📌 পটুয়াখালীর দশমিনায় আইফোন কেনার জন্য নিজের দেড় বছরের শিশুপুত্রকে এক লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক কাঠমিস্ত্রির বিরুদ্ধে। শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় আইফোন কেনার জন্য নিজের দেড় বছরের শিশুপুত্রকে এক লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক কাঠমিস্ত্রির বিরুদ্ধে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামের মুন্সিবাড়ি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অভিযুক্ত ব্যক্তি মো. মারুফ একজন কাঠমিস্ত্রি, যিনি নিজের দেড় বছরের শিশুপুত্র মুসাকে এক লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগে অভিযুক্ত
- 📌 শিশুটিকে বিক্রির পর মারুফ ঢাকায় গিয়ে পুরোনো আইফোন দিয়ে নতুন আইফোন কিনেছেন বলে পরিবারের দাবি
- 📌 শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ, অভিযুক্ত ব্যক্তি এখনো পলাতক
- 📌 ঘটনার পর থেকে মারুফের স্ত্রী বৃষ্টি তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন
📰 বিস্তারিত
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টার দিকে মারুফ তার মাকে বলেন, নাতি মুসাকে সাজিয়ে দিতে। তিনি শিশুটিকে নিয়ে বাজারে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। দীর্ঘ সময় পার হলেও মারুফ ও শিশুটিকে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
পরিবারের সদস্যরা মারুফের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি স্বীকার করেন যে, আইফোন কেনার জন্য তার শিশুপুত্র মুসাকে দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের রোমানাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে এক লাখ টাকায় লিখিতভাবে দিয়েছেন। মারুফের দাবি অনুযায়ী, তিনি সেই টাকা দিয়ে ঢাকায় গিয়ে পুরোনো আইফোন দিয়ে নতুন আইফোন কিনেছেন।
শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম বলেন, প্রায় চার বছর আগে মারুফ ঢাকার সাভার থেকে এক তরুণীকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। প্রায় তিন বছর পর তাদের ঘরে মুসার জন্ম হয়। প্রায় এক মাস আগে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মারুফ ও তার স্ত্রী বৃষ্টির মধ্যে কথা-কাটাকাটি হলে বৃষ্টি তার বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর মারুফ কিছুদিন বাড়িতে থাকার পর ঢাকায় চলে যান। গত শুক্রবার সন্ধ্যার আগে তিনি বাড়িতে ফেরেন।
‘শনিবার সকালে মারুফ আমাকে বলে, মা, তোমার নাতিকে জামাকাপড় পরিয়ে দাও। আমি ওকে নিয়ে বাজারে একটু ঘুরতে যাব। পরে সন্ধ্যা হয়ে গেলেও ছেলে ও নাতির কোনো খোঁজ পাইনি। খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারি, আইফোন কেনার জন্য এক লাখ টাকার বিনিময়ে মুসাকে বিক্রি করেছে বলে মারুফ স্বীকার করেছে। আমি আমার নাতিকে ফিরে পেতে চাই এবং প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।’
ইমরান হোসেন নামে অভিযুক্ত ব্যক্তি ফোনে দাবি করেন, মারুফ দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ছেলেকে দেয়ার কথা বলে আসছিলেন। তার শ্বশুরের পাঁচ মেয়ে, কোনো ছেলে সন্তান নেই। এ কারণে মারুফের সঙ্গে আলোচনা করে এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে লিখিতভাবে নিয়েছেন। পরে তিনি শিশুটিকে তার শ্বশুরের বাড়িতে দিয়ে আসেন বলে দাবি করেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দশমিনা উপজেলা, পটুয়াখালী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. মারুফ (অভিযুক্ত ব্যক্তি), মুসা (শিশুপুত্র), ইমরান হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: এক লাখ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!