📌 গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের বীরাঙ্গনা ফুলমতি (রাজকুমারী রবিদাস) ৮৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দিয়ে তাঁকে বিদায় জানানো হয়। ২০১৬ সালে বীরাঙ্গনা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন তিনি
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের বীরাঙ্গনা ও মুক্তিযুদ্ধের যুদ্ধাহত নারী মুক্তিযোদ্ধা রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতি (৮৪) শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুর আগে প্রায় দুই বছর আগে ব্রেন স্ট্রোকে তাঁর ডান হাত-পা অবশ হয়ে যায় এবং শয্যাশায়ী অবস্থায় ছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দিয়ে গাইবান্ধার বীরাঙ্গনা ফুলমতি (রাজকুমারী রবিদাস) বিদায় পেয়েছেন।
- 📌 ২ অক্টোবর বিকেল ৩টায় সাদুল্লাপুরের উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাঁকে সম্মানিত করা হয়।
- 📌 ৮৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন ফুলমতি। মৃত্যুকালে তাঁর চার ছেলে, এক মেয়ে ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ছিল।
- 📌 ২০১৬ সালে বীরাঙ্গনা ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পান ফুলমতি।
- 📌 ১৯৮৮ সালে স্বামী কুশিরাম সরকার ফসিয়া মৃত্যুর পর তিনি পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে সংগ্রামী জীবন কাটান।
📰 বিস্তারিত
বীরাঙ্গনা ফুলমতি (রাজকুমারী রবিদাস) গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের জামালপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা তাঁকে ধরে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালায়। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর ২০১৬ সালের মার্চে বীরাঙ্গনা ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পান তিনি। ২০১৭ সালে তাঁর জন্য নির্মিত হয় চার কক্ষের ‘বীর নিবাস’।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন ফুলমতি। শুক্রবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হক রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান করেন। সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) হাসান কবীরসহ প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ফুলমতি রানি নামে পরিচিত ছিলেন। লেখক ও গবেষক জহুরুল কাইয়ুম সম্পাদিত ‘হৃদয়ে একাত্তর’ বইয়ে উল্লেখ রয়েছে, পাকিস্তানি বাহিনী তাঁর সামনে স্বামীর বুকে রাইফেল ঠেকিয়ে তাঁকে নির্যাতন চালানোর ঘটনা। অভাব-অনটনের মধ্যেও শেষ দিন পর্যন্ত কারও কাছে সাহায্যের জন্য হাত পাতেননি এই আত্মমর্যাদাশীল নারী।
"ফুলমতি রানি নামে পরিচিত এই বীরাঙ্গনার জন্ম সাদুল্লাপুরের জামালপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা তাঁকে ধরে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সাদুল্লাপুর, গাইবান্ধা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বীরাঙ্গনা ফুলমতি (রাজকুমারী রবিদাস)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৪ বছর বয়স, ২০১৬ সালে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!