📌 ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে প্রাথমিক শিক্ষক শাহ আলমকে মারধর করেছে বহিরাগতরা। শিক্ষকের স্বজনরা দাবি করেছেন, অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাকে ফাঁসানো হয়েছে। ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষক ও স্থানীয় প্রশাসনের তদন্ত শুরু হয়েছে
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীর অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রাথমিক শিক্ষক শাহ আলমকে কর্মস্থলেই মারধর করেছে বহিরাগতরা। ঘটনার পর শিক্ষক অসুস্থ হয়ে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে নামে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় স্কুলছাত্রীর অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রাথমিক শিক্ষক শাহ আলমকে মারধর করা হয়
- 📌 ঘটনার দিন সকালে প্রধান শিক্ষক পিয়ার মোহাম্মদের উপস্থিতিতে ছাত্রীর চাচা সৌরভ সরকারের নেতৃত্বে ১০-১২ জন বহিরাগত শিক্ষককে পিটিয়ে অসুস্থ করে দেয়
- 📌 শিক্ষকের স্বজনরা দাবি করেন, স্কুলের অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাকে ফাঁসানো হয়েছে
- 📌 ঘটনার পর শিক্ষককে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন
- 📌 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেন
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার বড়-বাইসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। প্রধান শিক্ষক পিয়ার মোহাম্মদ ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, ছাত্রীর পরিবারের সাথে কথা বলার পরই ছাত্রীর চাচা সৌরভ সরকারের নেতৃত্বে ১০-১২ জন বহিরাগত অফিস কক্ষে ঢুকে শাহ আলমকে মারধর শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে এবং পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, তিনি চতুর্থ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে প্রতিদিন দুপুরে খাওয়ার জন্য ১০ টাকা দিতেন এবং ঘটনার আগের দিন তার হাতে 'ওয়াশরুমে যাও' লিখে দেখান। তবে শিক্ষকের স্বজনরা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, স্কুলের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তারা আরও দাবি করেন, থানায় অভিযোগ না দিলে উল্টো ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ছাত্রীর মাকে অভিযোগ করতে বাধ্য করা হয়েছে।
শাহ আলমের স্ত্রী তানিয়া সুলতানা ও বড় ভাই মিজানুর রহমান জানান, শাহ আলম সবসময় অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তার প্রতিবাদী ভূমিকার কারণেই গ্রামের সমাজপতিরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ফাঁসিয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রাজিয়া সুলতানা জানান, আঘাত ও আতঙ্কের কারণে শাহ আলম অসুস্থ হয়ে পড়লেও বর্তমানে শারীরিকভাবে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
কালীগঞ্জ থানার ওসি কবির হোসেন জানান, ছাত্রীর মায়ের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানে ঢুকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
"শিক্ষকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি স্কুলের যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শাহ আলম (প্রাথমিক শিক্ষক), সৌরভ সরকার (ছাত্রীর চাচা), পিয়ার মোহাম্মদ (প্রধান শিক্ষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০-১২ জন (হামলাকারী), ১০ টাকা (দৈনিক দেওয়া অর্থ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!