📌 খুলনার বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলার প্রবাহমান নদী-খালের ইজারা বন্ধের দাবি জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা লোকজ ও মৈত্রী কৃষক ফেডারেশন। তারা দাবি করেছে, নদী-খালের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনে মারাত্মক ক্ষতি হবে। ২০২৩ সালে ৬০ একর আমতলা নদী ইজারা দেওয়া হলেও ২০১০ সালে নিষেধাজ্ঞা ছিল
খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলার প্রবাহমান নদী-খালের ইজারা কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লোকজ ও মৈত্রী কৃষক ফেডারেশন। তারা দাবি করেছে, এই অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য আহরণ ও গ্রামীণ অর্থনীতি নদী-খালের পানিপ্রবাহের ওপর নির্ভরশীল। প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা, ফসলের ক্ষতি, মাছের উৎপাদন হ্রাস ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের আশঙ্কা বাড়বে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৫ অক্টোবর খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বটিয়াঘাটা ও দাকোপের ১০টি প্রবাহমান নদী-খাল ইজারা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।
- 📌 ২০২৩ সালের ২ এপ্রিল প্রায় ৬০ একর আমতলা নদীকে ৬ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়, যা বর্তমানে বিতর্কিত।
- 📌 ২০১০ সালের ১ ডিসেম্বর আদালতের আদেশে ইজারা কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা ছিল, কিন্তু ২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল মামলা প্রত্যাহার করা হয়।
- 📌 ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে আরও খালের ইজারা নিয়ে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
- 📌 গত ১৭ জুলাই জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে ইজারা বন্ধের আবেদন করা হয়, কিন্তু স্থায়ী সমাধান এখনো অনুপস্থিত।
📰 বিস্তারিত
বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলার প্রবাহমান নদী-খালের ইজারা কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লোকজ ও মৈত্রী কৃষক ফেডারেশন। সংবাদ সম্মেলনে মৈত্রী কৃষক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিভাষ মণ্ডল বলেন, এই অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য আহরণ ও গ্রামীণ অর্থনীতি নদী-খালের পানিপ্রবাহের ওপর নির্ভরশীল। প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা, ফসলের ক্ষতি, মাছের উৎপাদন হ্রাস ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের আশঙ্কা বাড়বে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নদী-খাল উন্মুক্ত রাখা জরুরি।
আয়োজকরা অভিযোগ করেন, বটিয়াঘাটা উপজেলার আমতলা, খড়িয়া, বটবুনিয়া, বরাখালী, ছোটখড়িয়া, মরাখড়িয়া, গোল্ডামারী ও বটিয়াঘাটা খালসহ বেশ কয়েকটি প্রবাহমান জলাশয়কে বন্ধ জলাশয় দেখিয়ে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের ২ এপ্রিল প্রায় ৬০ একর আয়তনের আমতলা নদীকে গঙ্গারামপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের নামে ছয় বছরের জন্য বছরে এক লাখ ১০ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। নদীতে নেট-পাটা ও বাঁধ স্থাপনের কারণে পানিপ্রবাহ, কৃষিকাজ এবং সাধারণ মানুষের মাছ ধরার অধিকার ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
২০০৬ সালের ১২ আগস্ট তৎকালীন ভূমিমন্ত্রী এবং ২০০৭ সালের ৮ মে খুলনার জেলা প্রশাসকের কাছে নদী-খাল উন্মুক্ত রাখার দাবিতে আবেদন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তদন্ত, প্রশাসনিক প্রতিবেদন ও আদালতের আদেশের পর ২০১০ সালের ১ ডিসেম্বর ইজারা কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়। গত ১৭ জুলাই জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে নদী-খালের ইজারা বন্ধের আবেদন করা হয়। ২০ ও ২৭ জুলাই তদন্ত কার্যক্রমের পর ২৭ জুলাই সংবাদমাধ্যমে আমতলা নদী ইজারা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরদিন প্রশাসন নদী ও আশপাশের খাল থেকে নেট-পাটা অপসারণ করে। তবে স্থায়ী সমাধানে এখনো কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে দাবি করা হয়।
"সংশ্লিষ্ট নদী-খালের সীমানা, আয়তন, পানিপ্রবাহ, ভূমি রেকর্ড ও ইজারা-সংক্রান্ত নথি যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে ইজারা বাতিল এবং আইন অনুযায়ী প্রবাহমান জলাশয়গুলো সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনা জেলা (বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলা)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: বিভাষ মণ্ডল (মৈত্রী কৃষক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ একর (আমতলা নদী), ৬ বছর (ইজারা মেয়াদ), ১ লাখ ১০ হাজার টাকা (বছরে ইজারা মূল্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!