📌 ঝিনাইদহের মিশন আচার্য ঠিকানা জটিলতায় সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পাননি। এসআই পদেও ঠিকানা সমস্যার কারণে বাদ পড়েছিলেন। ৪৫ বছর কলাবাগানে বসবাস করেও স্থায়ী বাসিন্দা না হওয়ায় পরিবার কষ্টে ভুগছে
ঝিনাইদহ জেলায় প্রাথমিক শিক্ষক পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও ঠিকানা জটিলতায় মিশন আচার্যের নিয়োগ আটকে গেছে। এসআই পদেও ঠিকানা যাচাইয়ে তিনি বাদ পড়েছিলেন। বর্তমানে কলাবাগানের একটি পুরোনো ভাড়া কক্ষে বসবাসকারী মিশন আচার্য ও তার পরিবার কষ্টে ভুগছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঝিনাইদহের মিশন আচার্য সহকারী শিক্ষক পদে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও ঠিকানা জটিলতায় নিয়োগ আটকে গেছে
- 📌 মিশন আচার্য ৪৫ বছর ধরে কলাবাগানে বসবাস করলেও স্থায়ী বাসিন্দা হতে পারেননি
- 📌 ঝিনাইদহ জেলায় ১৭৬ জনের মধ্যে ১৭৪ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে, মিশন আচার্য ও আর একজন নিয়োগ স্থগিত
- 📌 মিশনের নামে পণ্ডিতপুর গ্রামে দুই শতক জমি লিখে দেওয়া হলেও ঠিকানা যাচাইয়ে সমস্যা অব্যাহত
- 📌 মিশন আচার্য ঝিনাইদহ কাঞ্চননগর স্কুল থেকে এসএসসি, শিশুকুঞ্জ কলেজ থেকে এইচএসসি ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন
📰 বিস্তারিত
ঝিনাইদহ জেলার মিশন আচার্য প্রাথমিক শিক্ষক পদে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও ঠিকানা জটিলতায় নিয়োগপত্র পাননি। মিশন আচার্য জানান, তিনি আবেদন ফরমে কলাবাগানের ঠিকানা দিয়েছিলেন। কিন্তু গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে স্থায়ী ঠিকানার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে জানান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আমজাদ হোসেন।
মিশন আচার্য এর আগেও পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পদে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও ঠিকানা সমস্যার কারণে বাদ পড়েছিলেন। তার বড় ভাই শৈলেন জানান, সদর উপজেলার পণ্ডিতপুর গ্রামে তার এক খালু মিশনের নামে দুই শতক জমি লিখে দিয়েছেন। কিন্তু ঠিকানা যাচাইয়ে সমস্যা অব্যাহত রয়েছে।
ময়না আচার্য তার বৃদ্ধা মা সুবর্ণা বিশ্বাস ও ছেলে মিশনকে নিয়ে কলাবাগানের কদু মিয়ার একটি পুরোনো সেমিপাকা বাড়ির ভাড়া কক্ষে বসবাস করছেন। স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় ৪৫ বছর ধরে তারা এই এলাকায় বসবাস করছেন। অভাব-অনটনের সংসারে মানুষের বাড়িতে কাজ করে ছেলেদের বড় করেছেন ময়না আচার্য।
মিশন আচার্য বলেন, 'প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের আবেদন ফরমে বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা দুটিতেই কলাবাগানের ঠিকানা দিয়েছি। আমার সব চিঠিপত্রও এই ঠিকানায় আসে। তাহলে ভেরিফিকেশনে সমস্যা হলো কেন, বুঝতে পারছি না।' তার মা ময়না আচার্য কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'ছোট ছেলেকে খুব কষ্ট করে লেখাপড়া শিখিয়েছি। নিজের বাড়ি নেই বলে ছেলে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় টিকেও বাদ পড়ে যায়। ৪৫ বছরের বেশি সময় কলাবাগানে বসবাস করেও এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা হতে পারলাম না।'
"গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে স্থায়ী ঠিকানার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এ কারণে তার নিয়োগ আপাতত স্থগিত আছে। তবে মিশনের নামে জমির দলিলসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত পেলেই তাকে নিয়োগপত্র দেয়া হবে।"
ঝিনাইদহ জেলায় ১৭৬ জনের মধ্যে ১৭৪ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। বাকি দুজনের মধ্যে মিশন আচার্যের নিয়োগ ঠিকানা জটিলতায় এবং অন্য একজনের নিয়োগ মামলার কারণে স্থগিত রয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন মিশনকে এখনই হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঝিনাইদহ জেলা, পণ্ডিতপুর গ্রাম, কলাবাগান, কদু মিয়ার সেমিপাকা বাড়ি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিশন আচার্য, ময়না আচার্য, মো. আমজাদ হোসেন, শৈলেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৫ বছর (কলাবাগানে বসবাস), ১৭৬ জন (মোট আবেদনকারী), ১৭৪ জন (নিয়োগপ্রাপ্ত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!