📌 চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থেকে ঢাকায় আইন পড়তে আসা এক ছাত্রের ফার্মগেটের জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা। নানা হোস্টেলে বসবাস, মানুষের সাথে মিশে যাওয়া এবং এই এলাকার অদ্ভুত শিক্ষা সম্পর্কে তার গল্প
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের এক তরুণ ছাত্রের ঢাকায় ফার্মগেটের জীবনযাপন তার জীবনে একটি অদ্ভুত শিক্ষার পাঠ দিয়েছে। ২০১৬ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর আইন পড়তে ঢাকায় আসা এই ছাত্রের ফার্মগেটের সাথে তার সম্পর্ক এমন যে, তিনি নিজেকে এই এলাকার বাইরে চিন্তা করতে পারেন না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **ফার্মগেটের শিক্ষা**: পূর্ব রাজাবাজারের হোস্টেল থেকে শুরু করে নানা কাণ্ডকারখানার মধ্য দিয়ে এই ছাত্রের জীবনে ফার্মগেটের শিক্ষা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- 📌 **নয়বার হোস্টেল বদল**: বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের প্রথম তিন সেমিস্টারে এই ছাত্রকে নয়বার হোস্টেল বদলাতে হয়েছে, সবগুলোই ফার্মগেট এলাকায়।
- 📌 **মানুষের সাথে মিশে যাওয়া**: ফার্মগেটের মানুষ, রাস্তা, দোকান, রুমমেট সবই অপরিচিত ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে এই এলাকাটি তাকে মানুষ চিনতে শেখিয়েছে।
- 📌 **ফার্মগেটের বন্ধন**: এই ছাত্রের মনে মনে ভাবনা, "ফার্মগেট আমাকে ছাড়ে না, নাকি আমি ফার্মগেট ছাড়তে পারি না!"
- 📌 **কাজের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান**: গুলশান-২-এর আইন চেম্বার থেকে কাজের প্রস্তাব পেলেও ফার্মগেট থেকে দূরে থাকার কারণে তা গ্রহণ করেননি।
📰 বিস্তারিত
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের এক তরুণ ছাত্রের ঢাকায় আসার গল্প শুরু হয় ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে। বয়স তখন মাত্র ১৯ বছর। উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর তিনি মনে করেছিলেন আর লেখাপড়াই করবেন না। কিন্তু বাবা-মায়ের ইচ্ছায় এবং তাদের মহাত্মা গান্ধী, নেলসন ম্যান্ডেলা ও মার্টিন লুথার কিং-এর মতো আইনশাস্ত্র পড়ার কথা মনে করিয়ে দিলে তিনি ঢাকায় ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের আইন বিভাগে ভর্তি হন।
ঢাকায় আসার প্রথমদিকে তিনি শাম্মী ও আরজু খালার বাসায় থাকতেন। কিন্তু কিছুদিন পর পূর্ব রাজাবাজারের একটি হোস্টেলে চলে আসেন। এই হোস্টেল ছিল চারপাশের রাস্তা, দোকান, মানুষ, রুমমেট সবই অপরিচিত। হোস্টেলের নিচতলায় তিনটি রুমে আটজন বাস করতেন এবং মাত্র দুটি বাথরুম ছিল। সিনিয়র ও প্রভাবশালী বাসিন্দাদের জন্য বড় ও পরিষ্কার বাথরুমটি ছিল নির্ধারিত।
ফার্মগেটের মানুষের সাথে মিশে যাওয়ার এই অভিজ্ঞতা তার জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে। পূর্ব রাজাবাজারের কবরস্থান গলি থেকে আনন্দ সিনেমা হল পর্যন্ত তার পরিচিত পৃথিবী ছিল। সিনেমা হলের সামনে বিভিন্ন ধরনের খেলা ও জাদু দেখানো হতো। খেলা শেষে শুরু হতো নানা রোগের ওষুধ বিক্রি এবং সুস্থতার শতভাগ গ্যারান্টি দেওয়া হতো। এই সব ঘটনা তাকে মানুষের সাথে মিশে যাওয়ার শিক্ষা দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের প্রথম তিন সেমিস্টারে এই ছাত্রকে নয়বার হোস্টেল বদলাতে হয়েছে। সবগুলোই ছিল ফার্মগেট এলাকায়। একটি হোস্টেলে তিনি আম্বিয়া খালাকে রান্না করার জন্য নিয়োগ দিয়েছিলেন। খুশি হয়ে তিনি নিজে থেকে তাদের জন্য পোলাও-মাংস রান্না করতেন। নিষেধ করলেও তিনি শুনতেন না এবং প্রায়ই জিজ্ঞাসা করতেন, 'মামা, শরীলডা ভালা?'
২০২২ সালের প্রথমার্ধে বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শেষ হওয়ার পর তিনি গুলশান-২-এর একটি আইন চেম্বার থেকে কাজের প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু ফার্মগেট থেকে দূরে থাকার কারণে সেটি গ্রহণ করেননি। তার মনে মনে ভাবনা ছিল, "ফার্মগেট আমাকে ছাড়ে না, নাকি আমি ফার্মগেট ছাড়তে পারি না!"
"মহাত্মা গান্ধী, নেলসন ম্যান্ডেলা, মার্টিন লুথার কিং—তাঁরা সবাই আইনশাস্ত্র পড়েছিলেন। ভালো করে পড়লে আমিও একদিন তাঁদের মতো হতে পারব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকার ফার্মগেট, পূর্ব রাজাবাজার, বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স, কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার তরুণ ছাত্র
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯৬ (লেখার নম্বর), ১৯ (বয়স), ২০১৬ (আসার বছর), ২০২২ (বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!