📌 জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরপর দুই দিনে গরুভোজের আয়োজন করে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস ও জগন্নাথ কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার সময় এই আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন ও সাংঘর্ষিক প্রতিক্রিয়া উঠেছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার সময় পরপর দুই দিনে গরুভোজের আয়োজন করে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস ও জগন্নাথ কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)। এই সাংঘর্ষিক আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন ও সমালোচনা উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ভবন ও গণিত বিভাগের মধ্যবর্তী সড়কে গরু জবাই করা হয়, পরে মিনারের সামনে মাংস বিতরণ করা হয়
- 📌 গরুভোজের আয়োজক বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের সদস্যসচিব ওবায়দুল ইসলাম দাবি করেন, এটি প্রতিবাদী আন্দোলন এবং ধর্মীয় সহমতের প্রতীক
- 📌 জকসুর শুক্রবার আয়োজিত গরুভোজে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি জন ৪০ টাকা নিবন্ধন ফি নেওয়া হয়েছিল
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রথমে অনুমতি দিতে অস্বীকার করে, পরে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দেয়া হয়
- 📌 লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ ফেসবুকে পোস্ট করে গরুভোজের তাৎপর্য নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন
📰 বিস্তারিত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শনিবার সকালে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা গরু জবাইয়ের আয়োজন করে। গত শুক্রবার জগন্নাথ কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) গরুভোজের আয়োজন করেছিল। এই দু’দিনের মধ্যে গরুভোজের আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে দুর্গাপূজার সময় এই আয়োজন করা হয়েছে বলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ভবন ও গণিত বিভাগের মধ্যবর্তী সড়কে গরু জবাই করা হয়। পরে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে গরুর মাংসের তেহারি বিতরণ করা হয়। রাতে ক্যাম্পাসে কাওয়ালি অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। গত শুক্রবার সকালে জকসুর আয়োজিত গরুভোজ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গরু জবাই করা হয়েছিল। পরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে খিচুড়ি ও গরুর মাংস বিতরণ করা হয়।
বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের সদস্যসচিব ওবায়দুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, এই আয়োজনটি প্রতিবাদী আন্দোলন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধর্ম ও মতের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আজম খান বলেন, শুক্রবারের আয়োজনে আপত্তি থাকলেও সেদিনের পরিবেশ যথেষ্ট ভালো ছিল। সবকিছু সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে শনিবারের আয়োজনের বিষয়ে প্রশাসন প্রথমে অনুমতি দিতে চায়নি। পরে শর্ত সাপেক্ষে অনুমতি দেওয়া হয়।
গতকাল শুক্রবার সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ভবন ও গণিত বিভাগের মধ্যবর্তী সড়কে জবিয়ানদের গরুভোজ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গরু জবাই করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে খিচুড়ি ও গরুর মাংস বিতরণ করা হয়। এই আয়োজনে প্রতি শিক্ষার্থী থেকে ৪০ টাকা নিবন্ধন ফি নেওয়া হয়েছিল। আয়োজকরা জানান, ৮৫ হাজার টাকায় একটি গরু কেনা হয়েছিল। বেলা সাড়ে তিনটা থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত তারা খাবার বিতরণ করেন।
"গরুভোজের আয়োজনের মাধ্যমে কী কী অর্জন হলো—তা ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরেন লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ। তিনি লেখেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটা করে গরু জবাইয়ের তাৎপর্য অপরিসীম। শিগগিরই জাতি এটা বুঝতে পারবে।’"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ওবায়দুল ইসলাম (বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের সদস্যসচিব), আজম খান (বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক), মহিউদ্দিন আহমদ (লেখক ও গবেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ টাকা (নিবন্ধন ফি), ৮৫ হাজার টাকা (গরুর মূল্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!