📌 কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ৩ লাখেরও বেশি ভক্তের উপস্থিতিতে ৪৫ মিনিটে ৩৮০টি দেবী দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং সম্প্রীতির শহর কক্সবাজারের পরিচয় আরও মজবুত হয়
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে বুধবার দুর্গা পূজার শেষ দিনে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জনের অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে ৩৮০টি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। বিকেল পাঁচটা নবম মিনিটে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানটি ৪৫ মিনিটের মধ্যে সম্পন্ন হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ৩ লাখেরও বেশি ভক্তের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় দেবী দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন
- 📌 ৪৫ মিনিটে ৩৮০টি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়, যা বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান
- 📌 ৩২৪টি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয় দুর্গাপূজা, যার মধ্যে ১৫৫টি মণ্ডপে প্রতিমাপূজা ও ১৬৯টিতে ঘটপূজা
- 📌 চকরিয়া উপজেলায় সর্বাধিক ৭১টি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয় দুর্গাপূজা
- 📌 অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন
- 📌 চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি
📰 বিস্তারিত
বেলা দুইটা থেকে শুরু হয়ে বিকেল চারটার দিকে মঞ্চের সামনে বিশাল বালুচরে প্রতিমাগুলো ভরে ওঠে। প্রতিমা ঘিরে ভক্তরা শেষ মুহূর্তের পূজা-অর্চনা এবং দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর জন্য ব্যস্ত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদয় শংকর পাল। তিনি প্রথম আলোকে জানান, গত বছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণভাবে বিসর্জন উৎসব সম্পন্ন হয়েছে।
বিকেল পাঁচটা নবম মিনিটে শহরের প্রাচীন সরস্বতীবাড়ি মন্দিরের পুরোহিত রানা ভট্টাচার্য মন্ত্রপাঠ করেন। এরপর বিকেল পাঁচটা নবম মিনিটে শুরু হয় বঙ্গোপসাগরে প্রতিমা বিসর্জন। ৪৫ মিনিটের মধ্যে একে একে ৩৮০টি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।
দেবী দুর্গার বিদায়বেলায় বিষাদের ছায়া ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু ভক্তরা একে অপরের কপালে সিঁদুর পরিয়ে দেবীর বিদায় জানান। শহরের বৈদ্যঘোনার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ পাল বলেন, দেবীর বিদায়ে মন খারাপ হলেও উৎসবের আনন্দ সবাই ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, কক্সবাজারকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আরও আকর্ষণীয় করার পাশাপাশি সম্প্রীতির শহর হিসেবে পরিচিতি বাড়ানোর জন্য সরকার নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে।
"দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতকে ঘিরে সরকার নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। পরিবেশ রক্ষা করে কক্সবাজারকে আরও আকর্ষণীয় করার পাশাপাশি ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কয়েক লাখ মানুষের উপস্থিতিতে এই বৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন উৎসব প্রমাণ করেছে, কক্সবাজার সম্প্রীতির শহর। যেকোনো মূল্যে এই সম্প্রীতি ধরে রাখতে হবে।"
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারের তিন সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, লুৎফর রহমান কাজল, শামীম আরা স্বপ্না, জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, পুলিশ সুপার এ এম সাজেদুর রহমান, রামকৃষ্ণ মিশন কক্সবাজারের সভাপতি ও শিক্ষাবিদ সোমেশ্বর চক্রবর্তী, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি দোলন ধর এবং দীপক শর্মা।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, লাবণী পয়েন্ট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: উদয় শংকর পাল, রানা ভট্টাচার্য, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বিশ্বজিৎ পাল, আলপনা দাশ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৮০টি প্রতিমা, ৩ লাখেরও বেশি ভক্ত, ৩২৪টি পূজামণ্ডপ, ১৫৫টি প্রতিমাপূজা, ১৬৯টি ঘটপূজা, ৭১টি পূজামণ্ডপ (চকরিয়া উপজেলা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!