📌 ঝিনাইদহ জেলার পাঁচটি উপজেলার কৃষি অফিসের আউটসোর্সিং গাড়িচালকরা টানা এক বছর বেতন পাচ্ছেন না। তাদের মধ্যে একজন আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলায়, যিনি দুই সন্তানের বাবা। বেতন বন্ধের কারণে সংসার চালাতে স্ত্রীর দর্জির কাজের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন
ঝিনাইদহ জেলার পাঁচটি উপজেলার কৃষি অফিসের গাড়িচালকরা টানা এক বছর বেতন পাচ্ছেন না। কৃষি কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিয়মিত কাজ করলেও তাদের বেতন বন্ধ থাকায় সংসার চালাতে কষ্ট পড়ছে। ঝিনাইদহ সদর, মহেশপুর, শৈলকুপা, কোটচাঁদপুর ও হরিণাকুণ্ড উপজেলার কৃষি অফিসের আউটসোর্সিং গাড়িচালকদের মধ্যে একজন আব্দুর রাজ্জাক। তিনি ২০১৩ সাল থেকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি অফিসের গাড়িচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঝিনাইদহ জেলার পাঁচটি উপজেলার কৃষি অফিসের গাড়িচালকরা টানা **১৬ মাস** বেতন পাচ্ছেন না
- 📌 আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার **ধানহাড়িয়া-চুয়াডাঙ্গা গ্রামে**, যিনি দুই সন্তানের বাবা
- 📌 বেতন বন্ধের কারণে সংসার চালাতে স্ত্রীর দর্জির কাজের উপর নির্ভরশীল, ধারদেনা করে চলতে হচ্ছে
- 📌 শৈলকুপা উপজেলার গাড়িচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, বেতন না পাওয়ায় দোকানে বাকি হয়েছে, সন্তানদের প্রয়োজন মেটাতে কষ্ট পড়ছে
- 📌 কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিয়মিত গাড়ি চালানোর পরও বেতন বন্ধ থাকা
📰 বিস্তারিত
কৃষি কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিয়মিত কাজ করলেও ঝিনাইদহ জেলার পাঁচটি উপজেলার কৃষি অফিসের গাড়িচালকরা টানা এক বছর বেতন পাচ্ছেন না। কৃষকের জমি পরিদর্শন, সরকারি প্রণোদনা বিতরণ এবং কৃষি কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিয়মিত তাদের গাড়ি চালাতে হয়। কিন্তু তাদের নিজেদের বেতন বন্ধ থাকায় সংসার চালাতে কষ্ট পড়ছে।
আব্দুর রাজ্জাক ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি অফিসের গাড়িচালক। তিনি ২০১৩ সাল থেকে এই চাকরিতে কর্মরত। বর্তমানে তার বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়নের ধানহাড়িয়া-চুয়াডাঙ্গা গ্রামে। তিনি বলেন, ‘২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে এক টাকাও বেতন পাইনি। প্রতিদিন অফিসের গাড়ি নিয়ে কর্মকর্তাদের নিয়ে মাঠে যাই, কৃষকের কাছে যাই। কিন্তু নিজের সন্তানদের জন্য ঠিকমতো খাবার বা প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে দিতে পারি না।’
আব্দুর রাজ্জাকের দুই সন্তান — পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া একটি মেয়ে এবং মাত্র ১৬ মাস বয়সি একটি ছেলে। বেতন বন্ধের কারণে সংসার চালাতে স্ত্রীর দর্জির কাজের উপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী সেলাইয়ের কাজ করে। ওই আয় দিয়ে কোনোভাবে সংসার চালাচ্ছে। একদিকে বাজারের খরচ, অন্যদিকে সন্তানদের পড়াশোনা-সব মিলিয়ে খুব কষ্টে আছি। ধারদেনা করে চলতে হচ্ছে। মানুষের কাছে হাত পাততেও লজ্জা লাগে। আমরা তো কাজ করছি, আমাদের বেতনটা চাইছি; কারও দয়া চাইছি না।’
শৈলকুপা উপজেলা কৃষি অফিসের গাড়িচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বেতন না পাওয়ায় দোকানে বাকি হয়েছে, মানুষের কাছ থেকে ধার করতে হয়েছে। সন্তানদের প্রয়োজন মেটাতে না পারলে একজন বাবার যে কষ্ট হয়, সেটা ভাষায় বলা যায় না। অফিসের গাড়ি ঠিকমতো চলার জন্য যেমন জ্বালানি লাগে, আমাদের সংসার চালাতেও তো টাকার প্রয়োজন। আমরা কাজ করছি, তাই আমাদের প্রাপ্য বেতনটুকু সময়মতো পাওয়াই আমাদের দাবি।’
"আমরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। বেতন পাব-এই আশায় এতদিন ধরে কাজ করছি। এখন শুধু চাই, আমাদের বেতন চালু করে বকেয়া বেতনগুলো পরিশোধ করা হোক।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঝিনাইদহ সদর, মহেশপুর, শৈলকুপা, কোটচাঁদপুর, হরিণাকুণ্ড উপজেলা কৃষি অফিস
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্দুর রাজ্জাক, শফিকুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬ মাস বেতন বন্ধ, ২ সন্তান (পঞ্চম শ্রেণি ও ১৬ মাস বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!