে যেতে পারে।
"টাকা সুখ কিনতে পারে না"
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে যে, বেশি আয় সব সমস্যার সমাধান নয়। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অনেক টাকা থাকলেও সম্পর্ক ভেঙে গেলে, কাজের পরিবেশ অসহনীয় হলে বা একাকিত্ব ঘিরে ধরলে সেই অর্থের ক্ষমতাও সীমিত হয়ে যায়। ২০২৬ সালে প্রকাশিত পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বেশি আয়ের মানুষ সাধারণভাবে বেশি সুখী হন। তবে কর্মক্ষেত্রে থাকার সময় সেই পার্থক্য সবসময় একইভাবে দেখা যায় না।
"টাকার কোনো ভূমিকা নেই"
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ঢাকায় থাকা পরিবারের প্রয়োজন আর নিউইয়র্কে থাকা পরিবারের প্রয়োজন এক নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একজন মানুষের জন্য যে আয় স্বস্তির, অন্যজনের জন্য সেটা নিত্যপ্রয়োজন মেটাতেই যথেষ্ট নয়। তাই আয়ের সঙ্গে সুখের সম্পর্ক বুঝতে শুধু টাকার অঙ্ক দেখলেই চলে না। জীবনযাত্রার খরচ, পারিবারিক দায়িত্ব, স্বাস্থ্য, কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সম্পর্কের মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ম্যাথিউ কিলিংসওয়ার্থ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৩ হাজার ৩৯১ জন, ১৭ লাখ ২৬ হাজার মুহূর্ত, ৮৫ হাজার মার্কিন ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!