📌 সিলেটের ফাহমিদা জান্নাত (হেপী) পারিবারিক সংকট, অর্থকষ্ট ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে একা থেকে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। তাঁর ডায়েরিতে লিখিত কষ্টের গল্প থেকে শুরু করে সফলতার পথের বিবরণ এখন অন্যদের অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে
সিলেটের ফাহমিদা জান্নাত (হেপী) তাঁর জীবনের কষ্ট ও সফলতার গল্প ডায়েরিতে লিখে রেখেছেন। ২০১৪ সালের জুনে পারিবারিক সংকটে পতিত হয়ে একা থাকার সময় লিখেছিলেন, ‘আমার কাছে ১০ টাকাও নেই’। কিন্তু এক যুগ পর ২০২৬ সালের ২৬ জুন তিনি ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘প্রতিটি কষ্ট আমাকে শক্তিশালী করেছে’। এখন তিনি স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন এবং তাঁর জীবনকাহিনি অন্যদের অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০১৪ সালের ২৫ জুন ডায়েরিতে লিখেছিলেন: ‘আমার কাছে ১০ টাকাও নেই, বাচ্চা দুধের জন্য কাঁদছে’ — কিন্তু ২০২৬ সালে তিনি স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন।
- 📌 ২০০৭ সালে বিয়ে হলেও শ্বশুরবাড়ির দুর্ব্যবহার ও স্বামীর অস্থিরতা থেকে ২০১৪ সালে স্বামী চলে যান।
- 📌 ২০১৬ সালের ২৫ নভেম্বর ডায়েরিতে লিখেছিলেন: ‘হাতে একটা টাকাও নেই, ছেলে মাছ-মাংস চায়’ — কিন্তু ধৈর্য ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সফলতা পেয়েছেন।
- 📌 সেলাই ও ব্লক বাটিক শিখে ২০১৭ সালে ব্যবসা শুরু করেন। ধীরে ধীরে পোশাক সেলাই, থ্রি-পিস ব্যবসা ও সেলাইয়ের মাধ্যমে উপার্জন শুরু করেন।
- 📌 সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি লুবানা ইয়াসমিন বলেছেন, ফাহমিদার জীবনকাহিনি ‘সিনেমার গল্পকেও হার মানায়’।
📰 বিস্তারিত
সিলেটের বিয়ানীবাজারের উচ্চশিক্ষিত পরিবারে জন্মগ্রহণকারী ফাহমিদা জান্নাত (হেপী) ২০০৭ সালে ব্যাংক কর্মকর্তা স্বামীর সাথে বিয়ে করেন। প্রথম তিন বছর স্বামীর সংসারে তাঁর জীবন ভালোই কাটে। কিন্তু হঠাৎ শ্বশুরবাড়ির লোকজন দুর্ব্যবহার শুরু করেন। একপর্যায়ে স্বামীও খারাপ আচরণ শুরু করেন। ফাহমিদা বলেন, বিয়ের পর তৃতীয় বছরে তাঁর গর্ভে প্রথম সন্তান আসে। শ্বশুরবাড়ির পরামর্শে জন্মের পর মেয়েকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে সরাসরি বাবার বাড়ি চলে যান। দিনের পর দিন বাবার বাড়িতে থাকলেও স্বামী তাঁকে শ্বশুরবাড়িতে আনতে চেষ্টা করেন। দেবর ও ননদরা তাঁকে আসতে নিষেধ করেন। ছয় মাস পরে জোর করে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান। শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে প্রতিদিন হেনস্তা করতে শুরু করেন।
২০১৪ সালের আগস্টে স্বামী চাকরি করবেন বলে ঢাকায় চলে যান। শুরুর দিকে যোগাযোগ ছিল, কিন্তু পরে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। দেবর ও ননদের মানসিক নির্যাতন বাড়িয়ে দেন। ফাহমিদা ডায়েরিতে লিখেছিলেন, ‘ছেলে দুধের জন্য খুব কাঁদে, হাতে একটা টাকাও নেই’। ২০১৬ সালের ২৫ নভেম্বর তিনি ডায়েরিতে লিখেছিলেন, ‘আজ মনটা খুব খারাপ, হাতে একটা টাকাও নেই, ছেলেটা মাছ-মাংস খাবে, খুব বায়না করছে’।
ফাহমিদা বলেন, ‘স্কুলে পড়ার সময়ই সেলাই ও ব্লক বাটিকের কাজ শিখেছি। ২০১৭ সালে সেটাই কাজে লাগালাম। মেয়েকে স্কুলে দিতাম আর অন্য অভিভাবকদের সেলাইয়ের কাজ এনে বাসায় বসে করতাম। ধীরে ধীরে পাড়া-প্রতিবেশীসহ অনেকের পোশাক টাকার বিনিময়ে সেলাই করা শুরু করি। একসময় ভাই-বোনদের কাছ থেকে অর্থসহায়তা নিয়ে থ্রি-পিস ব্যবসা ও সেলাই শুরু করি। শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে ‘সেলাই আপা’ বলে কটূক্তি করতেন।
"প্রতিটি কষ্ট, প্রতিটি ব্যস্ততা আর প্রতিটি ছোট সফলতা আমাকে আরও শক্ত হতে শেখায়। নিজের কাজকে ভালোবাসুন। সততা আর পরিশ্রমকে সঙ্গী করুন। ইনশা আল্লাহ, সফলতা একদিন দরজায় কড়া নাড়বেই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিলেটের মীরাবাজার (বাসা), বিয়ানীবাজার (বাড়ি), ঢাকা (স্বামী চলে যান)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফাহমিদা জান্নাত (হেপী), লুবানা ইয়াসমিন (সিলেট উইমেন চেম্বার সভাপতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ টাকা, ২৫ জুন (২০১৪), ২৬ জুন (২০২৬), ৯ জুন, ১৪ ভরি স্বর্ণালংকার, ২৫ নভেম্বর (২০১৬)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!