📌 বায়তুল মোকাররমে আন্তর্জাতিক ইসলামি বইমেলা ১২ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন হয়। এবারের মেলায় ১৪৪টি স্টলে ১০০টির বেশি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বই পাওয়া যাচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, মিসর ও লেবাননের প্রকাশনী। মেলা চলবে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত
বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ও পূর্ব চত্বর জাঁকজমকে পরিণত হয়েছে আন্তর্জাতিক ইসলামি বইমেলার আকর্ষণে। ধর্মপ্রাণ পাঠক ও লেখকদের জন্য এই মেলা একটি আকর্ষণীয় কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বইয়ের ঘ্রাণে ভরে উঠেছে মসজিদের প্রাঙ্গণ, যেখানে দেশি-বিদেশি প্রকাশনীগুলো নান্দনিক সাজসজ্জায় স্টল সাজিয়ে বসেছে। এখানে বই কিনে অটোগ্রাফ সংগ্রহ, লেখা নিয়ে আলোচনা — এ যেন মাসব্যাপী বইকেন্দ্রিক ঈদের মতো আনন্দময় পরিবেশ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৪৪টি স্টল এবারের মেলায় সাজানো হয়েছে, যেখানে ১০০টির বেশি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান (বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, মিসর ও লেবানন) অংশ নিয়েছে।
- 📌 মেলা ১২ সেপ্টেম্বর ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসেন কায়কোবাদের উদ্বোধন করে শুরু হয় এবং ১১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।
- 📌 লিটলম্যাগ, লেখক, শিশু ও মহিলা কর্নারসহ নতুন কর্নারগুলোতে রয়েছে সীরাহ এক্সিবিশন, জুলাই কর্নার ও শাপলা কর্নার।
- 📌 ৫ মে ও ৩৬ জুলাইর শহীদদের স্মৃতিকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে কর্নারগুলোর সাজসজ্জায়।
- 📌 প্রতিদিন ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকে, ছুটির দিনে ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশে ইসলামি বইমেলার ইতিহাস শুরু হয় স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকেই। বাহাত্তরের পর দেশবরেণ্য আলেমদের তত্ত্বাবধানে বায়তুল মোকাররমে শুরু হয় ওয়াজ মাহফিল ও সিরাতের আয়োজন। সেসব আয়োজনকে ঘিরে বই বিপণন কেন্দ্রগুলো ধীরে ধীরে মেলার রূপ নেয়। নব্বইয়ের দশকে মেলাটি জাঁকজমকপূর্ণ ছিল, যেখানে জাতীয় মসজিদের চত্বরে বছরে তিনটি মেলা বসত। পবিত্র মাহে রমজান, রবিউল আউয়াল ও ফেব্রুয়ারিতে মেলাগুলো অনুষ্ঠিত হত। তবে পরবর্তীতে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে তা অনেকটাই স্তিমিত হয়ে যায়।
এবারের মেলায় ১৪৪টি স্টল সাজানো হয়েছে, যেখানে ১০০টির বেশি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এতে বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান, ভারত, মিসর ও লেবাননের প্রকাশনীগুলোও অংশগ্রহণ করেছে। মেলার আয়োজক ইসলামিক ফাউন্ডেশন নতুন আঙ্গিকে মেলাটি সাজিয়ে তুলেছে। এবারের মেলায় নতুন করে যোগ হয়েছে সীরাহ এক্সিবিশন, জুলাই কর্নার ও শাপলা কর্নার। এসব কর্নারে শহীদ ও গাজিদের ছবি দিয়ে স্মৃতিকে স্মরণ করা হয়েছে। শাপলা কর্নারে ৫ মে ও ৩৬ জুলাইর শহীদদের স্মৃতি উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে শাপলা আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের ছবি প্রদর্শিত হয়েছে।
মেলায় লিটলম্যাগ, লেখক, শিশু ও মহিলা কর্নারসহ বিভিন্ন কর্নারে প্রতিদিন নতুন আয়োজন চলছে। বৃহস্পতি ও শুক্রবারে লিটলম্যাগ ও লেখক কর্নারে ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন ও লেখক-পাঠকদের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পূর্ব চত্বরের নিচের অংশে রয়েছে রকমারি ও মুসান্নিফ গ্রুপ কর্নার। এখানে সন্ধ্যা নামতেই কাওয়ালি সুরে ভরে উঠে পরিবেশ।
"মেলার এই কর্নার দুটো পুরোনো সেই স্মৃতির মন্থন। মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের বীরত্বের গল্পকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বায়তুল মোকাররম, ঢাকা (দক্ষিণ ও পূর্ব চত্বর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসেন কায়কোবাদ, লেখক, পাঠক, শিশু, মহিলা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪৪টি স্টল, ১০০টির বেশি প্রকাশনা, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!