📌 ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। বঞ্চিত ৫০-এরও বেশি আবেদনকারী অভিযোগ করেছেন যে, যোগ্যতা ও সরকারি শর্ত পূরণ করেও ডিলারশিপ পাননি। রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থ লেনদেনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। যোগ্যতা ও সরকারি শর্ত পূরণ করেও ডিলারশিপ পাননি এমন অর্ধশতাধিক আবেদনকারী আজ রোববার (১১ অক্টোবর) নগরকান্দা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তাদের দাবি তুলে ধরেন। তারা অভিযোগ করেছেন, অর্থ লেনদেন ও রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফরিদপুর নগরকান্দা উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
- 📌 যোগ্যতা ও সরকারি শর্ত পূরণ করেও ডিলারশিপ পাননি এমন ৫০-এরও বেশি আবেদনকারী দাবি তুলেছেন।
- 📌 কাইচাইল, ডাঙ্গী, লস্করদিয়া, রামনগর ও ফুলসুতি ইউনিয়নে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
- 📌 অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার পরিবর্তে প্রভাবশালীদের সুপারিশ ও অর্থ লেনদেনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
- 📌 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন বলেছেন, মন্ত্রণালয় যাঁদের যোগ্য মনে করেছে, তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
- 📌 বিএনপির ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগের প্রতিবাদে ইউএনও বলেছেন, নীতিমালায় ফ্যাসিস্টদের নিয়োগ দেওয়ার কথা নেই।
- 📌 নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আলীমুজ্জামান বলেছেন, অভিযোগের মধ্যে সত্যতা রয়েছে।
- 📌 সংবাদ সম্মেলনে শাহীন মুন্সী লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্যতা ও গুদামের মালিকানার পরিবর্তে অর্থ লেনদেনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
নগরকান্দা উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। আজ রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় নগরকান্দা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগকারীরা তাদের দাবি তুলে ধরেন। তারা অভিযোগ করেছেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণকারী আবেদনকারীদের বাদ দিয়ে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার পরিবর্তে প্রভাবশালীদের সুপারিশ এবং অর্থ লেনদেনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তারা বলেছেন, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও একাধিক আবেদনকারী ডিলারশিপ পাননি। অন্যদিকে, নিজস্ব গুদাম না থাকা এবং ভাড়া করা ঘর ব্যবহারকারী কয়েকজনকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারীদের মধ্যে অন্যতম শাহীন মুন্সী লিখিত বক্তব্যে বলেছেন, উপজেলার কাইচাইল, ডাঙ্গী, লস্করদিয়া, রামনগর ও ফুলসুতি ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে। তিনি বলেছেন, নিয়োগ পাওয়া কয়েকজনের যোগ্যতা, গুদামের মালিকানা ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন অভিযোগের প্রতিবাদে বলেছেন, ‘আমরা প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে যোগ্য প্রার্থীর নাম মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। মন্ত্রণালয় যাঁদের যোগ্য মনে করেছে, তাঁদের নিয়োগ দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘নীতিমালায় কোথাও বলা নেই যে বিএনপির লোকদেরই নিয়োগ দিতে হবে। বলা হচ্ছে, ফ্যাসিস্টদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে জানাক।’
অর্থ লেনদেনের অভিযোগের প্রতিবাদে ইউএনও বলেছেন, ‘তাঁরা যেহেতু টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন, নিশ্চয়ই তাঁদের হাতে এ ব্যাপারে তথ্য রয়েছে। তাহলে তথ্য-প্রমাণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করছেন না কেন?’
নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হাবিবুর রহমান বলেছেন, ‘যাঁরা অভিযোগ করছেন, তাঁরা হয়তো না বুঝে করছেন। কেননা আমি যতটুকু শুনেছি, সারের ডিলার হিসেবে যাঁরা নিয়োগ পেয়েছেন, তাঁদের ৯৯ শতাংশ বিএনপির লোক।’ তবে এ বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আলীমুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ‘ক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা যে অভিযোগ করেছেন, তার মধ্যে সত্যতা আছে। একজন নিবেদিতপ্রাণ বিএনপির নেতা ও কর্মীর সব যোগ্যতা থাকতেও তাঁকে ডিলারশিপ না দিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো সদস্যকে নিলে ক্ষোভ তো হবেই। এখানেও তাই হয়েছে।’
"গুদামের মালিকানা ও যোগ্যতা পূরণ করেও ডিলারশিপ পাননি এমন আবেদনকারীদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অর্থ লেনদেন ও রাজনৈতিক প্রভাবকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নগরকান্দা উপজেলা, ফরিদপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শাহীন মুন্সী, রেজওয়ানা আফরিন, হাবিবুর রহমান, আলীমুজ্জামান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০+ (আবেদনকারী), ৯৯ (শতাংশ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!