📌 জিআই স্বীকৃতি পেলেও নারায়ণগঞ্জের জামদানি শিল্পের সংকট অব্যাহত। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, দক্ষ তাঁতির অভাব, মেশিনে তৈরি নিম্নমানের কাপড়ের প্রতিযোগিতা এবং ক্রেতা কমে যাওয়ায় শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ। ৩ হাজার ৯৮৪টি ইউনিটে ১৪ হাজার ৭৯৩ জন তাঁতি কর্মরত, কিন্তু সরকারি সহায়তা ও আর্থিক সমস্যার কারণে পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁতিরা
নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জামদানি শিল্প জিআই স্বীকৃতি পেলেও সংকটের গভীরে ডুবে পড়েছে। প্রাচীন বস্ত্রশিল্পের এই ঐতিহ্য বহনকারী অঞ্চলে শত শত বছর ধরে হাতে বোনা হচ্ছে জামদানি, কিন্তু উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, দক্ষ তাঁতির অভাব, মেশিনে তৈরি নিম্নমানের কাপড়ের প্রতিযোগিতা এবং ক্রেতা কমে যাওয়ায় শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নারায়ণগঞ্জে বর্তমানে ৩ হাজার ৯৮৪টি তাঁত ইউনিট রয়েছে, যেখানে ৯ হাজার ৬৩৯টি তাঁত এবং ১৪ হাজার ৭৯৩ জন তাঁতি সরাসরি জড়িত।
- 📌 জামদানি শাড়ির দাম ৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত, কিন্তু ক্রেতা কমে যাওয়ায় ব্যবসা আগের অবস্থায় নেই।
- 📌 মেশিনে তৈরি নিম্নমানের কাপড়ের প্রতিযোগিতা এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে অনেক তাঁতি পেশা বদল করছেন।
- 📌 জামদানি তৈরিতে সময় ও শ্রম বেশি লাগে, কিন্তু কারিগররা সেই অনুপাতে পারিশ্রমিক পান না।
- 📌 ডেমরা জামদানি হাটে ঈদ মৌসুমেও বিক্রি ৩০ শতাংশ কমেছে, ক্রেতা কমে যাওয়ায় ব্যবসায়িক সংকট বাড়ছে।
📰 বিস্তারিত
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ, রূপগঞ্জ ও শীতলক্ষ্যা তীরবর্তী অঞ্চলে শত শত বছর ধরে হাতে বোনা হচ্ছে জামদানি। এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পের সঙ্গে জড়িত ১৪ হাজার ৭৯৩ জন তাঁতি। তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, দক্ষ তাঁতির অভাব, মেশিনে তৈরি নিম্নমানের কাপড়ের প্রতিযোগিতা এবং ক্রেতা কমে যাওয়ায় শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সোনারগাঁয়ের ইতিহাসের সঙ্গে জামদানি শিল্পের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের কারুপণ্য চত্বরে এখনো জামদানি শাড়ি ও কাপড় বিক্রি হচ্ছে। কারুপল্লিতে এখনো কয়েকজন কারিগর তাঁতে বসে জামদানি বুনছেন। তাঁদের কাছে এই পেশা কেবল জীবিকার মাধ্যম নয়, বরং পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ। কারুপল্লির তাঁতি মো. মামুন মিয়া বলেন, তিন পুরুষ ধরে তাঁদের পরিবার জামদানি তৈরির সঙ্গে যুক্ত। তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে এই কাজ করছেন। তার মতে, জামদানির চাহিদা এখনো রয়েছে, তবে তাঁতিদের সহজ শর্তে ক্ষুদ্রঋণসহ সরকারি সহায়তা দেওয়া হলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।
সোনারগাঁয়ের স্বর্ণলতা জামদানি কুঠিরের স্বত্বাধিকারী মো. আবু তাহের ১৯৭২ সাল থেকে জামদানি তৈরি করছেন। তার তৈরি শাড়ি একসময় লন্ডন, যুক্তরাষ্ট্র, কলকাতা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হতো। তবে ২০২৪ সালের পর থেকে বিদেশে পাঠানো প্রায় বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে তার বিক্রির বড় অংশই নির্ভর করছে সোনারগাঁয়ের লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে আসা দর্শনার্থীদের ওপর। আবু তাহের বলেন, হাতে তৈরি জামদানি শাড়ির দাম ৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত। কিন্তু ক্রেতা কমে যাওয়ায় ব্যবসা আগের অবস্থায় নেই। তিনি মনে করেন, প্রকৃত কারিগর ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহজ কিস্তিতে ঋণ দেওয়া হলে অনেক পরিবার এই পেশা ধরে রাখতে পারবে।
তাঁতিদের ভাষ্য, হাতে তৈরি জামদানির উৎপাদন ব্যয় ও সময় দুটোই বেশি হওয়ায় মেশিনে তৈরি কম দামের কাপড়ের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা করা কঠিন। ফলে প্রকৃত কারিগররা ক্রমেই বাজার হারাচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ের জামদানি শিল্পের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে যুক্ত ডেমরা জামদানি হাট। প্রায় সাড়ে ৪০০ বছরের পুরোনো এই হাট দেশের প্রাচীন হাটগুলোর একটি। শীতলক্ষ্যা তীরের জামদানি ব্যবসায়ীদের জন্য এখনো এটি গুরুত্বপূর্ণ বেচাকেনার কেন্দ্র। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ হাটেও ক্রেতা কমেছে। ঈদকে কেন্দ্র করেও আশানুরূপ বিক্রি হচ্ছে না। ১০ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দিয়েও বিক্রি বাড়ানো যাচ্ছে না। রূপগঞ্জের জামদানি ব্যবসায়ী মো. হামিদুল্লাহ বলেন, আগে ঈদ সামনে রেখে সারা দেশের দোকানিদের চাহিদা মেটাতে তাঁতিদের নিয়ে রাতদিন কাজ করতে হতো।
"জামদানির চাহিদা এখনো রয়েছে। তবে তাঁতিদের সহজ শর্তে ক্ষুদ্রঋণসহ সরকারি সহায়তা দেওয়া হলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।" — মো. মামুন মিয়া, কারুপল্লির তাঁতি
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নারায়ণগঞ্জ (সোনারগাঁ, রূপগঞ্জ, শীতলক্ষ্যা), ডেমরা জামদানি হাট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. মামুন মিয়া, মো. আবু তাহের, মো. হামিদুল্লাহ, ১৪ হাজার ৭৯৩ জন তাঁতি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ হাজার ৯৮৪টি ইউনিট, ৯ হাজার ৬৩৯টি তাঁত, ১৪ হাজার ৭৯৩ জন তাঁতি, ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৯০ হাজার টাকা (জামদানি শাড়ির দাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!