📌 নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা বাঁধের নিকটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ৭ কোটি টাকার বাঁধ, সেচ প্রকল্প ও জনবসতি ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, প্রভাবশালী চক্র আইন ভঙ্গ করে বালু উত্তোলন করছে, যার ফলে পরিবেশ ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে
নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা সেচ প্রকল্পের সিল্ট ট্র্যাপ এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ৭ কোটি টাকার বাঁধ, তিস্তা ব্যারাজ এবং সেচ প্রকল্পের সড়ক ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন যে, প্রভাবশালী চক্র আইন ভঙ্গ করে বালু উত্তোলন করছে, যার ফলে পরিবেশ ও জনবসতির নিরাপত্তা বিপন্ন হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৭ কোটি টাকার তীর রক্ষা বাঁধ এবং ৪ কোটি টাকার সিল্ট ট্র্যাপ ঘেঁষে অবৈধভাবে ১৫-২০ ফুট গভীর খাল খনন করা হয়েছে, যা বাঁধের স্থিতিশীলতা বিপন্ন করেছে।
- 📌 ১১ লাখ ঘনফুট বালু নিলামে বিক্রি হওয়ার পরও, প্রভাবশালী চক্র ২০০ মিটারের মধ্যে সিল্ট ট্র্যাপের নিচে এবং বাঁধের নিকটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে।
- 📌 জয়নাল আবেদীন ইজারার বালু সরিয়ে নিয়েছেন বলে দাবি করলেও, স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, অনিয়মিতভাবে বালু উত্তোলন চলছে এবং প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
- 📌 ১০ জনেরও বেশি বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন যে, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে এবং প্রশাসন তাদের অভিযোগের গুরুত্ব দিচ্ছে না।
- 📌 ২৪ ঘণ্টা দিনরাত ভারী ট্রাক দিয়ে বালু পরিবহনের কারণে সেচ প্রকল্পের সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
📰 বিস্তারিত
নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা সেচ প্রকল্পের সিল্ট ট্র্যাপ এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে এলাকার নিরাপত্তা বিপন্ন হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ৭ কোটি টাকার বাঁধ এবং ৪ কোটি টাকার সিল্ট ট্র্যাপ নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে, চুক্তি অনুযায়ী বালু উত্তোলন করা হয়েছিল সিল্ট ট্র্যাপের নিকটে। কিন্তু, স্থানীয় ঠিকাদার জয়নাল আবেদীন ইজারা পেয়েছিলেন এবং নিলামে বিক্রি হওয়া ১১ লাখ ঘনফুট বালু সরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল।
তবে, স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন যে, প্রভাবশালী চক্র আইন ভঙ্গ করে বালু উত্তোলন করছে। তারা বলেছেন, ১০ মিটার দূরত্বের মধ্যে বাঁধের নিকটে ১৫-২০ ফুট গভীর খাল খনন করা হয়েছে, যা বাঁধের স্থিতিশীলতা বিপন্ন করেছে। ২০০ মিটারের মধ্যে তিস্তা ব্যারাজ এবং সরকারি পরিদর্শন বাংলো থেকে বালু উত্তোলন চলছে।
জাহের আলী, লুৎফর রহমান, মাসুদসহ অন্তত ১০ জন বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন যে, তারা লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং ইউএনও অফিসে, কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা বলেছেন, প্রশাসন তাদের কথা শোনে না এবং প্রভাবশালী চক্র তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করছে।
অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে ২৪ ঘণ্টা দিনরাত ভারী ট্রাক দিয়ে বালু পরিবহন চলছে, যা সেচ প্রকল্পের সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এছাড়াও, পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হয়েছে।
"কাকে বলব, কেউ কথা শোনে না। বাঁধের নিচ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু ও মাটি তোলা হলে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ধসে নদীর আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে।"
ডালিয়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেছেন, বাঁধের নিচ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু ও মাটি তোলা হলে বাঁধের স্থিতিশীলতা বিপন্ন হতে পারে এবং বড় ধরনের ভাঙন ঘটতে পারে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নীলফামারীর ডিমলা, তিস্তা নদীর তীর, রংপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাহের আলী, লুৎফর রহমান, মাসুদ, জয়নাল আবেদীন, অমিতাভ চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ কোটি টাকা (বাঁধ), ৪ কোটি টাকা (সিল্ট ট্র্যাপ), ১১ লাখ ঘনফুট (বালু), ২০০ মিটার (বাঁধের নিকট), ১৫-২০ ফুট (গভীর খাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!