📌 বাংলাদেশে মৎস্য খাতে প্রায় দুই কোটি শ্রমিকের জীবন ও কর্মসূত্রে মারাত্মক সংকট। আইনি সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে জাতীয় সংলাপে
বাংলাদেশের মৎস্য খাতে প্রায় দুই কোটি শ্রমিকের জীবন ও কর্মসূত্রে মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। এই বিশাল শ্রমিকশ্রেণীর মধ্যে প্রায় ১৪ লক্ষ নারীসহ সকলেই জীবিকার নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষার অভাবের কারণে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের মূলস্রোতে পিছিয়ে পড়ছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় সংলাপে’ এই বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশে মৎস্য খাতে প্রায় দুই কোটি শ্রমিকের মধ্যে ১৪ লক্ষ নারীসহ সকলেই কর্মসূত্রে আইনি সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত
- 📌 মৎস্য শ্রমিকদের কর্মসংস্থান অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে পরিচালিত হওয়ায় শ্রম আইনের লঙ্ঘন ব্যাপক
- 📌 মৎস্য খাতে শ্রমিকদের জন্য কোনো নিয়োগপত্র, কর্মঘণ্টা বা ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) নেই
- 📌 মৎস্য শ্রমিকদের জন্য পৃথক নীতি প্রণয়ন, সায়েন্টিফিক সময় পুনর্মূল্যায়ন ও নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে
- 📌 মৎস্য শ্রমিকদের জন্য আইনি স্বীকৃতি, সামাজিক নিরাপত্তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) ও ফ্রেডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুং (এফইএস) যৌথভাবে আয়োজিত এই সংলাপে মৎস্য খাতের শ্রমিকদের অবস্থার বিশদ আলোচনা করা হয়। বিলসের সিনিয়র কর্মকর্তা রেজোয়ানুল হক আজম বলেন, মৎস্য খাতে কর্মরত শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এখনো অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে শ্রম অধিকারের ব্যাপক লঙ্ঘন ঘটছে। তিনি উল্লেখ করেন, চিংড়ি ও ট্রলার ইন্ডাস্ট্রি ছাড়া অন্য কোনো সেক্টরে শ্রমিকদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো মজুরি কাঠামো নেই। অধিকাংশ শ্রমিকই শ্রম আইন ও শ্রম পরিদর্শনের বাইরে অবস্থান করছেন।
বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ মৎস্যজীবীদের সমস্যা বহুমাত্রিক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘লবণাক্ত পানিতে নারী শ্রমিকদের কাজ করা, অবরোধকালীন উপার্জন বন্ধ থাকা এবং পেটের দায়ে মাছ ধরতে গিয়ে জেলেদের জেল-জরিমানা হওয়া’ এসব বিষয় অত্যন্ত অমানবিক। তিনি মৎস্যজীবীদের জন্য সায়েন্টিফিক সময় পুনর্মূল্যায়ন, হাওর ও নদী জেলেদের জন্য পৃথক নীতি প্রণয়নের দাবি জানান।
সংলাপে মৎস্য শ্রমিকদের সুরক্ষায় নীতি ও আইন প্রণয়নের সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। সুপারিশের মধ্যে রয়েছে আইনগত স্বীকৃতি, সকল মৎস্য শ্রমিককে শ্রম আইনের আওতায় আনা এবং ‘মৎস্য শ্রমিক’ হিসেবে সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা ও পরিচয় নিশ্চিত করা। স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সামাজিক নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ, ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও আইনি অধিকার, বিকল্প কর্মসংস্থান ও আবাসন নিশ্চিতকরণের বিষয়গুলোও আলোচিত হয়।
"মৎস্যজীবীদের সমস্যা বহুমাত্রিক ও গভীর। জীবনের ঝুঁকিতে লবণাক্ত পানিতে নারী শ্রমিকদের কাজ করা, অবরোধকালীন উপার্জন বন্ধ থাকা এবং পেটের দায়ে মাছ ধরতে গিয়ে জেল-জরিমানা হওয়ার মতো বিষয়গুলো অত্যন্ত অমানবিক।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সেগুনবাগিচা, রাজধানী ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রেজোয়ানুল হক আজম, সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, নাইমুল আহসান জুয়েল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ শতাংশ (১২%), ১৪ লক্ষ নারীসহ, প্রায় দুই কোটি শ্রমিক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!