📌 গত পাঁচ মাসে হাম ও এর উপসর্গে নয় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার বেশিরভাগই শিশু। বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির পরেও মৃত্যুহার বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা টিকাদান ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের ঘাটতিকে দায়ী করেছেন
দেশে গত পাঁচ মাসে হাম ও এর উপসর্গে নয় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের অধিকাংশই শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৯১৮ জনের, যার মধ্যে হামে মৃত্যু ৯৯ জন এবং হামের উপসর্গে মৃত্যু ৮১৯ জন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গত পাঁচ মাসে হাম ও এর উপসর্গে নয় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার বেশিরভাগই শিশু
- 📌 বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির পরেও মৃত্যুহার বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা দিয়েছে
- 📌 গত ৬ জুলাই থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে ১০৬ শতাংশ
- 📌 হাম-রুবেলা নির্মূলবিষয়ক ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান টিকাদান ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের ঘাটতিকে দায়ী করেছেন
📰 বিস্তারিত
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে হামের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ শুরু হয়। গত ৬ জুলাই পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গের রোগী ছিল ১ লাখ ৬ হাজার ৫৬৫ জন, যার মধ্যে হাম রোগী ছিল ১২ হাজার ৭৯১ জন। গতকাল পর্যন্ত মোট উপসর্গের রোগী দাঁড়ায় ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৮০ জন এবং নিশ্চিত হামের রোগী ১৭ হাজার ৯৮৯ জন।
গত ৬ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মৃত্যু ছিল ১৭ জনের। পরের সপ্তাহে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩০ জনে, তারপর ৩২ জনে। ২৭ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত মৃত্যু কমলেও পরের দুই সপ্তাহে আবার বেড়ে যথাক্রমে ২৯ ও ৩৫ জনে পৌঁছায়। অর্থাৎ ৬ থেকে ১২ জুলাইয়ের তুলনায় ১০ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে ১০৬ শতাংশ।
হাম-রুবেলা নির্মূলবিষয়ক ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কমিটির চেয়ারম্যান ও আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘সরকার পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের টিকাদানের আওতায় আনলেও ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যেও হাম হচ্ছে। আবার ছয় মাসের বেশি বয়সী সব শিশু টিকার আওতায় আসেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সংক্রমণ যদি বন্ধ না হয়, নতুন রোগী হবে। হামের স্বাভাবিক জটিলতা হিসেবে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।’
‘টিকাদানের পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত শনাক্ত করে আলাদা রাখা এবং কমিউনিটি পর্যায়ে সংক্রমণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।’ — অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান
গত ৫ এপ্রিল থেকে হামের প্রাদুর্ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলা ও পৌরসভায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। পরে তা চার সিটি করপোরেশন এবং সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হয়। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১ কোটি ৯৩ লাখ ৯০ হাজারের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: মৃত্যু ৯১৮ জন, উপসর্গের রোগী ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৮০ জন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!