📌 মিরপুরের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর ও লুটপাটের পর সড়কে ত্রিপল টানিয়ে শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। ভোগান্তিতে পড়ছে মায়েরা ও শিশুরা। স্বাস্থ্যকর্মীরা সীমিত পরিসরে টিকাদান চালিয়ে যাচ্ছেন
মিরপুরের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর ও লুটপাটের পর সড়কে ত্রিপল টানিয়ে শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনায় ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া সেন্টারটির মূল ফটকের বাইরে অস্থায়ীভাবে টিকাদান শুরু হয়েছে। এতে শিশু ও তাদের মায়েরা গরমে ভোগান্তিতে পড়ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মিরপুর-১ নম্বর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুরের পর সড়কে ত্রিপল টানিয়ে শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে
- 📌 সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বলেছেন, টিকাদান চলছে, কিন্তু অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা সীমিত হয়ে পড়েছে
- 📌 সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া টিকাদান কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত ১০ জনের বেশি শিশু টিকা নেয়েছে, দিনভর ১০০ শিশু আসার আশা
- 📌 মায়েরা বলেছেন, আগে ঘরের ভেতরে টিকা দেওয়া হতো, এবার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে
- 📌 গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় মুখোশ পরা দুই শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেন্টারে ঢুকে লুটপাট ও ভাঙচুর করে গেছে
📰 বিস্তারিত
মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুরের পর সড়কের পাশে ত্রিপল টানিয়ে অস্থায়ীভাবে শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেন্টারের মূল ফটকের বাইরে খোলা জায়গায় টেবিল-চেয়ার বসিয়ে অস্থায়ী টিকাদানকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে কেউ চেয়ারে বসে অপেক্ষা করছেন, কেউ দাঁড়িয়ে আছেন। গরমে শিশুদের অস্বস্তিতে পড়তে দেখা যাচ্ছে।
সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘আজ থেকে হাম টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সেন্টারটি ভেঙে দেওয়ায় ফাঁকা জায়গায় ত্রিপল টানিয়ে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশপাশের লোকজনও সহযোগিতা করছেন।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘আমাদের এখানে অনেক শিশু আসবে। সে জন্য ফাঁকা জায়গাতেই আমরা অস্থায়ীভাবে ব্যবস্থা করেছি। টিকাদান কার্যক্রম চলছে। তবে অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা আপাতত আগের মতো দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
স্বাস্থ্যকর্মীদের দলে চারজন চিকিৎসক এবং নার্স, প্যারামেডিকসহ প্রায় ১৫ জন কর্মী রয়েছে। তারা টিকাদান চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু অন্যান্য চিকিৎসাসেবা সীমিত হয়ে পড়েছে। কিছু রোগীকে শুধু প্রেসক্রিপশন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। সকাল থেকে ১০ জনের বেশি শিশু সেখানে টিকা নিতে এসেছে। দিনভর প্রায় ১০০ শিশু টিকা নিতে আসার আশা করছেন তারা।
মিরপুরের বাসিন্দা আফসানা আক্তার তাঁর ১৫ মাস বয়সী ছেলেকে নিয়ে টিকা দিতে এসেছেন। তিনি বলেছেন, ‘একটু অবাক হয়ে গেছি। আগে সেন্টারের ভেতরে বসেই টিকা দিতে পারতেন। এবার বাইরে এসে টিকা দিতে হচ্ছে। আমি রাতে ময়মনসিংহ থেকে এসেছি। আমার স্বামী সেখানে চাকরি করেন, আমরা সেখানেই থাকি। কাল রাতে ঢাকায় বাবার বাসায় এসেছি, আজ ছেলেকে এখানে টিকা দিতে নিয়ে এসেছি।’ অন্য একজন মা আয়েশা বেগম তাঁর তিন মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে টিকা দিতে এসেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আগেরবার ঘরের ভেতরেই টিকা দিতে পেরেছিলেন। এবার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ভালো লাগছে না। বাচ্চার কষ্ট হচ্ছে, গরম লাগছে, কান্নাকাটি করছে।’
নাসরিন আখতার আরও বলেছেন, যাঁরা আগে থেকে পরিস্থিতি জানেন না, তাঁরা সেবা নিতে এসে অবাক হয়ে যাচ্ছেন। কেউ টিকা দিতে, কেউ আলট্রাসনোগ্রামসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসছেন। কিন্তু সবকিছু ভেঙে দেওয়া ও লুট করে নিয়ে যাওয়ায় সেবা নিতে আসা লোকজনকে আশপাশের অন্য কেন্দ্রে যেতে বলা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, ‘মানুষ এলাকার মধ্যেই সেবা পেতে চায়। কিন্তু এখানে আমরা এখন আমাদের সাধ্যমতো শুধু টিকার কাজটা চালিয়ে যাচ্ছি।’
"আমাদের এখানে অনেক শিশু আসবে। সে জন্য ফাঁকা জায়গাতেই আমরা অস্থায়ীভাবে ব্যবস্থা করেছি। টিকাদান কার্যক্রম চলছে। তবে অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা আপাতত আগের মতো দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিরপুর-১, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাসরিন আখতার (নির্বাহী পরিচালক), আফসানা আক্তার, আয়েশা বেগম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০+ শিশু (আশা), ১৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী, ১৫ মাস (ছেলের বয়স), ৩ মাস (মেয়ের বয়স), ১২ টা (ঘটনার সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!