📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, শিশু-কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে রাখা হোতাদের নাম প্রকাশ এবং তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা দরকার। তারা উল্লেখ করেছেন, দেশে শিশুদের সুরক্ষার জন্য আইন থাকলেও হোতাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি
বাংলাদেশের শিশু-কিশোরদের অপরাধের শিকার হওয়া বা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পিছনে থাকা হোতাদের নাম প্রকাশ এবং তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার চাইতে বিশেষজ্ঞরা একসাথে আওয়াজ তুলেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা এই দাবি তুলেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, শিশুদের অপরাধে জড়িয়ে রাখা হোতাদের নাম প্রকাশ এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন, ‘কিশোর গ্যাং’-এর পিছনে থাকা হোতাদের নাম প্রকাশ এবং তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার করতে হবে
- 📌 অ্যাসেন্ডের পরিচালক ও কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ডিন অধ্যাপক পারভেজ আহমেদ বলেছেন, শিশুদের অপরাধে জড়িয়ে থাকা হোতাদের চিহ্নিত করে কঠোর বিচারের মুখোমুখি করা দরকার
- 📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মু রেজাউল করিম সোহাগ উল্লেখ করেছেন, দেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ শিশু-কিশোর, যারা সহজেই অপরাধের শিকার বা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের ট্রান্সন্যাশনাল ল ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মার্ক এ ড্রাম্বল বলেছেন, কিশোর অপরাধের সাথে অস্ত্র ও মাদকের ব্যবসাও জড়িত, তাই হোতাদের দ্রুত শনাক্ত করা দরকার
- 📌 অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া দুই রিকশাচালক জানান, তাদের পরিবারের শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা সবসময় উদ্বিগ্ন
📰 বিস্তারিত
‘মূল্যহীন শৈশব-কৈশোর: শিশু নিয়োগ, প্রাপ্তবয়স্কের দায়মুক্তি ও সুরক্ষার অনভিপ্রেত মূল্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, শিশুদের অপরাধে জড়িয়ে রাখা হোতাদের নাম প্রকাশ এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছে স্বাধীন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান এশিয়ান সোশিও-লিগ্যাল সেন্টার ফর এম্পিরিক্যাল অ্যান্ড ডকট্রিনাল রিসার্চ (অ্যাসেন্ড)। সভায় অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, দেশে শিশুদের সুরক্ষার জন্য আইন থাকলেও কোনো শিশুকে অপরাধে নিয়োজিত করার দায়ে কোনো প্রাপ্তবয়স্কের দণ্ড হয়েছে এমন নজির পাওয়া যায়নি।
অ্যাসেন্ডের নির্বাহী পরিচালক কে এম রাকিবুল ইসলাম সভা সঞ্চালনা করেন। স্বাগত বক্তব্যে অ্যাসেন্ডের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) অধ্যাপক কে এম জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কিশোর গ্যাং’-এ কারা কিশোরদের সদস্য হিসেবে সম্পৃক্ত করে, সেটা নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘গডফাদাররা’ ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়, তাই তাদের কীভাবে আইনের আওতায় আনা যায়, তা খুঁজে বের করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, শিশুদের অপরাধে জড়িয়ে থাকা হোতাদের নাম প্রকাশ এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তারা বলেছেন, শিশুদের সহজলভ্য মাদক ও অস্ত্রের ব্যবসায় জড়িয়ে রাখা হচ্ছে। এছাড়া, নাটক ও সিনেমায় কিশোর অপরাধের চিত্রায়ন শিশুদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
অনুষ্ঠানে সরাসরি অংশ নেওয়া সেনাবাহিনীর শিক্ষা পরিদপ্তরের সাবেক পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম আমিরুল ইসলাম বলেন, শিশুদের দেখভালের জন্য সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যত নিশ্চিত করা দরকার, না হলে তাদের অপরাধে আকৃষ্ট করার ঝুঁকি থেকে যায়।
"কিশোরদের দিয়ে অপরাধ করানোর পেছনের মূল ব্যক্তিদের নাম অবিলম্বে প্রকাশ করা উচিত। এ ছাড়া কার্যকর সামাজিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে"
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি এস এম তাসমিরুল ইসলাম বলেছেন, সঠিক তদন্তের অভাবে হোতাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয় না।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক পারভেজ আহমেদ, মু রেজাউল করিম সোহাগ, কে এম রাকিবুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম আমিরুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫টি দেশের গবেষক, ১০ বছর বয়সী শিশু
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!