📌 গাজীপুরের সচেতন নাগরিকরা ১৪ বছরের অপেক্ষায় থাকা গাজীপুর-এয়ারপোর্ট বিআরটি প্রকল্পের দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, প্রকল্পের ৯৭% কাজ শেষ হলেও অবকাঠামো ভেঙে ফেলা না করে সংস্কার করে দ্রুত চালু করতে হবে। বিলম্বের কারণে শিল্প-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানে বিপর্যয় হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে
গাজীপুরের সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ১৪ বছরের অপেক্ষায় থাকা গাজীপুর-এয়ারপোর্ট বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, প্রকল্পের প্রায় ৯৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও অবকাঠামো ভেঙে ফেলা বা পরিত্যক্ত না রেখে প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে দ্রুত চালু করতে হবে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি তুলে ধরা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাজীপুর-এয়ারপোর্ট বিআরটি প্রকল্পের ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ হলেও দ্রুত চালুর দাবি জানানো হয়েছে
- 📌 প্রকল্প বিলম্বের কারণে গাজীপুর ও ঢাকার মধ্যে যানজট বাড়ছে, কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে এবং শিল্প-বাণিজ্যের সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে
- 📌 সাত দফা দাবিতে রয়েছে প্রকল্পের কারিগরি ও অর্থনৈতিক মূল্যায়ন প্রকাশ এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা
- 📌 ড্যাপ, ডিটিসিএ ও জিসিসি অনুমোদিত সালনা-উত্তরা দৌড় এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণেরও দাবি করা হয়েছে
- 📌 প্রকল্পের সিদ্ধান্তে স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাব থাকতে পারে বলে অভিযোগ করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
গাজীপুর, যা বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জনবহুল এলাকা, রাজধানী ঢাকার কাছাকাছি হলেও দুর্বল গণপরিবহন ব্যবস্থার কারণে প্রতিদিন হাজারো মানুষকে দীর্ঘ সময় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বক্তারা বলেছেন, এই বিলম্বের কারণে কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, উৎপাদনশীলতা কমছে এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। এছাড়া শিল্প-বাণিজ্যের সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা মনে করেন, গাজীপুর-এয়ারপোর্ট বিআরটি প্রকল্প চালু হলে ঢাকা ও গাজীপুরের মধ্যে যাতায়াত সহজ হবে এবং আবাসন, হোটেল, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বক্তারা বলেছেন, প্রকল্পের কারিগরি, পরিচালনাগত বা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় যদি কোনো সমস্যা থাকে, তা চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে। প্রয়োজনে পরিচালন পদ্ধতি পরিবর্তন, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ এবং অন্যান্য গণপরিবহনের সাথে সমন্বয়ের উদ্যোগ নিতে হবে। তারা আরও বলেছেন, প্রকল্পের অবকাঠামো ভেঙে ফেলা বা মূল পরিকল্পনা পরিবর্তন করা গ্রহণযোগ্য নয়।
সংবাদ সম্মেলনে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- বিআরটি দ্রুত চালুর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা
- নির্মিত অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা
- অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করা
- প্রকল্প বাতিল বা মূল পরিকল্পনা পরিবর্তনের আগে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবহন মূল্যায়ন প্রকাশ করা
- রেল, এমআরটি, স্থানীয় বাসসহ অন্যান্য গণপরিবহনের সাথে সমন্বয় করে সমন্বিত পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলা
- গাজীপুরবাসী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ
- বিলম্বের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া
বক্তারা আরও বলেছেন, গাজীপুরের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন শুধু একটি জেলার মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নয়; এর সাথে রাজধানী ঢাকা এবং বৃহত্তর ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের শিল্প, কর্মসংস্থান, অর্থনীতি ও টেকসই উন্নয়ন জড়িত। তাই জনগণের অর্থে নির্মিত অবকাঠামো কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে সরকারের দ্রুত উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
"প্রকল্পের ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ হলেও অবকাঠামো ভেঙে ফেলা বা পরিত্যক্ত না রেখে সংস্কার করে দ্রুত চালু করতে হবে। বিলম্বের কারণে শিল্প-অর্থনীতিতে বিপর্যয় হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজীপুর, ঢাকা, সালনা-উত্তরা দৌড় এক্সপ্রেসওয়ে
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গাজীপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন কায়সার, ডুয়েট অধ্যাপক ড. মো. খসরু মিয়া, প্রকৌশলী মো: সামসুল হক, মুনতাসির মামুন, মো: আব্দুল লতিফ, অধ্যাপক মো: মোখলেসুর রহমান, ফরহাদ হোসাইনসহ অন্যরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ বছর, ৯৭ শতাংশ, ১৭ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!