📌 গ্যাসের মারাত্মক সংকটে রাজধানীর মিরপুরের আমতলা এলাকার আট পরিবারের রান্নাঘরে চলছে দুর্ভোগ। একই চুলায় পালা করে রান্না করতে গিয়ে নারীদের দিন পার হচ্ছে কয়েক ঘণ্টা ধরে। সিএনজি স্টেশনগুলোতেও গ্যাসের অভাবে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে চালকদের
মিরপুরের আমতলা এলাকার টিনের ছাউনির একটি ঘরে অবস্থিত আটটি পরিবারের জন্য রান্নাঘরটি যেন পরিণত হয়েছে দুর্ভোগের কেন্দ্রবিন্দুতে। একটি মাত্র গ্যাস সংযোগ থেকে দুটি চুলায় পালা করে রান্না করতে গিয়ে প্রতিদিনই কয়েক ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হচ্ছে এসব পরিবারের নারীদের। গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে এক পরিবারের রান্না শেষ করতে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে পরের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মিরপুরের আমতলা এলাকার একটি ঘরে অবস্থিত আটটি পরিবারের জন্য রয়েছে একটি মাত্র রান্নাঘর
- 📌 গ্যাসের চাপ কম থাকায় এক পরিবারের রান্না শেষ করতে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে
- 📌 গৃহিণী শিরিন বেগম জানান, গ্যাসের চাপ কম থাকায় পানি গরম করে তারপর ভাত রান্না করতে হচ্ছে
- 📌 রেশমা বেগম জানান, সকাল আটটায় রান্না শুরু করে বেলা ১১টার দিকে শেষ করেছেন
- 📌 গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন বাইরে কাজে যাওয়া নারীরা
- 📌 ফাহিমা আক্তার জানান, আগের তুলনায় এখন ৩০ শতাংশ গ্যাসও পাওয়া যায় না
- 📌 সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে, যেখানে চালকদের কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে
- 📌 মিরপুর সিরামিকস রিফুয়েলিং অ্যান্ড কনভারশন সেন্টারে গ্যাসের চাপ সর্বোচ্চ ৭০ পাওয়া যাচ্ছে, যা গত কয়েক দিনের তুলনায় কম
📰 বিস্তারিত
আমতলা এলাকার টিনের ঘরটিতে অবস্থিত রান্নাঘরে আটটি পরিবারের নারীরা পালা করে রান্না করেন। গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে এক পরিবারের রান্না শেষ করতে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। শিরিন বেগম নামের এক গৃহিণী জানান, তিনি বেলা ১১টার দিকে রান্না শুরু করলেও দেড় ঘণ্টা পরেও একটি পদ শেষ করতে পারেননি। তাঁর মতে, গ্যাসের চাপ কম থাকায় সরাসরি ভাত রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। আগে পানি গরম করে তারপর চাল দিয়ে ভাত রান্না করতে হচ্ছে।
রেশমা বেগম নামের আরেক গৃহিণী জানান, তিনি সকাল আটটায় রান্না শুরু করে বেলা ১১টার দিকে শেষ করেছেন। তাঁর মতে, গ্যাসের সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন বাইরে কাজে যাওয়া নারীরা। তিনি বলেন, ‘আমরা তো ঘরে থাকি, আস্তেধীরে রান্না করি। কামে যাওয়া মাইয়াগো কষ্ট বেশি। ভোর চাইরটা থেকে উইঠা রানদা লাগে। অনেক সময় চুলাই জ্বলে না, গ্যাস কম থাহে, ভাত-তরকারি পাকে না।’
ফাহিমা আক্তার নামের আরেক বাসিন্দা জানান, আগে দুপুর ১২টার দিকে রান্না বসালে বেলা একটা থেকে দেড়টার মধ্যে রান্না শেষ হয়ে যেত। এখন আগের তুলনায় ৩০ শতাংশ গ্যাসও পাওয়া যায় না। দুই চুলা একসঙ্গে জ্বালানো যায় না। একটি চুলা বন্ধ রাখলে অন্যটিতে কিছুটা গ্যাস আসে। ফলে সকালের নাশতা শেষ করেই সকাল ১০টার দিকে দুপুর ও রাতের রান্না শুরু করতে হয় বলে জানান তিনি।
সিএনজি স্টেশনগুলোতেও গ্যাসের সংকটের প্রভাব স্পষ্ট। মিরপুর সিরামিকস রিফুয়েলিং অ্যান্ড কনভারশন সেন্টারের ডিসপেনসার অপারেটর মোহাম্মদ আকাশ জানান, আজ গ্যাসের চাপ গত কয়েক দিনের তুলনায় আরও কম। গত কয়েক দিন চাপ ছিল ৮০ থেকে ৯০, আজ সর্বোচ্চ পাওয়া যাচ্ছে ৭০। এই চাপে ৬০ কেজির একটি সিলিন্ডারে ১৮০ থেকে ২০০ টাকার গ্যাস ভরতে তিন থেকে চার মিনিট সময় লাগে বলে জানান তিনি। প্রতিটি ডিসপেনসারিতে দুটি সংযোগ থাকলেও একসঙ্গে দুটি গাড়িতে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে না। কারণ, দুটি গাড়িতে একসঙ্গে গ্যাস দিলে চাপ আরও কমে যায়।
‘সরকার গ্যাস বন্ধ করলে একেবারে বন্ধ করে দিক। এই যন্ত্রণা আর ভালো লাগে না। অল্প অল্প গ্যাস নিয়া কিছুই হয় না। না চালানো যায় গাড়ি, না হয় রোজগার, না থাকে মালিকের পয়সা।’ — ফাহিমা আক্তার
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিরপুর, আমতলা, রাজধানী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিরিন বেগম, রেশমা বেগম, ফাহিমা আক্তার, মোহাম্মদ আকাশ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮টি পরিবার, ৩০ শতাংশ গ্যাস সংকট, ৭০ গ্যাস চাপ, ৬০ কেজির সিলিন্ডার, ১৮০ থেকে ২০০ টাকার গ্যাস
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!