📌 দেশে কৃমির সংক্রমণ শহুরে বস্তি ও গ্রামাঞ্চলে প্রায় ৩৯ শতাংশ থেকে ৪১ শতাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত। সরকারি উদ্যোগে নিয়মিত কৃমিনাশক অভিযান চালালেও অনেকেই ওষুধ খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে অবগত নন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই বছরের বেশি বয়সী সবাই প্রতি তিন-চার মাস অন্তর কৃমির চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
দেশের শহুরে বস্তি ও গ্রামীণ এলাকায় কৃমির সংক্রমণের হার প্রায় ৩৯ শতাংশ থেকে ৪১ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে বলে সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে। সরকার ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত নিয়মিত কৃমিনাশক অভিযানের ফলে এই হার আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পূর্বে কৃমির প্রকোপ ছিল প্রায় ৮০ শতাংশের কাছাকাছি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দেশে শহুরে বস্তি ও গ্রামাঞ্চলে কৃমির সংক্রমণ প্রায় ৩৯ শতাংশ থেকে ৪১ শতাংশ
- 📌 সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত কৃমিনাশক অভিযানের ফলে প্রকোপ কমেছে
- 📌 দুই বছরের বেশি বয়সী শিশুসহ পরিবারের সবাইকে প্রতি তিন-চার মাস অন্তর কৃমির চিকিৎসা নিতে হবে
- 📌 অন্তঃসত্ত্বা, স্তন্যদানকারী মা ও গর্ভধারণের চেষ্টাকারী নারীদের কৃমির ওষুধ দেওয়া যাবে না
- 📌 অ্যালবেনডাজল বড়ি তিন মাস পরপর একবার অথবা প্রয়োজনে ৭-১৪ দিন পর পুনরায় খেতে হবে
📰 বিস্তারিত
কৃমির সংক্রমণ শুধু শিশুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি পরিবারের সব সদস্যকেই প্রভাবিত করতে পারে। কৃমি একজনের কাছ থেকে অন্যজনে সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে কৃমির চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দেন। কৃমির সংক্রমণের লক্ষণ হিসেবে খাওয়ার রুচি কমে যাওয়া, বমি বমি ভাব, ওজন হ্রাস, পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া এবং শিশুদের মলদ্বারে চুলকানি দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে অন্ত্রে ক্ষত সৃষ্টি হয়ে রক্তপাত বা রক্তশূন্যতাও হতে পারে।
কৃমি সংক্রমণের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে নোংরা পরিবেশ, অনিরাপদ পানি পান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং খালি পায়ে হাঁটা। এছাড়া অপরিষ্কার হাতে খাবার গ্রহণও কৃমির বিস্তারে ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর নখ বড় রাখা যাবে না, নিয়মিত ঘরবাড়ি পরিষ্কার করতে হবে এবং খাবার ও পানি অবশ্যই বিশুদ্ধ হতে হবে। খাওয়ার আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
কৃমির চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের মধ্যে রয়েছে অ্যালবেনডাজল ও মেবেনডাজল। দুই বছরের বেশি বয়সী শিশুসহ পরিবারের সবাইকে প্রতি তিন-চার মাস অন্তর কৃমির চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। তবে অন্তঃসত্ত্বা, স্তন্যদানকারী মা ও গর্ভধারণের চেষ্টাকারী নারীদের ক্ষেত্রে এই ওষুধ দেওয়া যাবে না। অ্যালবেনডাজল সাধারণত খাবারের সঙ্গে খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়, অন্যদিকে মেবেনডাজল খাবারের সঙ্গে বা খাবার ছাড়াও খাওয়া যেতে পারে।
"কৃমির সংক্রমণ প্রতিরোধে নিয়ম মেনে ওষুধ খেলে আর সহজ কিছু উপায় মেনে চললে সহজেই কৃমি দূর করা সম্ভব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দেশের শহুরে বস্তি ও গ্রামীণ এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিশু, কিশোর ও পরিবারের সদস্যরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৯ শতাংশ, ৪১ শতাংশ, ৮০ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!