📌 রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার গোলজার হোসেন মাত্র ১৪টি তেজপাতার চারা দিয়ে শুরু করেছিলেন জীবনযুদ্ধ। আজ তাঁর হাত ধরে এলাকার হাজারো চাষির ভাগ্য বদলে গেছে। উপজেলার ৮৮৩ হেক্টর জমিতে তেজপাতার চাষ হচ্ছে, যা হয়ে উঠেছে শতাধিক পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রতীক
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার গোলজার হোসেনের জীবনযুদ্ধ শুরু হয়েছিল চতুর্থ শ্রেণির গণ্ডি পেরোনোর আগেই। অন্যের বাড়িতে গরু-ছাগল পালন থেকে শুরু করে দিনমজুরির কাজ করে কোনোরকমে দিনাতিপাত করেছেন তিনি। কিন্তু মাত্র ১৪টি তেজপাতার চারা তাঁর জীবনে এনেছে আমূল পরিবর্তন। আজ তিনি এলাকার শতাধিক পরিবারের ভাগ্যবদলের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গোলজার হোসেনের জীবনযুদ্ধ শুরু হয়েছিল চতুর্থ শ্রেণির আগেই অন্যের বাড়িতে কাজ করে।
- 📌 মাত্র ১৪টি তেজপাতার চারা দিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁর জীবনের মোড় পরিবর্তন।
- 📌 কাউনিয়া উপজেলার ৮৮৩ হেক্টর জমিতে এখন তেজপাতার চাষ হচ্ছে।
- 📌 উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে টেপামধুপুর ইউনিয়নের ৯৫ শতাংশ মানুষ তেজপাতা চাষের সঙ্গে জড়িত।
- 📌 গোলজার হোসেনের হাত ধরে এলাকায় তেজপাতা হয়ে উঠেছে মসলা চাষের প্রধান মাধ্যম।
- 📌 তাঁর বার্ষিক আয় এখন চার লাখ টাকা, যা তাঁকে দিয়েছে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা।
📰 বিস্তারিত
গোলজার হোসেনের জন্ম ১৯৬৩ সালে। মাত্র আট বছর বয়সে হারান বাবাকে। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই অন্যের বাড়িতে গরু-ছাগল পালন ও দিনমজুরির কাজ করতে বাধ্য হন তিনি। পরবর্তীতে কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন বছরের পর বছর। ২২ বছর বয়সে মায়ের মৃত্যু তাঁকে আরও বেশি বিপর্যস্ত করে তোলে। জীবনের এমন সংকটময় মুহূর্তে তিনি বিভিন্ন মানুষের পরামর্শে মসলা চাষের দিকে ঝুঁকেন।
২০০৩ সালের দিকে কাউনিয়া থেকে বগুড়ায় যাওয়ার সময় তিনি কৌতূহলবশত ১৪টি তেজপাতার চারা কিনে আনেন। নিজের উঠানের এক কোণে সেগুলো রোপণ করেন। দুই বছরের মাথায় তেজপাতা বিক্রি করে পাঁচ হাজার টাকা আয় করেন তিনি। সেই টাকা দিয়ে ইজারা নেন ৮০ শতক জমি এবং লাগান ১০০টি তেজপাতার চারা। গাছের ফাঁকে ফাঁকে আদা ও হলুদ চাষ শুরু করেন। স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে মিলে এই চাষাবাদে মনোনিবেশ করেন তিনি।
গোলজার হোসেনের তেজপাতা চাষের মান এতটাই ভালো ছিল যে দেশের বড় বড় কোম্পানিগুলো তাঁর কাছ থেকে তেজপাতা কিনতে শুরু করে। এলাকায় তেজপাতা চাষের প্রসার ঘটতে থাকে। টেপামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হানিফ আলী জানান, এলাকার ৯৫ শতাংশ মানুষ এখন তেজপাতা চাষের সঙ্গে জড়িত। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম বলেন, গোলজার হোসেনের অনুপ্রেরণায় অনেকেই তেজপাতা চাষ শুরু করেছেন।
বর্তমানে গোলজার হোসেন দুই একর জমিতে মসলা চাষ করছেন। খরচ বাদে তাঁর বার্ষিক আয় চার লাখ টাকা। এই আয় দিয়ে তিনি জমি কিনেছেন, বাড়ি নির্মাণ করেছেন এবং পরিবারের সদস্যদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করেছেন। তাঁর দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন এবং ছেলেকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দিয়েছেন। নিজের বাড়ির চারপাশে আম, কাঁঠাল, সুপারি গাছ লাগিয়েছেন। মাছ চাষের জন্য পুকুর খনন করেছেন। দুইটি গাভি ও ছয়টি ছাগল পালন করছেন তিনি।
"রোদ, ঝড়বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দিনমজুরের কাজ করেছি। স্ত্রী-সন্তানদের জন্য তিন বেলা খাবার জোগাড় করতে পারতাম না। তেজপাতার চাষে আমার জীবন বদলে গেছে। গ্রামের অন্যদেরও তেজপাতা চাষের পরামর্শ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তুলতে কাজ করছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কাউনিয়া উপজেলা, রংপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গোলজার হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪টি চারা, ৮৮৩ হেক্টর জমি, ৯৫ শতাংশ পরিবার, চার লাখ টাকা আয়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!