📌 লালমনিরহাটের পুরান বাজারে একই আঙিনায় শতবর্ষ ধরে মসজিদ ও মন্দিরের সহাবস্থান চলছে। ধর্মীয় সহনশীলতার এই অনন্য উদাহরণে মুসলমান ও হিন্দু উভয় সম্প্রদায়ই নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছে। জেলা প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী পূজা উদযাপনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে
লালমনিরহাটের পুরান বাজারে শতবর্ষের ঐতিহ্য বজায় রেখেছে একই আঙিনায় অবস্থিত জামে মসজিদ ও কালীবাড়ী মন্দির। এই অনন্য ধর্মীয় সহাবস্থান মুসলমান ও হিন্দু উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৮৩৬ সালে নেছারাম নামে এক মারওয়াড়ি ব্যবসায়ী কালীবাড়ী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ১৯১৫ সালের দিকে মুসলমানরা মন্দিরের পাশে নামাজ আদায়ের জন্য একটি ওয়াক্তিয়া মসজিদ নির্মাণ করেন, যা পরবর্তীকালে পুরান বাজার জামে মসজিদ নামে পরিচিতি লাভ করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৮৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কালীবাড়ী মন্দিরের পাশে ১৯১৫ সালে নির্মিত জামে মসজিদ — এখনো একই আঙিনায় অবস্থান করছে
- 📌 মন্দিরের জন্য ৮ শতাংশ জমি, মসজিদের জন্য ৫ শতাংশ জমি — দুটি প্রতিষ্ঠানের জমি আলাদা হলেও একই প্রাঙ্গণে অবস্থিত
- 📌 নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোল বন্ধ রাখা হয়, পূজার সময় মসজিদের উলুধ্বনি বন্ধ থাকে — পারস্পরিক শ্রদ্ধা প্রদর্শনের অংশ
- 📌 লালমনিরহাটে ৪৭৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, জেলা প্রশাসন প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি চাল বরাদ্দ করেছে
- 📌 বিজিবির ১৫ জন সদস্য সহ নিরাপত্তা বাহিনী পূজা উদযাপনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে
📰 বিস্তারিত
লালমনিরহাটের পুরান বাজারের এই মসজিদ-মন্দিরের সহাবস্থান ধর্মীয় সহনশীলতার একটি বিরল উদাহরণ। জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেছেন, ইসলাম ধর্মের মূল্যবোধ হলো অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসকে সম্মান করা। এখানে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা পূজা-অর্চনা করেন। নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোল বন্ধ থাকে, আর পূজার সময় মসজিদের উলুধ্বনি বন্ধ রাখা হয়। এই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার বন্ধন শতবর্ষ ধরে টিকে আছে।
কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী মন্দির কমিটির সভাপতি ও পুরোহিত শংকর চক্রবর্তী জানান, প্রতিবছর পূজার সময় মসজিদ ও মন্দিরের নেতারা একসাথে বসে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোল বন্ধ রাখা হয় এবং নামাজ শেষ হলে আবার পূজা-অর্চনা শুরু হয়। এই সহাবস্থান দীর্ঘদিন ধরে চললেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
পূজামণ্ডপগুলোর উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার জন্য জেলা প্রশাসন ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি চাল বরাদ্দ করেছে। এ বছর লালমনিরহাটে মোট ৪৭৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যার মধ্যে সদর উপজেলায় ১৬২টি, আদিতমারীতে ১১৭টি, কালীগঞ্জে ৯৯টি, হাতীবান্ধায় ৭৩টি এবং পাটগ্রামে ৩১টি মণ্ডপ রয়েছে। জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান বলেছেন, ঐতিহ্যবাহী সম্প্রীতির পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে।
"ইসলাম ধর্মের সৌন্দর্য হলো অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাস ও উপাসনার প্রতি সম্মান দেখানো। এখানে সবাই নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করেন।"
"বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ। বিশ্বজুড়েই এমন দৃষ্টান্ত বিরল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পুরান বাজার, লালমনিরহাট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইমাম মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল আজাদ, পুরোহিত শংকর চক্রবর্তী, জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এ এফ এম জুলকার নাঈন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮৩৬ (মন্দির প্রতিষ্ঠা), ১৯১৫ (মসজিদ নির্মাণ), ১৫ (বিজিবির সদস্য), ৪৭৬ (পূজামণ্ডপ), ৬০০ (কেজি চাল প্রতিটি মণ্ডপে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!