📌 জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ১২ অক্টোবর গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্না করার ঘটনায় হিন্দু-মুসলিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়। প্রশাসন পশু জবাই নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও শিক্ষার্থীরা শুক্রবার গরু জবাই করার ঘোষণা দিয়েছে। ঘটনাস্থলে কথা কাটাকাটির পর মন্দিরের ইট নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে গত কয়েকদিন ধরে গরু জবাই ও ধর্মীয় সংঘর্ষের বিতর্ক জোরালো হয়ে উঠেছে। গত ১২ অক্টোবর ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা মন্দিরের কাছে গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্না করার ঘটনায় হিন্দু শিক্ষার্থীদের আপত্তি ও প্রশাসনের সতর্কবার্তার পর শিক্ষার্থীদের একাংশ শুক্রবার গরু জবাই করার ঘোষণা দিয়েছে। ঘটনাস্থলে কথা কাটাকাটির পর মন্দিরের ইট নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়, যা বর্তমানে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১২ অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা মন্দিরের কাছে গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্না করার ঘটনায় হিন্দু শিক্ষার্থীদের আপত্তি ও কথা কাটাকাটির পর বিতর্ক শুরু হয়।
- 📌 ১৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পশু জবাই নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের একাংশ শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) গরু জবাই করার ঘোষণা দিয়েছে।
- 📌 মন্দিরের ইট ব্যবহার নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা মন্দিরের ইট ব্যবহার করার দাবি প্রত্যাখ্যান করে।
- 📌 বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে পশু জবাই নিষিদ্ধ এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- 📌 ৯২ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যার কারণে কিছু শিক্ষার্থী বলে যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গরু জবাই বন্ধ করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা আবারও আয়োজন করবে।
📰 বিস্তারিত
গত ১২ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চের কাছে গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্না করার আয়োজন করেন। ঘটনাস্থলে মন্দিরের কাছে রান্না করার কারণে হিন্দু শিক্ষার্থীদের আপত্তি জানানো হয়। মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব জয় সাহা জানান, মন্দিরের সামনে রান্না করার বিষয়টি তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তিনি বলেন, “মাংস দেখে মনে হলো এটা মুরগি না; হয় খাসি বা গরু। পরে একজন বললো, গরু। যেহেতু মন্দিরের সামনে, আমাদের একটু হলেও খারাপ লাগছে। আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগছে। আমরা তাদের সরায়ে নিতে বলি।”
জয় সাহা আরও বলেন, “তাদের কেউ কেউ বললো, আপনারা মন্দিরের সীমানা নির্ধারণ করে দেন। ওরা উত্তেজিত হওয়ার মতো কথা বলছিল, একপ্রকার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছিলো আমাদেরকে। আমরাও আট-দশজন ছিলাম, উত্তেজিত হলাম। এর মাঝে প্রক্টর স্যার আসেন এবং পরে ওরা প্রায় দশ হাত দূরে যায়,” বলছিলেন তিনি। ঘটনাস্থলে কথা কাটাকাটির পর হিন্দু শিক্ষার্থীরা মিছিল করে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্ক শুরু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আজম খান ১৪ অক্টোবর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেন, যেখানে বলা হয়, “ক্যাম্পাসে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে যেকোনো ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকতে হবে। নির্দেশনা অমান্য করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিজ্ঞপ্তি জারি করার পর শিক্ষার্থীদের একাংশ জানিয়েছে, তারা শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক গরু জবাই করবে। তারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে গরু জবাই বন্ধ করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা আবারও আয়োজন করবে। শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ বলছেন, এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিলো মন্দিরের ইট ব্যবহারকে কেন্দ্র করে। তবে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা যে ইটগুলো নিয়েছিলো, সেগুলো তারা আর ব্যবহার করেনি, ফিরিয়ে দিয়েছে এবং পরে ক্যাফেটেরিয়া থেকে চুলা এনে রান্না করেছে।
"মেইন আপত্তিছিল মন্দির এত সামনে। ওরা ন্যারেটিভ নিয়ে গেছে ইটের দিকে।"
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে জানা যায়, বিষয়টি নিয়ে উভয় ধর্মের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন গ্রুপে তর্ক-বিতর্ক করে এবং এক পর্যায়ে এটি গণমাধ্যমের নজরে আসে। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি রাকিব মাদবর বলেন, “তখন মুসলিম কমিউনিটির একটু উগ্রপন্থীরা ইচ্ছাকৃতভাবে বলে যে, যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে এটা বাধা দেওয়া হইছে, তাই এর প্রতিবাদে আবারও আমরা আয়োজন করবো। শিক্ষার্থীদের একটা গ্রুপ এটা প্রচার করে,” যোগ করেন তিনি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জয় সাহা (মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব), ড. মো. আজম খান (প্রক্টর), শিক্ষার্থীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ অক্টোবর (ঘটনার তারিখ), ১৭তম ব্যাচ, ৯২ শতাংশ (মুসলিম জনসংখ্যা), ৬ মিনিট (পড়ার সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!