📌 মিরপুরের রাড্ডা সেন্টার ধ্বংসের পর তাসনিম জারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অক্ষমতার প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, দেশব্যাপী জমি-বাড়ি দখলের ঘটনা এবং স্থানীয় নেতাদের ভূমিকা নিয়ে গভীর তদন্তের দাবি করেছেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ধ্বংসের কারণে শিশুদের টিকা সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান তিনি
মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ধ্বংসের পর চিকিৎসক ও রাজনীতিক তাসনিম জারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অক্ষমতার প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে ভাঙচুর চলার পরও পুলিশ কেন তা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। এ ঘটনার কারণে মানুষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর কীভাবে আস্থা রাখবে, সে প্রশ্ন উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 তাসনিম জারা বলেছেন, মিরপুরের রাড্ডা সেন্টার ধ্বংসের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অক্ষমতা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।
- 📌 ৫০ বছর ধরে স্বাস্থ্যসেবা দানকারী এই সেন্টার ধ্বংসের কারণে শিশুদের টিকা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
- 📌 টিকা রেজিস্টার হারিয়ে গেছে বলে জানান জারা, যার ফলে শিশুদের টিকা দেওয়ার তথ্য অজানা হয়ে পড়েছে।
- 📌 জয়পুরহাটে একজন নেতাকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও, ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় নেতাদের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের দাবি করেছেন তিনি।
- 📌 স্বাস্থ্যকর্মীদের ওয়াশরুম ও খাবারের ব্যবস্থা নেই বলে জানান জারা, যা সেবাদানের পরিবেশকে আরও কঠিন করছে।
📰 বিস্তারিত
মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শন শেষে তাসনিম জারা বলেছেন, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ধ্বংসের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অক্ষমতা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, কেন পুলিশ কত ঘণ্টা ধরে চলা ভাঙচুরকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ এবং ডিএমপি কমিশনারও স্বীকার করেছেন যে, ভাঙচুরের সময়কাল ছিল বেশ দীর্ঘ। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীরা পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটে গেছে।
তাসনিম জারা বলেছেন, এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশজুড়ে জমি, বাড়ি ও দোকান দখলের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। জয়পুরহাটে একজন নেতাকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও, তিনি বলেছেন, শুধু বহিষ্কার করলেই হবে না। ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় নেতারা কেন দখলের সুযোগ পাচ্ছেন, সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে।
তাসনিম জারা পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের কাজের পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চান। তিনি জানান, টিকা দেওয়ার রেজিস্টার খাতা ও দুটি ট্যাব হারিয়ে গেছে। এর ফলে কোন শিশুর কখন টিকা দেওয়ার কথা, সে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। আগে রেজিস্টার দেখে অভিভাবকদের ফোন করে টিকার সময় জানানো হতো, কিন্তু এখন কর্মীরা নিজেদের ফোন ব্যবহার করে যোগাযোগ করছেন। রোদে বাইরে বসে শিশুদের টিকা নিতে হচ্ছে। ভিড়ের কারণে কেউ কেউ ফিরে যাচ্ছেন। কোনো শিশুর টিকার কার্ড হারিয়ে গেলে সমস্যাটি আরও বড় হবে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তাসনিম জারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শিশুদের সর্বশেষ ও পরবর্তী টিকার তথ্য সংগ্রহ করতে হবে এবং রেজিস্টার পুনরায় তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, কোনো শিশু যেন টিকার আওতার বাইরে না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাসনিম জারা বলেছেন, কর্মীরা ওয়াশরুম ব্যবহার করতে পারছেন না এবং খাবার খাওয়ারও ব্যবস্থা নেই। তিনি দাবি করেছেন, ব্যবহারযোগ্য কক্ষগুলো দ্রুত খুলে দিয়ে সেবাদানের পরিবেশ তৈরি করা দরকার।
"পুরো ঘটনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। এটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দেশজুড়ে জমি, বাড়ি ও দোকান দখলের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় নেতাদের ভূমিকা নিয়ে গভীর তদন্তের দাবি করছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিরপুর-১, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তাসনিম জারা, স্বাস্থ্যকর্মীরা, পুলিশ, ডিএমপি কমিশনার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ বছর (সেন্টারের কার্যকাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!