📌 ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ডিসেম্বরের মধ্যে কাঁচপুরে নির্মাণাধীন নতুন বাস টার্মিনালে চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা ও নোয়াখালীসহ ১৬ জেলার দূরপাল্লার বাস স্থানান্তর করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ১২ একর জায়গায় গড়ে উঠবে ৪০৫টি বাস ধারণক্ষমতা সম্পন্ন টার্মিনাল
ঢাকার ট্রাফিক চাপ কমাতে এবং দূরপাল্লার বাসের যানজট নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ডিসেম্বরের মধ্যে কাঁচপুরে নির্মাণাধীন নতুন বাস টার্মিনালে চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা ও নোয়াখালীসহ মোট ১৬ জেলার দূরপাল্লার বাস স্থানান্তর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের ব্যস্ততা হ্রাস এবং রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকায় বাসের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৬ জেলার বাস স্থানান্তর: চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ ১৬ জেলার দূরপাল্লার বাস ডিসেম্বরের মধ্যে কাঁচপুরে স্থানান্তরিত হবে।
- 📌 ১২ একর জায়গায় ৪০৫টি বাস ধারণক্ষমতা: কাঁচপুর টার্মিনালে ৩৭৮টি বাস পার্কিং, ২২টি বাস বে, ৫টি ওয়াশিং বে এবং ৪০টি গাড়ি পার্কিংসহ সুবিধা থাকবে।
- 📌 ৪৮০ আসনের অপেক্ষমাণ স্থান ও ১০৬টি টিকিট কাউন্টার: যাত্রীদের জন্য ৪৮০ আসনের অপেক্ষমাণ স্থান এবং ১০৬টি টিকিট কাটার কাউন্টার নির্মাণ করা হচ্ছে।
- 📌 ৫০ কোটি টাকার প্রকল্পে ৩০% অগ্রগতি: প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৩০ শতাংশ, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ ৭৫ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ ২৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
- 📌 সায়েদাবাদ থেকে কাঁচপুরে স্থানান্তর: প্রথম ধাপে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বাস কাঁচপুরে স্থানান্তরিত হবে।
- 📌 বাসমালিকদের জন্য বিশেষ সাঁটল সার্ভিস: কাঁচপুর থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত বিশেষ সাঁটল সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম আজ বুধবার কাঁচপুরে নির্মাণাধীন টার্মিনাল এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে অস্থায়ী শেড নির্মাণ করে দূরপাল্লার বাসের কার্যক্রম শুরু করা হবে। পরে ধাপে ধাপে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরের ট্রাফিকব্যবস্থা আধুনিকায়নের উদ্যোগের অংশ হিসেবে দ্রুততম সময়ে কাঁচপুর টার্মিনালের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসক মো. আবদুস সালাম আরও জানান, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বাসগুলোকে রাজধানীর ব্যস্ত সড়ক ও কেন্দ্রীয় অংশে ঢুকতে না হলে সায়েদাবাদ ও আশপাশের সড়কে বাসের চাপ কমবে। একই সঙ্গে দূরপাল্লার বাসের কারণে তৈরি হওয়া যানজটও নিয়ন্ত্রণে আসবে। তিনি উল্লেখ করেন, বাসমালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে কাঁচপুর থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত বিশেষ সাঁটল সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
কাঁচপুর বাস টার্মিনালে ১২ একর জায়গায় নির্মাণাধীন প্রকল্পে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। টার্মিনালে ৪০৫টি বাসের ধারণক্ষমতা থাকবে, যার মধ্যে ৩৭৮টি বাসের পার্কিং, ২২টি বাস বে এবং পাঁচটি ওয়াশিং বে থাকবে। পাশাপাশি ৪০টি গাড়ি পার্কিংসহ যাত্রীদের জন্য ৪৮০ আসনের অপেক্ষমাণ স্থান এবং ১০৬টি টিকিট কাউন্টার নির্মাণ করা হচ্ছে। নারী ও পুরুষ যাত্রীদের জন্য ১৬টি টয়লেটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। টার্মিনাল পরিচালনার জন্য ৬৫ বর্গমিটার অফিস স্পেস এবং ৫০ বর্গমিটার ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল রুম নির্মাণ করা হচ্ছে।
পরিদর্শনের সময় নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের সতর্ক করেন মো. আবদুস সালাম। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার পাশাপাশি কোনো ধরনের নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার না করার নির্দেশ দেন। পরিদর্শনের সময় নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানসহ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।
"প্রাথমিকভাবে অস্থায়ী শেড নির্মাণ করে দূরপাল্লার বাসের কার্যক্রম শুরু করা হবে। পরে ধাপে ধাপে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।"
"সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বাসগুলোকে রাজধানীর ব্যস্ত সড়ক ও কেন্দ্রীয় অংশে ঢুকতে না হলে সায়েদাবাদ ও আশপাশের সড়কে বাসের চাপ কমবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কাঁচপুর, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আবদুস সালাম (ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক), আজহারুল ইসলাম মান্নান (সংসদ সদস্য)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬ জেলা, ১২ একর জমি, ৪০৫টি বাস ধারণক্ষমতা, ৫০ কোটি টাকা ব্যয়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!