📌 মাদারীপুরের শিবচর ও রাজবাড়ীতে পদ্মা নদী এবং পটুয়াখালীর তেঁতুলিয়া নদীতে সরকারের ২২ দিনের ইলিশ শিকার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবৈধভাবে মা ইলিশ শিকার ও বিক্রি চলছে। নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে জারি করা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও জেলেরা অবাধে মাছ ধরছে এবং প্রকাশ্যে বিক্রি করছে
মাদারীপুরের শিবচর ও রাজবাড়ীতে পদ্মা নদী এবং পটুয়াখালীর তেঁতুলিয়া নদীতে সরকারের ২২ দিনের মা ইলিশ শিকার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবৈধভাবে মাছ শিকার ও বিক্রি চলছে। নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে মৎস্য অধিদপ্তর ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, কিন্তু জেলেরা অবাধে মাছ ধরে প্রকাশ্যে বিক্রি করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পদ্মা ও তেঁতুলিয়া নদীতে অবৈধভাবে মা ইলিশ শিকার ও বিক্রি চলছে, সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে
- 📌 মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাজিরসূরা ও চরজানাজাত এলাকায় পদ্মার পাড়ে প্রতিদিন ইলিশ বিক্রির অস্থায়ী হাট গড়ে ওঠে
- 📌 ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও মৌসুমি জেলেরা অবাধে মাছ শিকার করছে
- 📌 রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীর বিভিন্ন এলাকায় দিনের আলোতেই ইলিশ বিক্রির হাট গড়ে ওঠে
- 📌 পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জেলেরা মাছ শিকার করছে
- 📌 মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, জনবলসংকটের কারণে নজরদারি সম্পূর্ণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়
📰 বিস্তারিত
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বন্দরখোলা ইউনিয়নের কাজিরসূরা এবং চরজানাজাত ইউনিয়নের হীরাখার বাজারসংলগ্ন পদ্মার পাড়ে প্রতিদিন দেদার বিক্রি হচ্ছে মা ইলিশ। এই ইলিশগুলো পদ্মা থেকে ধরে নৌকায় করে তীরে আনা হয়। পেটে ডিমভর্তি ইলিশ কিনতে প্রতিদিন সকাল এবং বিকেলে পদ্মার চরাঞ্চলে শত শত ক্রেতা আসছেন। গত শনিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, কাজিরসূরা বাজারের পাশেই বসেছে ইলিশের অস্থায়ী হাট। নদীর পাড়ে একের পর এক ট্রলার এসে ভিড়ছে এবং ট্রলারে বসেই জেলেরা ইলিশ বিক্রি করছেন। অবৈধভাবে শিকার করার কারণে তুলনামূলকভাবে কম দামে বিক্রি করা হয় এসব ইলিশ, ফলে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায় এখানে।
মাদারীপুরের বাসিন্দারা জানান, রাতে ধরা ইলিশ ভোর থেকে বিক্রি শুরু হয়। ফজরের আজানের পরপরই মানুষের সমাগম বাড়তে থাকে। সকাল ৮-৯টার মধ্যে সকালের হাট ভেঙে যায়। এরপর দিনে যে মাছ ধরা হয়, তা নিয়ে আসরের পর বিক্রি শুরু হয়। চলে রাত ৮-৯টা পর্যন্ত। এছাড়াও পদ্মা নদীর বিভিন্ন চর এলাকায় রাতেও মাছ পাওয়া যায়। ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে আসা সুলতানা বেগম নামের এক প্রবাসীর স্ত্রী বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে এই সময় পদ্মার তাজা ইলিশ পাওয়া যায়। এগুলো বরফ দেওয়া থাকে না, তাই কিনতে আসি।’
রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীর বিভিন্ন এলাকায় দিনের আলোতেই ইলিশ বিক্রির হাট গড়ে ওঠে। জেলার সদর উপজেলার উড়াকান্দা, গোদারবাজার ও মেছোঘাটা এবং গোয়ালন্দ উপজেলার অন্তার মোড়, কুশাহাটা ও কলারবাগান এলাকায় ইলিশ ধরা ও বিক্রি দেখা যাচ্ছে। সদর উপজেলার জেলে বাবু বলেন, ‘প্রকৃত জেলেরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ শিকার করছেন না। তবে মৌসুমি জেলেরা এ সময় অবাধে মাছ শিকার করছে। এতে প্রকৃত জেলেদের পাশাপাশি মা ইলিশ সংরক্ষণের উদ্যোগও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবাধে মা ইলিশ শিকার চলছে। নদীর বিভিন্ন স্থানে ট্রলার নিয়ে জেলেদের মাছ ধরতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পর দিন প্রকাশ্যে মাছ শিকার চললেও সব এলাকায় প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি নেই। গত শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে তেঁতুলিয়া নদীর চরব্যারেট এলাকায় বহু নৌকায় জেলেদের মাছ শিকার করতে দেখা যায়। সকাল থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত চলে এই জাল তোলাফেলা।
"রাতে ধরা ইলিশ ভোর থেকে বিক্রি শুরু হয়। ফজরের আজানের পরপরই মানুষের সমাগম বাড়তে থাকে। সকাল ৮-৯টার মধ্যে সকালের হাট ভেঙে যায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পদ্মা নদী (মাদারীপুরের শিবচর ও রাজবাড়ী), তেঁতুলিয়া নদী (পটুয়াখালীর বাউফল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুলতানা বেগম (প্রবাসীর স্ত্রী), জেলেরা, মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে মিজান, জেলে বাবু, মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ার ইসলাম পাইলট, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুব উল হক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ দিন (নিষেধাজ্ঞা), ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর (নিষেধাজ্ঞা সময়কাল), ১১ দিন (নিষেধাজ্ঞার শেষ হওয়া)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!