📌 কুড়িগ্রাম সদরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বদলিতে নীতিমালা লঙ্ঘন ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। ১২ শিক্ষকের মধ্যে ৮ জনের বদলিতে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, আবেদন না করেও বদলি পাওয়ার মতো অপব্যবহার ঘটেছে। শিক্ষক নেতারা অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় বিএনপির নেতারা অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বদলি বাণিজ্য করেছেন
কুড়িগ্রাম সদরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের আন্তউপজেলা বদলিতে নীতিমালা লঙ্ঘন, রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। বদলি-সংক্রান্ত নথি ও আদেশ যাচাই করে ১২ শিক্ষকের মধ্যে ৮ জনের বদলিতে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার ১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদে বদলির জন্য ৪৩ জন শিক্ষক আবেদন করেছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪৩ জন শিক্ষকের মধ্যে ১২ জনের বদলি আদেশে ৮ জনের ক্ষেত্রে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, আবেদন না করেও বদলি পাওয়ার মতো অপব্যবহার ঘটেছে
- 📌 বাশিরুল মুমিন খন্দকারকে (দ্বিতীয় ক্রম) দুজনের, রোখসানা পারভীনকে (তৃতীয় ক্রম) তিনজনের, পাপড়ী রানীকে (চতুর্থ ক্রম) ছয়জনের এবং ফরিদা বেগমকে (অষ্টম ক্রম) ১০ জনের জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে বদলি দেওয়া হয়েছে
- 📌 ১০ নম্বর ক্রমে থাকা আব্দুর রহিমকে শূন্য পদ না থাকা পাঁচগাছি আশরাফিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে, যেখানে তার পছন্দক্রমেও বিদ্যালয়টির নাম ছিল না
- 📌 ১২ নম্বরে থাকা মাহমুদা আক্তার কোনো আবেদনই করেননি, কিন্তু বদলির তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে
- 📌 মনিরা আক্তারের চাকরি ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হলেও বদলির তালিকায় তাঁকে ২০১০ সালে যোগদান দেখানো হয়েছে
- 📌 শিক্ষক নেতাদের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপির নেতারা লক্ষাধিক টাকার বিনিময়ে বদলি বাণিজ্য করেছেন এবং প্রকৃত দাবিদার শিক্ষকদের বঞ্চিত করা হয়েছে
- 📌 উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান শিক্ষা অফিসে গিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাকে চাপ দিয়ে বদলির তালিকা পরিবর্তন করতে বাধ্য করার অভিযোগে স্বীকার করেননি
- 📌 উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু বকর সিদ্দিক স্বীকার করেছেন, ‘আমাকে তালিকা দিয়ে স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছে। আমি স্বাক্ষর করেছি’
📰 বিস্তারিত
সদর উপজেলার ১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদে বদলির জন্য ৪৩ জন শিক্ষক আবেদন করেছিলেন। আবেদনের শেষ সময় ছিল গত মঙ্গলবার দুপুর ১২টা। পরে ‘উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তিকরণবিষয়ক কমিটি’ গতকাল বুধবার ১২ শিক্ষকের বদলির আদেশ জারি করে। কমিটির সভাপতি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সদস্যসচিব ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
নথি যাচাইয়ে দেখা গেছে, চার শিক্ষককে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে বদলি করা হয়েছে। আবেদন না করেও বদলির সুযোগ পেয়েছেন একজন। আরেকজনকে এমন বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে, যেখানে শূন্য পদ নেই এবং তাঁর পছন্দক্রমেও বিদ্যালয়টির নাম ছিল না। এ ছাড়া পাঁচজন বা তার কম শিক্ষক কর্মরত থাকা বিদ্যালয় থেকে বদলি না করার নীতিমালাও লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।
বদলির তালিকায় দ্বিতীয় ক্রমে থাকা বাশিরুল মুমিন খন্দকারকে দুজনের জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে, তৃতীয় ক্রমের রোখসানা পারভীনকে তিনজনের, চতুর্থ ক্রমের পাপড়ী রানীকে ছয়জনের এবং অষ্টম ক্রমের ফরিদা বেগমকে ১০ জনের জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে বদলি দেওয়া হয়েছে বলে নথিতে দেখা গেছে।
শিক্ষক নেতাদের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা লক্ষাধিক টাকার বিনিময়ে বদলি বাণিজ্য করেছেন। তাঁদের চাপ বা প্রভাবে নীতিমালা উপেক্ষা করে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রকৃত দাবিদার শিক্ষকেরা বঞ্চিত হয়েছেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বেলগাছা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান গতকাল বুধবার দুপুরে লোকজন নিয়ে শিক্ষা অফিসে যান এবং শিক্ষা কর্মকর্তাকে চাপ দিয়ে বদলির তালিকা পরিবর্তন করতে বাধ্য করেন।
মাহবুবুর রহমান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি অফিসে গিয়ে ইউএনও এবং শিক্ষা অফিসারকে ধন্যবাদ দিয়ে এসেছি। আমি কোনো চাপ প্রয়োগ করিনি। যারা অভিযোগ তুলেছেন, তাঁরা সঠিক বলেননি।’ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু বকর সিদ্দিক বদলিতে অনিয়মের অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, ‘আমি অসহায়। বাধ্য হয়েছি। যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা আমি অস্বীকার করছি না। আমাকে তালিকা দিয়ে স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছে। আমি স্বাক্ষর করেছি। কে বা কারা চাপ দিয়েছে, তা বলতে পারব না।’
"আমি চাই এই বদলি আদেশ বাতিল হোক। শিক্ষকদের ভালো করে চিনি না। টাকা নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমি চেয়েছি নীতিমালা অনুযায়ী হোক, শিক্ষকেরা ন্যায্য সুবিধা পাক। কিন্তু চাপ ও দুর্নাম নিতে পারছি না।"
ইউএনও মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘তেমন রাজনৈতিক চাপ নয়, কিছু সুপারিশ ছিল। বড় ধরনের কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে বদলি আদেশ বাতিল করা হবে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আবু বকর সিদ্দিক (উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা), মাহবুবুর রহমান (বিএনপি আহ্বায়ক), বাশিরুল মুমিন খন্দকার, রোখসানা পারভীন, পাপড়ী রানী, ফরিদা বেগম, মাহমুদা আক্তার, মনিরা আক্তার, আব্দুর রহিম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ জনের বদলিতে অনিয়ম, ১২ জনের বদলি আদেশ, ৪৩ জন আবেদনকারী, ১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১০ জনের জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!