📌 গাইবান্ধার বীরাঙ্গনা রবিদাস ফুলমতি ৮৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত হওয়া তিনি ২০১৬ সালে বীরাঙ্গনা হিসেবে স্বীকৃতি পান। শুক্রবার তার শেষকৃত্য হবে সাদুল্লাপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার উত্তরপাড়া গ্রামের বীরাঙ্গনা রবিদাস ফুলমতি ৮৪ বছর বয়সে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেছেন। দীর্ঘদিন বার্ধক্য ও শারীরিক জটিলতায় শয্যাশায়ী থাকার পর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের নির্যাতনের শিকার হয়ে বীরাঙ্গনা ফুলমতি স্বাধীনতার পর ৪৫ বছর স্বীকৃতির বাইরে ছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি বীরাঙ্গনা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পান এবং পরবর্তীতে ‘বীর নিবাস’ নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৮৪ বছর বয়সে মারা যান গাইবান্ধার বীরাঙ্গনা রবিদাস ফুলমতি
- 📌 ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদারদের নির্যাতনের শিকার হন ২৮ বছর বয়সে
- 📌 ২০১৬ সালে বীরাঙ্গনা হিসেবে স্বীকৃতি পান, ৪৫ বছর অপেক্ষা করে
- 📌 ‘বীর নিবাস’-এ শয্যাশায়ী থাকার পর মৃত্যুবরণ
- 📌 শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় সাদুল্লাপুরে শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে
- 📌 উপজেলা প্রশাসন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য প্রস্তুতি নিচ্ছে
- 📌 ফুলমতির স্বামী কুশিরাম সরকার ১৯৮৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন
- 📌 পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে এক ছেলে ও এক মেয়ের মৃত্যু হয়েছে
📰 বিস্তারিত
বীরাঙ্গনা ফুলমতি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের নির্যাতনের শিকার হন। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২৮ বছর। স্বাধীনতার পর ৪৫ বছর তিনি স্বীকৃতির বাইরে ছিলেন। ২০১৬ সালের মার্চে তিনি বীরাঙ্গনা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পান। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে তার জন্য চার কক্ষবিশিষ্ট ‘বীর নিবাস’ নির্মাণ করা হয়। জীবনের শেষ সময়ে তিনি সেখানে শয্যাশায়ী ছিলেন। প্যারালাইসিস, ব্রেন স্ট্রোকসহ নানা জটিলতায় তার চলাফেরার ক্ষমতা হারিয়ে যায়। নিজ বাড়িতেই চলছিল তার চিকিৎসা।
ফুলমতির মৃত্যু নিশ্চিত করেন তার ছেলে মনিরাজ কুমার। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে মায়ের শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ও স্যালাইন দেওয়া হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার অবস্থার অবনতি হলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় নিজ বাড়িতে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ আজমী বলেন, ‘শেষ জীবনে ফুলমতি নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন। শেষ দিন পর্যন্ত আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেছেন তিনি। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’ ফুলমতির মৃত্যুতে মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংবাদিক, শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক জানিয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, ফুলমতি শুধু একজন নারী নন, তিনি মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত ইতিহাস।
"শেষ জীবনে ফুলমতি নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন। শেষ দিন পর্যন্ত আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেছেন তিনি। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: উত্তরপাড়া গ্রাম, সাদুল্লাপুর উপজেলা, গাইবান্ধা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রবিদাস ফুলমতি (বীরাঙ্গনা), মনিরাজ কুমার (ছেলে), আব্দুর রশিদ আজমী (বীর মুক্তিযোদ্ধা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৪ বছর (বয়স), ২৮ বছর (মুক্তিযুদ্ধে বয়স), ৪৫ বছর (অপেক্ষা), ২ অক্টোবর (শেষকৃত্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!