📌 খাগড়াছড়ি জেলায় পর্যটকদের আগমন সত্ত্বেও স্থানীয় অর্থনীতিতে যথাযথ প্রভাব পড়ছে না। সাজেকের দিকে বেশি মনোনিবেশের কারণে পর্যটকরা কম সময় অবস্থান করায় হোটেল, রেস্তোরাঁ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের লাভ কম। নতুন পর্যটন আকর্ষণ যেমন জিপলাইন ও কিডস জোন চালু হলেও অবকাঠামো সংকট ও রাতযাপনের অভাব অর্থনৈতিক সুবিধা বাড়াতে পারছে না
খাগড়াছড়ি জেলার পর্যটন খাত সত্ত্বেও স্থানীয় অর্থনীতিতে যথাযথ প্রভাব ফেলতে পারছে না। সাজেকের দিকে বেশি মনোনিবেশের কারণে পর্যটকরা কম সময় অবস্থান করায় হোটেল, রেস্তোরাঁ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের লাভ কম পাচ্ছে। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, পর্যটকদের দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে নতুন পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা দরকার।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে সরকার দেশজুড়ে কর্মসূচি নেওয়ার কথা জানিয়েছে, প্রতিপাদ্য ছিল ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’।
- 📌 খাগড়াছড়িতে ৪৫টি হোটেল-মোটেল ও গেস্টহাউস রয়েছে, কিন্তু পর্যটকরা বেশি সময় অবস্থান না করায় অধিকাংশ কক্ষ বুকিং হয় না।
- 📌 গ্রিন ভ্যালি হোটেলের ১০০ কক্ষের মধ্যে ঈদে মাত্র ২০টি বুকিং হয়েছিল, অন্যদিকে হোটেল অরণ্য বিলাসের ৪০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হলেও ২০-৩০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছিল।
- 📌 আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রের অবকাঠামো সংকট (সড়ক, ঝুলন্ত সেতু, পানি সরবরাহ) পর্যটকদের বিরক্ত করছে।
- 📌 নতুন বিনোদন সুবিধা (৮০০ ফুট জিপলাইন, জায়ান্ট সুইং, কিডস জোন) চালু হলেও পর্যটকদের দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি বাড়াতে পারছে না।
- 📌 খাগড়াছড়ির সরকারি পর্যটন তালিকায় ৩০টি স্পট রয়েছে, কিন্তু সাজেকের দিকে বেশি মনোনিবেশের কারণে স্থানীয় অর্থনীতিতে যথাযথ প্রভাব পড়ছে না।
📰 বিস্তারিত
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৪৫টি হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউস রয়েছে। চলতি বছরের মার্চে ঈদের ছুটিতে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধেক কক্ষ আগাম বুকিং হয়েছিল। কিন্তু পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, অনেক পর্যটক সাজেক ঘুরে দ্রুত খাগড়াছড়ি ছাড়েন। খাগড়াছড়ি হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, জেলার পর্যটনকেন্দ্র তুলনামূলক কম হওয়ায় পর্যটকেরা বেশি সময় অবস্থান করেন না। তিনি দাবি করেন, পর্যটকদের দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে নতুন পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা দরকার।
ঈদুল আজহার সময়ের একটি ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। পর্যটনকেন্দ্র ও রেস্তোরাঁয় ভিড় থাকলেও অধিকাংশ হোটেল-মোটেলে পর্যাপ্ত বুকিং ছিল না। গ্রিন ভ্যালি হোটেলের ব্যবস্থাপক রহিত ত্রিপুরা জানান, তাদের ১০০ কক্ষের মধ্যে মাত্র ২০টি বুকিং হয়েছিল। অন্যদিকে, হোটেল অরণ্য বিলাসের ব্যবস্থাপক আহম্মদ রশিদ বলেন, তাদের প্রায় ৪০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছিল এবং পর্যটক আকর্ষণে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছিল।
অন্যদিকে, রেস্তোরাঁ ব্যবসায় ছিল ভিন্ন চিত্র। স্বপ্নচূড়া রেস্টুরেন্টের মালিক নেইম্রা মারমা জানান, পর্যটক ও ক্রেতার চাপ থাকলেও তাদের রাতযাপন ও অবস্থানকাল বাড়াতে না পারলে পর্যটন অর্থনীতির বড় একটি অংশ অধরাই থেকে যাচ্ছে।
খাগড়াছড়ির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র চলতি বছরে অবকাঠামো সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। কেন্দ্রটির ভেতরের সড়কের বেহাল দশা, ঝুলন্ত সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত কাঠের পাটাতন এবং পানি সরবরাহের সমস্যা পর্যটকদের বিরক্ত করছে। আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক চন্দ্র কিরণ ত্রিপুরা ঝুলন্ত সেতু সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, এসব সমস্যা নিয়ে প্রশাসন কাজ করছে এবং সড়ক উন্নয়নের জন্য মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে।
শুধু পুরোনো পর্যটনকেন্দ্রের ওপর নির্ভর না করে নতুন বিনোদন সুবিধা যুক্ত করার উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে। গত আগস্টে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কে ৮০০ ফুট দীর্ঘ জিপলাইন, জায়ান্ট সুইং ও শিশুদের কিডস জোন চালু করা হয়েছে। জিপলাইনের টিকিট ১০০ টাকা এবং জায়ান্ট সুইংয়ের টিকিট ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞা বলেন, নতুন বিনোদন সুবিধা যুক্ত হলে পর্যটন খাত সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে। জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ জানান, পর্যটকদের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা এবং শিশুদের বিনোদনের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এসব সুবিধা চালু করা হয়েছে।
"পর্যটকদের দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে নতুন পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়ার কথা বলছি। একজন পর্যটক যদি শুধু একটি স্পট দেখে চলে যায়, তার ব্যয়ের পরিমাণ সীমিত থাকে। কিন্তু এক রাত অতিরিক্ত অবস্থান করলে হোটেল, রেস্তোরাঁ, স্থানীয় পরিবহন, গাইড, দোকান, হস্তশিল্প ও স্থানীয় খাবারের ব্যবসায় অর্থ ছড়িয়ে পড়ে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খাগড়াছড়ি জেলা, আলুটিলা, রিছাং ঝরনা, তারেং, জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক, মায়াবিনী লেক, মানিকছড়ি ডিসি পার্ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিকাশ ত্রিপুরা, রহিত ত্রিপুরা, আহম্মদ রশিদ, নেইম্রা মারমা, চন্দ্র কিরণ ত্রিপুরা, মো. আনোয়ার সাদাত, আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞা, আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ সেপ্টেম্বর (বিশ্ব পর্যটন দিবস), ৪৫টি হোটেল-মোটেল, ১০০ কক্ষ (গ্রিন ভ্যালি হোটেল), ২০টি বুকিং, ৪০ শতাংশ কক্ষ বুকিং, ২০-৩০ শতাংশ ছাড়, ৮০০ ফুট জিপলাইন, ১০০ টাকা (জিপলাইন টিকিট), ৭০ টাকা (জায়ান্ট সুইং টিকিট), ৩০টি পর্যটন স্পট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!