📌 যশোর জেনারেল হাসপাতালে সিজার করার সময় চিকিৎসকদের অসাবধানতায় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনেরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, সিজারের আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল। ঘটনায় তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা
যশোর জেলার যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সিজার অপারেশনের সময় চিকিৎসকদের অসাবধানতায় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। নবজাতকের মাথা, ঠোঁট ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা ক্ষত চিহ্ন দেখে তাঁরা হতবাক হয়ে যান। ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যশোর জেনারেল হাসপাতালে সিজার অপারেশনের সময় নবজাতকের মৃত্যু
- 📌 নবজাতকের মাথা, ঠোঁট ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা ক্ষত চিহ্ন
- 📌 স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের অসাবধানতায় এমন ঘটনা ঘটেছে
- 📌 হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, সিজারের আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল
- 📌 ঘটনার তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন নবজাতকের বাবা সাগর হাসান
📰 বিস্তারিত
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে যশোর জেলার সদর উপজেলার রায়মানিক কচুয়া গ্রামের বাসিন্দা সাগর হাসানের স্ত্রী তাসমিরার প্রসব বেদনা শুরু হলে তাঁকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সকালে গাইনি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. আয়েশা আক্তার প্রসূতির সিজার অপারেশন শুরু করেন। অপারেশন শেষে নবজাতকের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানানো হলেও স্বজনদের দেখতে দেওয়া হয়নি। তিন ঘণ্টা পর নার্সরা জানান, মৃত শিশুর জন্ম হয়েছে।
স্বজনরা যখন নবজাতককে কোলে নিয়ে দেখেন, তখন তাঁরা স্তম্ভিত হয়ে যান। শিশুর মাথা, ঠোঁট ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা ক্ষত চিহ্ন দেখা যায়। ঘটনার পর প্রসূতি তাসমিরার বোন রহিমা খাতুন বলেন, ‘পাঁচ দিন আগেও চিকিৎসকেরা বলেছিলেন মা ও শিশু সুস্থ আছে। আজ সিজারের পর দেখি শিশুর শরীর কাটা।’ তিনি আরও বলেন, ‘মৃত্যুর পরেও চিকিৎসকেরা শিশুটিকে নিয়ে ছেলেখেলা করেছেন।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নবজাতকের বাবা সাগর হাসান বলেন, ‘চিকিৎসকেরা সিজারের পর মাথা কাটা শিশুটিকে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। স্ত্রীকে এখনো কিছু জানানো হয়নি। তাঁকে বলেছি, তোমার ছেলে হয়েছে, কিছুটা অসুস্থ।’ তিনি জানান, এই প্রথম সন্তান হওয়ায় দুই পরিবারে আনন্দের বন্যা বইছিল। এখন তাঁরা কীভাবে এই ক্ষতিপূরণ করবেন তা নিয়ে চিন্তিত।
হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আহসান কবির বাপ্পী বলেন, ‘নবজাতকের শরীরে যেসব ক্ষত চিহ্ন দেখা যাচ্ছে তা সিজারে কেটে ফেলার নয়। ধারণা করছি, সিজারের আগেই অন্য কোনো কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত করে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে এবং চিকিৎসক ও নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অবহেলার প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
‘পাঁচ দিন আগেও হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বাচ্চা ও মা সুস্থ আছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। আজ সিজারের পর দেখি নবজাতকের মাথাসহ বিভিন্ন স্থানে কাটা। এমনকি মৃত্যুর পরেও নবজাতকটিকে নিয়ে চিকিৎসকেরা ছেলেখেলা করেছেন।’ — রহিমা খাতুন, প্রসূতি তাসমিরার বোন
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যশোর জেলা সদর উপজেলার রায়মানিক কচুয়া গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাগর হাসান (নবজাতকের বাবা), ডা. আয়েশা আক্তার (গাইনি কনসালট্যান্ট), ডা. আহসান কবির বাপ্পী (মেডিকেল অফিসার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫০ (হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা), ৩ (ঘণ্টা পর মৃত্যু ঘোষণা), ১০ (সকাল ১০টায় ঘটনা ঘটে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!