📌 দুর্যোগ মোকাবিলায় কাজের সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার শিগগিরই সব এনজিওর সঙ্গে বৈঠক করবে বলে জানিয়েছেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে চলমান ‘সুরক্ষা’ প্রকল্পের মাধ্যমে ১.৫ লাখ মানুষকে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হবে
দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে কাজের সমন্বয় বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন জানিয়েছেন, দুর্যোগের আগাম প্রস্তুতি ও সতর্কবার্তার কারণে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। তবে এনজিওগুলোর মধ্যে কাজের পুনরাবৃত্তি ও সমন্বয় ঘাটতি রয়েছে। এই সমস্যা দূর করতে সরকার শিগগিরই সব এনজিওর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন ঘোষণা করেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার সব এনজিওর সঙ্গে বৈঠক করবে।
- 📌 ৩৮ শতাংশ মানুষ আগাম সতর্কবার্তা পায় ভয়েস মেসেজে, ৬২ শতাংশ মাইকিংয়ের মাধ্যমে।
- 📌 ৮১ শতাংশ মানুষ সতর্কবার্তা পেয়ে আগাম প্রস্তুতি নেয়, কিন্তু ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা দাবি করে পাহাড়ি এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হয়।
- 📌 ৯০-৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পাঁচ দিনের পূর্বাভাস কার্যকর প্রমাণিত।
- 📌 দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও পার্বত্য চট্টগ্রামের ১.৫ লাখ মানুষকে ‘সুরক্ষা’ প্রকল্পের আওতায় আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হবে।
- 📌 পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু বলেন, ঐতিহ্যবাহী পরিবেশবান্ধব জ্ঞান ব্যবহার করে বাড়ি তৈরি করলে ভূমিধসের ক্ষতি কমে।
📰 বিস্তারিত
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন আয়োজিত ‘সুরক্ষা’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেন, দেশে অনেক এনজিও একই ধরনের কাজ করে। এতে কাজের ওভারল্যাপিং হয়ে যায় এবং সরকারও সব সময় জানতে পারে না কে কোথায় কী কাজ করছে। তিনি বলেন, সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীরা সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারলে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি রোধে আরও ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু বলেন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মানুষ ঐতিহ্যবাহী পরিবেশবান্ধব জ্ঞান কাজে লাগিয়ে বাড়ি তৈরি করেন বলে সেখানে ভূমিধসের ক্ষতি তুলনামূলক কম হয়। তিনি বলেন, অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কেটে বাড়িঘর করার কারণে বেশি ক্ষতির শিকার হয়। তিনি দাবি করেন, কৃত্রিম কাঠামোর বদলে পাহাড়ের নিজস্ব উপাদান ব্যবহার করে টেকসই ‘প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান’ গ্রহণ করা দরকার। প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান বজায় রেখেই দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দারা আকস্মিক বন্যা, অতিবৃষ্টি ও ভূমিধসের মতো উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন। জুন ২০২৬ থেকে মে ২০২৮ পর্যন্ত চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে ‘সুরক্ষা–স্কেলিং আপ মাল্টি-হ্যাজার্ড অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন’ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে ওই অঞ্চলের প্রায় ১.৫ লাখ মানুষকে আগাম সতর্কবার্তা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির আওতায় আনা হবে।
প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত একটি জরিপের তথ্য অনুযায়ী, আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার ক্ষেত্রে ৩৮ শতাংশ মানুষ সরাসরি ভয়েস মেসেজে এবং ৬২ শতাংশ মানুষ মাইকিংয়ের মাধ্যমে তথ্য পেয়েছেন। এসব বার্তা পেয়ে প্রায় ৮১ শতাংশ মানুষ আগাম প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন। তবে দুর্যোগের সময় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রায় ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা।
অনুষ্ঠানে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, অধিদপ্তরের দেওয়া পাঁচ দিনের পূর্বাভাস বর্তমানে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে। তিনি বলেন, এটি দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি নিতে এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বড় ভূমিকা রাখছে।
"দেশে অনেক এনজিও একই ধরনের কাজ করে। এতে কাজের ওভারল্যাপিং হয়ে যায় এবং সরকারও সব সময় জানতে পারে না কে কোথায় কী কাজ করছে। সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারলে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি রোধে আরও ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।"
"পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মানুষ ঐতিহ্যবাহী পরিবেশবান্ধব জ্ঞান কাজে লাগিয়ে বাড়ি তৈরি করেন বলে সেখানে ভূমিধসের ক্ষতি তুলনামূলক কম হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানী, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, পার্বত্য চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এম ইকবাল হোসেইন, সাচিং প্রু, মো. মমিনুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৮%, ৬২%, ৮১%, ৪৫%, ৯০-৯৫%, ১.৫ লাখ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!