📌 কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ২৪ শিক্ষকের সার্ভিস বই হারিয়ে গেছে। বইগুলো খুঁজে পাওয়া না গেলে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও চাকরির বিভিন্ন সুবিধা পেতে অসুবিধা হতে পারে। কর্মকর্তারা দাবি করেন, বইগুলো একটি শিক্ষকের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে
কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ২৪ জন শিক্ষকের সার্ভিস বই হারিয়ে গেছে। এই ঘটনায় শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, চাকরির সুবিধা ও অন্যান্য আর্থিক বিষয়ে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। শিক্ষকরা কর্মকর্তাদের অবহেলাকে দায়ী করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ২৪ শিক্ষকের সার্ভিস বই হারিয়ে গেছে।
- 📌 হারিয়ে যাওয়া বইয়ের মধ্যে ২০২৬ সালে একসাথে চাকরি নেওয়া শিক্ষকদের বইও রয়েছে।
- 📌 শিক্ষকরা দাবি করেন, সার্ভিস বই সংরক্ষণের দায়িত্ব শিক্ষা অফিসের।
- 📌 কর্মকর্তারা জানান, বইগুলো একটি শিক্ষকের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
- 📌 উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. মাহমুদা খাতুন বলেছেন, বইগুলো খুঁজতে কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
📰 বিস্তারিত
গত দুই মাস ধরে কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গিয়ে নিজেদের সার্ভিস বই খুঁজে পাচ্ছেন না শিক্ষকরা। সার্ভিস বই হলো সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এতে চাকরির সময় থেকে অবসর পর্যন্ত ব্যক্তিগত, পেশাগত ও আর্থিক তথ্য লিপিবদ্ধ থাকে। কর্তৃপক্ষের বাইরে অন্য কারও এই বই ব্যবহার বা সংরক্ষণের সুযোগ নেই।
গদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দীপা খাতুন বলেন, ‘আমার সার্ভিস বই পাওয়া যাচ্ছে না। চাকরির বিভিন্ন কাজে এই বই প্রয়োজন হয়। শিক্ষা অফিস কী ব্যবস্থা নেয়, তা দেখার বিষয়।’ কেশবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাদিয়া ফারজানা বলেন, ‘২০২৬ সালে একসাথে চাকরিতে যোগদান করা শিক্ষকদের সার্ভিস বই একসাথে সংরক্ষিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু এখন সেগুলো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’
পুটিমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ আলিমুজ্জান বলেন, ‘শিক্ষকদের সার্ভিস বই সংরক্ষণের দায়িত্ব শিক্ষা অফিসের। অফিসে যাঁরা দায়িত্ব পালন করেন, তাঁরাই বলতে পারবেন বইগুলো কীভাবে হারিয়ে গেল।’
"আমি জানি, শরিফ নামের একজন শিক্ষক বইগুলো বাসায় নিয়ে গেছেন বলে শুনেছি।"
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. মাহমুদা খাতুন জানান, সার্ভিস বইগুলো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, বইগুলো খুঁজতে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন জায়গায় সেগুলো খোঁজা হয়েছে। তিনি আরও জানান, হিসাব সহকারী নাসরিন সুলতানার কাছে আলমারির চাবি ছিল। পরে তিনি বদলি হয়ে নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে চলে যান।
হিসাব সহকারী নাসরিন সুলতানা বলেন, ‘গত ৩০ আগস্ট কিশোরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে বদলি হয়ে নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগ দেওয়ার সময় আমি চাবিসহ সবকিছু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছি। চাবিটি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ড. মাহমুদা খাতুনের কাছে হস্তান্তর করেছি।’
নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রবিউল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দীপা খাতুন, সাদিয়া ফারজানা, মোহাম্মদ আলিমুজ্জান, নাসরিন সুলতানা, ড. মাহমুদা খাতুন, রবিউল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ জন শিক্ষকের সার্ভিস বই হারিয়ে গেছে, ৩০ আগস্ট বদলি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!