📌 কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবিতে মৌন মিছিলে অংশ নেয়। চার দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছেন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শিক্ষার্থীরা অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবিতে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মৌন মিছিলে অংশ নেন। এই কর্মসূচি ছিল তাদের তৃতীয় দিনের আন্দোলন। শিক্ষার্থীরা কালো ব্যাজ ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ফ্যাকাল্টির সামনে এক মিনিট নীরবতা পালন করে মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বর হয়ে আইন অনুষদ প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২২ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে মৌন মিছিলে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা
- 📌 চার দফা দাবি: ৬০ দিনের মধ্যে বিচার ও ফাঁসি কার্যকর, পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার, স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি ও রেসপন্স ইউনিট গঠন
- 📌 শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন: দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন
- 📌 ফারহা খানম বলেন, "প্রশাসনের কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি"
- 📌 মোহাম্মদ রাব্বানী ডিএনএ পরীক্ষা ও আসামিদের বয়স নিশ্চিত করার দাবি জানান
- 📌 ২০-২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিন ধরে চলছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন
📰 বিস্তারিত
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মৌন মিছিলের মাধ্যমে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবি জানান। তারা চার দফা দাবি তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে: অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করে ৬০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন ও ফাঁসির রায় কার্যকর করা; কুমিল্লার পুলিশ সুপার, আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করা; বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি প্রতিষ্ঠা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় তাৎক্ষণিক রেসপন্স ইউনিট গঠন করা।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ফারহা খানম বলেন, “এত দিন আমরা বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করেছি। আজকের কর্মসূচি মূলত শোক প্রকাশ ও প্রতিবাদের মৌন ভাষা হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আমাদের চার দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে আমরা আবারও দাঁড়িয়েছি। ঘটনার প্রথম দিন থেকেই দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চাওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। তাই চার দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য আমরা কর্মসূচি পালন করছি।”
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফ ভূইয়া বলেন, “অপ্রতিমের অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আমরা রাজপথে আছি। মরদেহ উদ্ধারের পর বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। চার দফা দাবি জানালেও প্রশাসনের উচ্চ মহল থেকে কোনো সাড়া পাইনি। আজকের মৌন মিছিলের মাধ্যমে জানাতে চাই, আমরা আন্দোলন থেকে সরে যাইনি। চার দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করতে হবে।”
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাব্বানী বলেন, “আমরা প্রথম দিন থেকেই পুলিশের উদাসীনতা দেখতে পাচ্ছি। অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁকে হত্যা করা হলো, আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে; কিন্তু এখনো বিচার নিশ্চিত হয়নি। আসামিদের বয়স নিয়ে কোনো অনিয়ম বা অসঙ্গতি আছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখা দরকার। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক বয়স নির্ধারণ করে উপযুক্ত শাস্তি ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই।”
এই কর্মসূচি ছিল শিক্ষার্থীদের তৃতীয় দিনের আন্দোলন। এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল এবং রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল। গ্রেপ্তার এড়াতে মোতালেব হাসপাতালের দ্বিতীয় তলা থেকে মাটিতে লাফ দেন। সেখানে থাকা পুলিশ সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ধরে ফেলেন। পরে মোতালেবকে হাসপাতালে রেখে পুলিশ চলে যায়।
"আমরা প্রথম দিন থেকেই পুলিশের উদাসীনতা দেখতে পাচ্ছি। আসামিদের বয়স নিয়ে কোনো অনিয়ম থাকলে তা খতিয়ে দেখা দরকার। ডিএনএ পরীক্ষা করে সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।"
"প্রশাসনের উচ্চ মহল থেকে কোনো সাড়া পাইনি। চার দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফারহা খানম, মোহাম্মদ রাব্বানী, আরাফ ভূইয়া, শিক্ষার্থীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ সেপ্টেম্বর, ৬০ দিন, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!