📌 টিকটিকি সরীসৃপ হলেও ডাইনোসরের মতো নয়। বিবর্তনের ধারায় টিকটিকিরা প্রায় ২৬ কোটি বছর ধরে টিকে আছে। এদের শারীরিক গঠন, চলাফেরা ও খাদ্যাভ্যাসে রয়েছে বিস্ময়কর বৈচিত্র্য। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, টিকটিকিরা কীভাবে ডাইনোসরের বিলুপ্তির পরেও নিজেদের অস্তিত্ব ধরে রেখেছে।
টিকটিকি সরীসৃপ হলেও ডাইনোসরের মতো নয়। বিজ্ঞানীদের মতে, টিকটিকিরা স্কোয়ামাটা বর্গের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে সাপও রয়েছে। নিউইয়র্কের আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, টিকটিকির পা পাশের দিকে ছড়ানো থাকে এবং এরা পাশাপাশি হেলেদুলে চলাফেরা করে। অন্যদিকে ডাইনোসরের পা শরীরের ঠিক নিচে সোজাভাবে থাকত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 টিকটিকিরা স্কোয়ামাটা বর্গের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে সাপও রয়েছে
- 📌 টিকটিকির পা পাশের দিকে ছড়ানো থাকে, ডাইনোসরের পা সোজাভাবে থাকে
- 📌 টিকটিকিরা প্রায় ২৬ কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে টিকে আছে
- 📌 টিকটিকির বিবর্তনের হার অনুযায়ী তাদের উৎপত্তি ঘটেছিল পার্মিয়ান যুগের শেষের দিকে
- 📌 বিশ্বের বৃহত্তম টিকটিকি প্রজাতি কোমোডো ড্রাগনের গড় ওজন ৭০ কিলোগ্রাম
- 📌 ক্ষুদ্রতম টিকটিকি প্রজাতি ব্রুফেসিয়া নানার পুরুষ সদস্যরা মাত্র শূন্য দশমিক ৫ ইঞ্চি লম্বা
- 📌 টিকটিকিরা শীতল রক্তের প্রাণী এবং পরিবেশের ওপর নির্ভর করে শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখে
- 📌 কোমোডো ড্রাগন একবারে নিজের ওজনের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত খাবার খেতে পারে
📰 বিস্তারিত
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার প্রজাতির টিকটিকি বসবাস করছে। প্রতিটি প্রজাতির নিজস্ব শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। কিছু প্রজাতির দেহে রয়েছে ছাতাসদৃশ ঝালর, কিছুর মাথায় শিং, আবার কিছুর ডানা। বেশির ভাগের চার পা থাকলেও কিছু প্রজাতি দুই পায়ে ভর দিয়ে চলে। আবার কিছু প্রজাতির কোনো পা–ই নেই। বিজ্ঞানীদের মতে, টিকটিকি কেবল একটি একক বৈজ্ঞানিক গোষ্ঠীকে নির্দেশ করে না।
ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানের গবেষক অ্যালিস্যান্ড্রো পালচি বলেন, টিকটিকির বিবর্তনের হারের নতুন হিসাবের ওপর ভিত্তি করে প্রায় ২৬ কোটি বছর আগে পার্মিয়ান যুগের শেষের দিকে এই সরীসৃপগুলোর উৎপত্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। ইন্টিগ্রেটেড ট্যাক্সোনমিক ইনফরমেশন সিস্টেম (আইটিআইএস) অনুযায়ী, স্কোয়ামাটা বর্গের মধ্যে গ্যাকো, ইগুয়ানা, ওয়ার্ম লিজার্ডের মতো বেশ কয়েকটি উপগোষ্ঠী রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার কোমোডো ড্রাগন বিশ্বের বৃহত্তম ও ভারী টিকটিকি প্রজাতি। এদের গড় ওজন ৭০ কিলোগ্রাম। রেকর্ডে থাকা সবচেয়ে বড় কোমোডো ড্রাগনটির দৈর্ঘ্য ছিল ১০ দশমিক ৩ ফুট। অন্যদিকে বিশ্বের ক্ষুদ্রতম টিকটিকি হিসেবে ব্রুফেসিয়া নানা নামের একটি গিরগিটিকে বিবেচনা করা হয়। এর পুরুষ সদস্যরা মাত্র শূন্য দশমিক ৫ ইঞ্চি লম্বা হয়।
"টিকটিকিরা শতকোটি বছর ধরে পৃথিবীতে টিকে আছে। ৬৬ মিলিয়ন বছর আগে গ্রহাণুর আঘাতে ডাইনোসর বিলুপ্ত হলেও এরা বেঁচে যায়। প্রায় ২৬০ মিলিয়ন বছর আগে পার্মিয়ান যুগের শেষের দিকে এদের উৎপত্তি ঘটেছিল।"
টিকটিকিরা শীতল রক্তের প্রাণী। পরিবেশের ওপর নির্ভর করে এরা শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখে। কোমোডো ড্রাগন একবারে নিজের ওজনের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত খাবার খেতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার সেন্ট্রাল বিয়ার্ডেড ড্রাগন ফলমূল ও পোকামাকড় উভয়ই খায়। অন্যদিকে সামুদ্রিক ইগুয়ানা মূলত সামুদ্রিক শৈবাল খেয়ে বেঁচে থাকে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অ্যালিস্যান্ড্রো পালচি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬ কোটি বছর, ৬৬ মিলিয়ন বছর, ২৬০ মিলিয়ন বছর, ৭০ কিলোগ্রাম, ১০ দশমিক ৩ ফুট, শূন্য দশমিক ৫ ইঞ্চি, ৮০ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!