📌 ঢাকার মিরপুর-১ এলাকার একটি ৫০ বছরের পুরনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের শিকার হলে পুলিশের নীরব ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেছেন ডা. তাসনিম জারা। স্বাস্থ্যকর্মীরা খোলা আকাশের নিচে শিশুদের টিকাদান চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু ভবনের অক্ষত কক্ষগুলো দ্রুত ব্যবহারযোগ্য না হওয়ায় সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে
ঢাকার মিরপুর-১ এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরব ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন স্বাস্থ্য কর্মী ডা. তাসনিম জারা। গত ৫০ বছরের ধারাবাহিক সেবা প্রদানকারী এই কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ ধ্বংসের শিকার হলেও স্বাস্থ্যকর্মীরা খোলা আকাশের নিচে শিশুদের টিকাদানসহ জরুরি স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে যাচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের শিকার হলেও পুলিশের কোনো প্রতিক্রিয়া না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি বিশ্বাস হ্রাস পেয়েছে
- 📌 খোলা আকাশের নিচে শিশুদের টিকাদান ও মাতৃস্বাস্থ্যসেবা চালু থাকলেও, ভবনের অক্ষত কক্ষগুলো দ্রুত ব্যবহারযোগ্য না হওয়ায় সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে
- 📌 টিকাদানের রেজিস্টার হারিয়ে গেছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা ব্যক্তিগত ফোন ব্যবহার করছেন, ফলে টিকা কার্ড হারিয়ে ফেলা অভিভাবকদের জন্য পরবর্তী টিকার তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে
- 📌 স্বাস্থ্যকর্মীদের পানীয় জল, শৌচাগার এবং দুপুরের খাবারের মতো ন্যূনতম সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, যা মানবেতর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে
- 📌 ডা. তাসনিম জারা দাবি করেছেন, প্রশাসন দ্রুত অক্ষত কক্ষগুলো ব্যবহারযোগ্য করে তোলা এবং টিকাদানের নতুন রেজিস্টার তৈরি করতে হবে
📰 বিস্তারিত
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় অবস্থিত ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করে ডা. তাসনিম জারা সাংবাদিকদের বলেছেন, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি এলাকার প্রসূতি মা, গর্ভবতী নারী এবং শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা ও টিকাদান সেবা প্রদান করে আসছিল। ভাঙচুরের পরেও মায়েরা রোদের কষ্ট সহ্য করে সন্তানদের টিকাদানের জন্য নিয়ে আসছেন, যা এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের গভীর আস্থার প্রমাণ দেয়।
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এত দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে তাণ্ডব চালানো সত্ত্বেও পুলিশ কেন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি উল্লেখ করেছেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে প্রশ্ন করা দরকার যে, এত দীর্ঘ সময় ধরে ঘটনাটি চলার পরও পুলিশ কেন ঘটনা ঠেকাতে পারল না। তিনি বলেছেন, এমন নীরব ভূমিকার কারণে সাধারণ মানুষ কীভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নিরাপদ বোধ করবে, সে বিষয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন।
ডা. তাসনিম জারা আরও বলেছেন, এই ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা হিসেবে দেখতে পারবেন না। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি, ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের খবর পাওয়া যাচ্ছে এবং এসব অপকর্মের সাথে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠছে। তিনি বলেছেন, পটপরিবর্তনের পর কেন মাঠপর্যায়ে এভাবে দখলদারিত্বের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।
তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ক্ষতির কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এই তাণ্ডবে শিশুদের গুরুত্বপূর্ণ টিকাদান রেজিস্টার খাতা, দুটি ল্যাপটপ বা ট্যাব এবং দাপ্তরিক ফোন হারিয়ে গেছে। এর ফলে টিকা কার্ড হারিয়ে ফেলা অভিভাবকদের জন্য পরবর্তী টিকার তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা এখন বাধ্য হয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত ফোন ব্যবহার করছেন, যা টিকাদান কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে।
তিনি আরও বলেছেন, আগে শিশুরা ছায়াযুক্ত ঘরে বসে সুশৃঙ্খলভাবে টিকা পেত, কিন্তু এখন কড়া রোদের মধ্যে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তির কারণে অনেক মা-বাবা টিকা না দিয়েই সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। প্রসূতি ও গর্ভবতী নারীদের জন্য আল্ট্রাসনোগ্রাফি, শারীরিক চেকআপ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শের মতো সেবাগুলো পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
"এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বহু বছর ধরে এলাকার প্রসূতি মা, গর্ভবতী নারী এবং শিশুদের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা ও টিকাদান সেবা প্রদান করে আসছে। ভাঙচুরের পরও মায়েরা যেভাবে রোদের কষ্ট সহ্য করে সন্তানদের টিকাদানের জন্য নিয়ে আসছেন, তা এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের গভীর আস্থার প্রমাণ দেয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিরপুর-১, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. তাসনিম জারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ বছর (স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ইতিহাস), ২৭ সেপ্টেম্বর (ঘটনার তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!