📌 সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাইবারম্যাক্সিংয়ের নামে ফাইবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত ফাইবার গ্রহণ বিপজ্জনক হতে পারে। নিয়মিত ফাইবার গ্রহণের পরিমাণ ও উৎস সম্পর্কে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাইবারম্যাক্সিংয়ের নামে নতুন এক খাদ্য প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ওজন কমানো থেকে শুরু করে হার্ট সুস্থ রাখা পর্যন্ত সব সমস্যার সমাধান হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে ফাইবারকে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত ফাইবার গ্রহণ বিপজ্জনক হতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট সুনানা সোহি বলেন, শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদানের ওপর নির্ভর করলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ে
- 📌 নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক রাবিয়া ডি লাটুর জানান, চিকিৎসকরা দীর্ঘদিন ধরে ফাইবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আসছেন
- 📌 মহিলাদের জন্য দৈনিক ২৫ গ্রাম এবং পুরুষদের জন্য ৩৮ গ্রাম ফাইবার গ্রহণ আদর্শ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা
- 📌 ফাইবার গ্রহণের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা
📰 বিস্তারিত
গত কয়েক বছরে কিটো ডায়েট, অ্যাটকিনস ডায়েট বা হাই-প্রোটিন ক্রেজের মতো বিভিন্ন খাদ্য প্রবণতা দেখা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ফাইবারম্যাক্সিংয়ের নামে নতুন এক প্রবণতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ইনফ্লুয়েন্সাররা দই, স্মুদি বা ওটসের সঙ্গে চিয়া বা ফ্ল্যাক্স সিড মিশিয়ে ফাইবার গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন। এমনকি সোডা, কুকিজ এমনকি কফি ক্রিমারেও ফাইবার মিশিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকির গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট সুনানা সোহি বলেন, ‘এই ধরনের ট্রেন্ডগুলোর আসল সমস্যা হলো, মানুষ বুঝতে চায় না যে শুধু একটা নির্দিষ্ট জিনিস দিয়ে সব সমস্যার সমাধান হয় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সুস্থ জীবনযাপনের জন্য কেবল একটি নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদানের ওপর নির্ভর করলেই চলে না।’
ফাইবার মূলত দুই ধরনের—অদ্রবণীয় ফাইবার ও দ্রবণীয় ফাইবার। অদ্রবণীয় ফাইবার মলের সঙ্গে বেরিয়ে যায় এবং পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার রাখে। অন্যদিকে দ্রবণীয় ফাইবার অন্ত্রে খাবার হজমকে ধীর করে দেয় এবং রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এছাড়া ফাইবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে বলে ওজন কমাতেও সাহায্য করে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, অতিরিক্ত ফাইবার গ্রহণ বিপজ্জনক হতে পারে। অনেকেই সরাসরি ফাইবার পাউডার চামচে করে খাচ্ছেন, যা গলায় আটকে গিয়ে মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। আবার কেউ ফাইবার পাওয়ার আশায় কলার খোসা বা কিউই ফলের লোমশ খোসা পর্যন্ত চিবিয়ে খাচ্ছেন!
বিশেষজ্ঞরা মহিলাদের জন্য দৈনিক ২৫ গ্রাম এবং পুরুষদের জন্য ৩৮ গ্রাম ফাইবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে হুট করেই ফাইবার গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানো উচিত নয়। প্রতি সপ্তাহে খাবারে ৫ গ্রাম করে ফাইবার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা। তা না হলে পেটে গ্যাস বা হজমের সমস্যা হতে পারে।
‘আমাদের পেটের ব্যাকটেরিয়াগুলোরও নিজস্ব পছন্দ আছে। তাই আপনি যত বেশি ভিন্ন ধরনের উদ্ভিদজাত ফাইবার খাবেন, আপনার পেট তত বেশি সুস্থ থাকবে।’ — সুনানা সোহি, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুনানা সোহি, রাবিয়া ডি লাটুর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ গ্রাম, ৩৮ গ্রাম, ৫ গ্রাম
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!