📌 অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে চালু হওয়া ছয়টি নাগরিক সেবাকেন্দ্রের মধ্যে চারটিতে তালা ঝুলছে। মোহাম্মদপুরের কেন্দ্রটি উদ্যোক্তা ছাড়াই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সরকারি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরঞ্জাম না পেয়ে কেন্দ্র পরিচালনা থেকে বিরত রয়েছেন উদ্যোক্তারা
ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত অন্তর্বর্তী সরকারের চালু করা একটি নাগরিক সেবাকেন্দ্র পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। মোহাম্মদপুর সাব-পোস্ট অফিসের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে গড়ে তোলা এই কেন্দ্রটিতে কোনো উদ্যোক্তা বা সেবাপ্রার্থী নেই। সরেজমিনে দেখা যায়, দুটি টেবিল ও কয়েকটি চেয়ার অগোছালোভাবে পড়ে আছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অন্তর্বর্তী সরকারের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ছয়টি নাগরিক সেবাকেন্দ্র চালু করেছিলেন
- 📌 মোহাম্মদপুরের কেন্দ্রটি উদ্যোক্তা মো. মুস্তাকিমের নেতৃত্বে পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল
- 📌 কেন্দ্রটিতে সরকারি ৪৫০টি সেবা প্রদানের কথা থাকলেও কোনো সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়নি
- 📌 ছয়টি কেন্দ্রের মধ্যে চারটিতে তালা ঝুলছে, দুটি মাঝেমধ্যে খোলা হলেও সেবাপ্রার্থী অনুপস্থিত
- 📌 কেন্দ্র চালু হওয়ার পর উদ্যোক্তা নিয়মিত উপস্থিত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আর আসেন না
📰 বিস্তারিত
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের উদ্যোগে ছয়টি নাগরিক সেবাকেন্দ্র চালু করা হয়েছিল। এর মধ্যে ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত কেন্দ্রটি মোহাম্মদপুর সাব-পোস্ট অফিসের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে স্থাপন করা হয়। কেন্দ্রটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মো. মুস্তাকিম নামের এক উদ্যোক্তাকে। মুস্তাকিম আগে একটি কম্পিউটার সেবার দোকান চালাতেন। তিনি জানান, সরকারি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম যেমন কম্পিউটার, প্রিন্টার, বায়োমেট্রিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়নি। ফলে কেন্দ্রটি চালু করার পর থেকেই তিনি নিয়মিত উপস্থিত থাকলেও বর্তমানে তিনি আর কেন্দ্রে যান না।
মোহাম্মদপুর সাব-পোস্ট অফিসের কর্মীরা জানান, কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর কয়েক দিন মুস্তাকিম ল্যাপটপ নিয়ে এসে বসতেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে আর দেখা যায়নি। কেন্দ্রটিতে কোনো সেবাদানকারী বা সেবাপ্রার্থীও নেই। সরকারি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে মুস্তাকিম জানান, কিন্তু তা পূরণ হয়নি।
অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ২৬ মে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নাগরিক সেবাকেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। তখন প্রধান উপদেষ্টা বলেছিলেন, ‘দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য কমাতে ও ভোগান্তিমুক্ত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।’ তবে নিজেদের চালু করা প্রকল্প নিজেরাই সচল রাখতে না পারায় কেন্দ্রগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
"সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন; কিন্তু দেননি। মানুষও সেবা নিতে আসেন না। তিনিও কেন্দ্রে যান না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মোহাম্মদপুর, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. মুস্তাকিম, ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৫০টি সরকারি সেবা, ৬টি কেন্দ্র
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!