📌 গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সাগর কলা সংগ্রহের মৌসুম শুরু হলে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা দ্রুত বিক্রি করতে কার্বাইড ব্যবহার করছে। পুষ্টিবিদ ও ভোক্তা অধিকার সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন
গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর, পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সাগর কলা সংগ্রহের মৌসুম শুরু হলে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা দ্রুত বিক্রি করতে কার্বাইড ব্যবহার করছেন। কম দামে পাকা কলা পাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের চাহিদা বেড়েছে, কিন্তু স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাইবান্ধা জেলার বাজারে প্রতি হালি সাগর কলা বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকা
- 📌 কার্বাইড ব্যবহার করে ১২ ঘণ্টায় কাঁচা কলা পাকা হয়ে যাচ্ছে
- 📌 পুষ্টিবিদ মাহফুজা আক্তার মুন্নি বলেছেন, কার্বাইডে আর্সেনিক ও ফসফরাস থাকতে পারে
- 📌 ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে
- 📌 ক্রেতারা নিরাপদ ফল নিশ্চিত করতে চান
📰 বিস্তারিত
গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর, পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সাগর কলা সংগ্রহের মৌসুম শুরু হলে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা দ্রুত বিক্রি করতে কার্বাইড ব্যবহার করছেন। গোবিন্দগঞ্জের ফাঁসিতলা হাটসহ স্থানীয় বাজারগুলোতে প্রতি হালি সাগর কলা বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। তবে সহজলভ্য এই ফল দ্রুত পাকিয়ে বাজারজাত করতে অসাধু ব্যবসায়ীরা কার্বাইড ব্যবহার করছেন।
অনেক ব্যবসায়ী জানান, বাগান থেকে কাঁচা কলা সংগ্রহের পর তারা দ্রুত পাকিয়ে বিক্রি করতে কার্বাইড ব্যবহার করেন। একটি আড়তের মালিক বলেন, ‘আমরা বাগান থেকে কলা এনে বাজারে বিক্রি করি। কলা পাকতে সময় লাগে। দ্রুত বিক্রি করতে পারলে লোকসানের ঝুঁকি কমে। তাই মেডিসিন (ক্যালসিয়াম কার্বাইড) দিয়ে কলা পাকাই। এতে মাত্র বারো ঘণ্টায় কাঁচা কলা পেকে হলুদ হয়।’
শহরের পুরাতন বাজারের আরেক কলা ব্যবসায়ী বলেন, ‘ক্রেতারা পাকা কলা চান। কাঁচা কলা নিয়ে বসে থাকলে অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। তবে নিরাপদ পদ্ধতিতে কলা পাকানোর ব্যবস্থা থাকা দরকার, যাতে ব্যবসায়ীদেরও ক্ষতি না হয় এবং ক্রেতারাও নিরাপদ ফল পান।’
ক্রেতাদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। পুরাতন বাজারে কলা কিনতে আসা মোস্তফা বলেন, ‘কম দামে কলা পাওয়া যায় বলে আমরা কিনি। কিন্তু কলা কীভাবে পাকানো হচ্ছে, তা বোঝার উপায় আমাদের নেই। বাজারে নিরাপদ ফল নিশ্চিত করা হলে সাধারণ মানুষ নিশ্চিন্তে কিনতে পারবে।’
পুষ্টিবিদ ও ডায়েট এক্সপার্ট মাহফুজা আক্তার মুন্নি বলেছেন, ‘ক্যালসিয়াম কার্বাইড দিয়ে ফল পাকানো স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ রাসায়নিকের সঙ্গে আর্সেনিক ও ফসফরাসের মতো ক্ষতিকর দূষক থাকতে পারে। তবে শুধু কলার রং, গন্ধ বা বাহ্যিক চেহারা দেখে কার্বাইড ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায় না। এর জন্য প্রয়োজন যথাযথ পরীক্ষা ও তদন্ত।’
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের গাইবান্ধা জেলার সহকারী পরিচালক পরেশ চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘ফল পাকাতে অননুমোদিত রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। বাজারে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। সাগর কলা পাকাতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আড়ত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোক্তাদেরও এ ধরনের কোনো অনিয়ম চোখে পড়লে অধিদফতরকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।’
"আমরা বাগান থেকে কলা এনে বাজারে বিক্রি করি। কলা পাকতে সময় লাগে। দ্রুত বিক্রি করতে পারলে লোকসানের ঝুঁকি কমে। তাই মেডিসিন (ক্যালসিয়াম কার্বাইড) দিয়ে কলা পাকাই। এতে মাত্র বারো ঘণ্টায় কাঁচা কলা পেকে হলুদ হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাইবান্ধা জেলা (সাদুল্লাপুর, পলাশবাড়ী, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাহফুজা আক্তার মুন্নি (পুষ্টিবিদ), পরেশ চন্দ্র বর্মন (ভোক্তা অধিকার অধিদফতর), মোস্তফা (ক্রেতা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০-১৫ টাকা (প্রতি হালি কলা), ১২ ঘণ্টা (কার্বাইডে পাকার সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!