📌 ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে বাংলাদেশে প্রবীণদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়ে আলোচনা করা হলেও বাস্তবে তাদের মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও পরিবারের দায়িত্বের সাথে তাল মিলাচ্ছে কিনা তা প্রশ্নবিদ্ধ। সংবিধান ও আইনের বিধানসহ জাতীয় নীতিমালা কীভাবে প্রবীণদের জীবনকে সহজতর করতে পারে তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে
১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের আলোকে বাংলাদেশে প্রবীণদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণের বিষয়ে গভীর আলোচনা চলছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠে, একটি দিবসের আলোচনা কি যথেষ্ট? প্রবীণরা শুধু অতীতের নির্মাতা নয়, ভবিষ্যতের প্রেরণা। তাদের শ্রম, ত্যাগ ও অভিজ্ঞতা আজকের প্রজন্মের জন্য অপরিহার্য। তবে বাস্তবে তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও পরিবারের দায়িত্ব কতটুকু পূরণ হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে বাংলাদেশে প্রবীণদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সংবিধান, আইন ও জাতীয় নীতিমালার বিধান রয়েছে, কিন্তু বাস্তবে তা যথাযথভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না।
- 📌 সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদ ও ১৯ অনুচ্ছেদে প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা ও সমতার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রের দায়িত্বে পরিণত হয়েছে।
- 📌 পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, সন্তানদের দায়িত্ব হলো বাবা-মায়ের ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করা, সঙ্গ প্রদান, নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া এবং তাদের স্বাস্থ্য ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করা।
- 📌 আইনের ৩(৭) ধারা অনুযায়ী, আলাদা বসবাসকারী বাবা-মাকে সন্তানের আয় থেকে যুক্তিসঙ্গত অর্থ দেওয়ার বিধান রয়েছে, যা বাস্তবে অনেক পরিবারে লঙ্ঘিত হয়।
- 📌 জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা ২০১৩ অনুযায়ী, ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিদের মর্যাদা, স্বাস্থ্য, আয়-নিরাপত্তা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু বাস্তবে এসব নিশ্চিত হচ্ছে না।
- 📌 বয়স বাড়ার সাথে সাথে প্রবীণদের চিকিৎসা, চলাফেরা ও সামাজিক যোগাযোগের প্রয়োজন বাড়লেও অনেক পরিবারে এসবকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখা হয়।
- 📌 একাকিত্ব প্রবীণদের জীবনের বড় সংকট, কারণ অনেক পরিবারে সন্তানরা মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকেন বা নিয়মিত খোঁজখবর না নেওয়ায় প্রবীণরা একাকিত্বে ভুগছেন।
📰 বিস্তারিত
প্রবীণরা বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের নির্মাণে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের শ্রম, ত্যাগ ও অভিজ্ঞতা আজকের প্রজন্মের জন্য মূল্যবান। কিন্তু বাস্তবে তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও পরিবারের দায়িত্ব যথাযথভাবে পূরণ হচ্ছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদে বার্ধক্যজনিত কারণে অভাবগ্রস্ত মানুষের জন্য সরকারি সাহায্য ও সামাজিক নিরাপত্তার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৯ অনুচ্ছেদে নাগরিকদের সমতার অধিকার নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রবীণদের অধিকার শুধু মানবিক বিষয় নয়, রাষ্ট্রের দায়িত্বের অংশও।
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, সন্তানদের দায়িত্ব হলো বাবা-মায়ের ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করা। আইনের ২ ধারায় ‘ভরণ-পোষণ’ শব্দের মধ্যে খাবার, পোশাক, চিকিৎসা, বসবাসের সুবিধা এবং সঙ্গ প্রদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ বাবা-মায়ের দায়িত্ব শুধু অর্থ প্রদান নয়, তাদের সঙ্গে থাকা, খোঁজ নেওয়া এবং মানসিকভাবে পাশে থাকাও প্রয়োজন। আইনের ৩(১) ধারায় প্রত্যেক সন্তানকে তাদের পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। একাধিক সন্তান থাকলে তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে দায়িত্ব পালন করবে, যা ৩(২) ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনের ৩(৪) ধারায় বলা হয়েছে যে, সন্তান তার পিতা বা মাতাকে তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো বৃদ্ধ নিবাস বা অন্য কোথাও বসবাস করতে বাধ্য করতে পারবে না। ৩(৫) ধারায় বাবা-মায়ের স্বাস্থ্যের নিয়মিত খোঁজখবর, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার কথা বলা হয়েছে। এমনকি ৩(৬) ধারায় আলাদা থাকলে নিয়মিত সাক্ষাতের দায়িত্বও রয়েছে। আর ৩(৭) ধারায় পৃথকভাবে বসবাসকারী বাবা-মাকে সন্তানের আয় থেকে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ নিয়মিত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
আইন এখানেই থেমে নেই। পিতা বা মাতার অবর্তমানে দাদা-দাদি ও নানা-নানির ভরণ-পোষণের বিষয়টিও ৪ ধারায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর ৫ ধারায় আইনের বিধান লঙ্ঘনের জন্য অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে অনূর্ধ্ব তিন মাস কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, এই আইন মূলত পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করার আইন। প্রত্যেক প্রবীণ নাগরিকের সব ধরনের অধিকারকে একটি মাত্র আইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখা ঠিক হবে না।
জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা ২০১৩ অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকার ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিদের প্রবীণ নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে তাদের মর্যাদা, স্বাস্থ্য, আয়-নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। তবে বাস্তবে এই নীতিমালার বিধানগুলি যথাযথভাবে প্রয়োগ হচ্ছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শহুরে জীবনে যৌথ পরিবার ভেঙে ছোট পরিবার বাড়ছে। সন্তানদের কর্মব্যস্ততা, বিদেশে বা দূরের শহরে বসবাস, আর্থিক চাপ এবং পারিবারিক সম্পর্কের পরিবর্তনের কারণে অনেক প্রবীণ একাকিত্বে ভুগছেন। কারও সন্তান নিয়মিত টাকা পাঠালেও সময় দেন না; কেউ একই বাড়িতে থেকেও মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন। আবার এমন প্রবীণও আছেন, যাঁদের নিজেদের আয় নেই, সঞ্চয় নেই কিংবা অবসরকালীন নিরাপত্তা নেই।
"প্রবীণরা কোনো পরিবারের বোঝা নন, সমাজেরও বোঝা নন। তাঁরা আমাদের পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের নির্মাণযাত্রার জীবন্ত সাক্ষী।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রবীণ নাগরিক, সন্তান, রাষ্ট্র
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ অক্টোবর, ১৫(ঘ), ১৯, ২, ৩(১), ৩(২), ৩(৪), ৩(৫), ৩(৬), ৩(৭), ৪, ৫, ৬০ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!