📌 কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাটে বাদ্যশিল্পীদের মিলনমেলা চলছে। এই হাটে বাদ্যচুক্তি থেকে শুরু করে বাঙালি সংস্কৃতির জীবন্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে। তবে বাদকদের সুযোগ-সুবিধার অভাব ও অবকাঠামো সমস্যা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে শারদীয় দূর্গাপূজা উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নিয়েছে ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাট। এই ঐতিহাসিক হাটে বাদ্যযন্ত্রশিল্পীদের মিলনমেলা, চুক্তি সম্পাদন ও বাঙালি সংস্কৃতির জীবন্ত প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই হাটে ঢাক, ঢোল, কাঁসর, সানাই, বাঁশি, করতাল ও খঞ্জনির তালে পুরো এলাকা মুখর হয়ে উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কটিয়াদীতে ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাটে বাদ্যচুক্তি থেকে শুরু করে বাঙালি সংস্কৃতির মিলনমেলা চলছে
- 📌 এই হাটে বাদকদের দক্ষতা অনুযায়ী চুক্তিমূল্য নির্ধারিত হয় ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত
- 📌 কেরানীগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকার নবাবগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাদকদল এখানে অংশগ্রহণ করছে
- 📌 ষোড়শ শতাব্দীতে স্থানীয় রাজা নবরঙ্গ রায় এই হাটের প্রচলন করেন
- 📌 বাদকদের বিশ্রামের জন্য নির্মিত বিশ্রামাগার অসম্পূর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে
- 📌 কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেছেন, প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে
- 📌 কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন জানান, পূজামণ্ডপে ৬০০ কেজি চাল ও ৩০০টি শাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে
📰 বিস্তারিত
কটিয়াদীতে বসা এই ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাটের মূল উদ্দেশ্য হলো দুর্গাপূজার আয়োজকদের সাথে বাদকদলের চুক্তি সম্পাদন। ঢাক-ঢোলের তালে তালে হাটজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বাদকদের পরিবেশনা শুনে পূজামণ্ডপের আয়োজকরা পছন্দের দল নির্বাচন করেন। বাদকদের দক্ষতা, দলের সদস্যসংখ্যা ও পরিবেশনার মান অনুযায়ী চুক্তিমূল্য নির্ধারিত হয় ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বাদকদলগুলোর মধ্যে কেরানীগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকার নবাবগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদীসহ বিভিন্ন এলাকার শিল্পীরা অংশগ্রহণ করছেন। তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারে অনেক চুক্তি সম্পন্ন হলেও সরাসরি বাজনা শুনে পছন্দের দল বেছে নিতে এখনও হাটে আসেন অনেক আয়োজক।
স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে স্থানীয় সামন্ত রাজা নবরঙ্গ রায় সেরা ঢাকিদের খুঁজে বের করতে এই হাটের প্রচলন করেন। কথিত আছে, তিনি নিজে ঢাকিদের বাজনা শুনে সেরা দল নির্বাচন করতেন। সেই থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে আছে এই ঐতিহ্য।
দীর্ঘদিনের এই আয়োজন এখন আর শুধু পূজার বাদ্যশিল্পীদের চুক্তির স্থান নয়; এটি বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। ধর্ম-বর্ণের গণ্ডি পেরিয়ে এই হাট বাঙালির সম্প্রীতি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠেছে।
"এই ঢাকের হাট ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালির মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা উদ্যাপন পরিষদের পক্ষ থেকে বাদকদলগুলোর থাকা-খাওয়া, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে"
— কটিয়াদী পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দিলীপ সাহা
তবে বাদকদের বিশ্রামের জন্য সরকারি সহায়তায় নির্মিত বিশ্রামাগার অসম্পূর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে দূরদূরান্ত থেকে আসা বাদকদের বিশ্রাম ও অবস্থান নিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে এ হাটে আসতে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেক শিল্পী।
কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, পূজার আয়োজক ও বাদকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। হাটে পুলিশের একটি মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করছে। কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। সুশৃঙ্খল পরিবেশে হাটের কার্যক্রম সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন বলেছেন, কটিয়াদীর ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাট দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি জানান, ইতোমধ্যে জায়গাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। ঢাকিদের ব্যবহারের জন্য একটি শৌচাগার নির্মাণে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকার দেশের প্রতিটি সাংসদীয় আসনে সনাতন ধর্মাবলম্বী অসচ্ছল নারীদের জন্য ৩০০টি করে শাড়ি বরাদ্দ দিয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নবরঙ্গ রায়, দিলীপ সাহা, মো. রফিকুল ইসলাম, শামীমা আফরোজ মারলিজ, অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০০ বছর, ৪০০ বছর, ১৫ অক্টোবর, ১০ হাজার টাকা, ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৩০০টি শাড়ি, ৬০০ কেজি চাল, ১ লাখ ২০ হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!