📌 নির্বাচন কমিশন (ইসি) এনআইডি নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিবর্তন আনছে। বাবা-মায়ের নাম এনআইডি নম্বর দিয়ে যুক্ত করা, ডিজিটাল ফ্যামিলি ট্রি গঠন, বারকোড স্ক্যান ও রেটিনা স্ক্যান প্রযুক্তি চালু, ডার্কওয়েব নজরদারি ২৪ ঘণ্টা চালু — এসবের পাশাপাশি ১১ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে
নির্বাচন কমিশন (ইসি) এনআইডি নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করেছে। ঢাকায় সারাবাংলা সংবাদদাতাদের জানানো হয়েছে, এনআইডি উইংয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে মোট ৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং আইসিটি সিস্টেমের সুরক্ষা ও উন্নয়নে প্রায় ৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য নাগরিকদের ভোগান্তি কমিয়ে আনা, তথ্য সঠিকতা নিশ্চিত করা এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **বাবা-মায়ের নাম এনআইডি নম্বর দিয়ে যুক্ত করা হবে** — হাতে লেখার পরিবর্তে সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে, বানানে ভুলের সম্ভাবনা কমবে
- 📌 **একাধিক স্ত্রীর সন্তানের মায়ের নাম যুক্ত করার সুযোগ** — পারিবারিক বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে সন্তানের এনআইডিতে মায়ের নাম স্বতন্ত্রভাবে যুক্ত করা যাবে
- 📌 **ডিজিটাল ফ্যামিলি ট্রি গঠন** — ১৬ বছর বয়সে নিবন্ধনের সময় ভাই-বোনের নাম যুক্ত করা হবে, ভুয়া তথ্য ও পরিচয় গোপনের সুযোগ বন্ধ হবে
- 📌 **বারকোড স্ক্যান ও রেটিনা স্ক্যান প্রযুক্তি চালু** — এনআইডি কার্ডের বারকোড স্ক্যান করে মুহূর্তে তথ্য যাচাই করা যাবে; প্রবীণদের জন্য রেটিনা স্ক্যানের ব্যবস্থা করা হবে
- 📌 **ডার্কওয়েব নজরদারি ২৪ ঘণ্টা চালু** — ২ কোটি টাকা বরাদ্দে বিশেষ সফটওয়্যার দিয়ে ডার্কওয়েবে এনআইডি তথ্য চুরির চক্র নজরদারি করা হবে
- 📌 **১১ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ** — আইসিটি সিস্টেম সাপোর্ট, ডেটা সেন্টার, নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম, সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষা ও নতুন সফটওয়্যার তৈরিতে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সারাবাংলাকে জানান, এনআইডি নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় নানা জটিলতা দূর করার জন্য মৌলিক পরিবর্তন আনছে ইসি। এতদিন প্রাতিষ্ঠানিক নামের পাশাপাশি অন্য নাম যুক্ত করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা ছিল, যা এবার দূর করা হয়েছে। বিশেষত বাবা-মায়ের নাম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নতুন প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। পূর্বে ফরমে বাবা-মায়ের নাম হাতে বা টাইপ করে লেখা হতো, যার ফলে বানানে ভুলের সম্ভাবনা থেকে যেত। নতুন পরিকল্পনায় বাবা-মায়ের এনআইডি নম্বর দিয়ে সরাসরি তাদের তথ্য সিস্টেমে যুক্ত করা হবে।
পারিবারিক তথ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ইসি ‘ফ্যামিলি ট্রি’ গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে। ১৬ বছর বয়সে নাগরিকদের প্রাথমিক নিবন্ধনের সময়ই ভাই-বোনের নাম এবং জন্ম নিবন্ধন নম্বর যুক্ত করা হবে। এতে প্রতিটি পরিবারের একটি ডিজিটাল ফ্যামিলি ট্রি বা পারিবারিক কাঠামো তৈরি হবে। পরবর্তীতে কোনো নাগরিক এনআইডিতে সংশোধন চাইলে কমিশন সহজেই ফ্যামিলি ট্রির তথ্য যাচাই করতে পারবে। এতে ভুয়া তথ্য প্রদান বা পরিচয় গোপনের সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হবে এবং আবেদন নিষ্পত্তির সময় কমে যাবে।
এনআইডির সত্যতা যাচাইকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ইসি কার্ডের সামনের অংশে বিশেষ বারকোড ভিত্তিক তথ্য যাচাই ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা করছে। যেকোনো নাগরিক বা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান স্মার্টফোনে সেই বারকোড স্ক্যান করে কার্ডধারীর ছবি ও মৌলিক তথ্য দেখতে পাবেন। এছাড়া বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের সময় প্রবীণ, শারীরিক পরিশ্রমে নিয়োজিত ব্যক্তি বা যাদের আঙুলের ছাপ ক্ষয় হয়ে গেছে, তাদের জন্য বিকল্প হিসেবে রেটিনা স্ক্যান প্রযুক্তি চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য ইসি ডার্কওয়েব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া নজরদারি চালু করেছে। বিভিন্ন তদন্তে দেখা গেছে, ডার্কওয়েব থেকে এনআইডির তথ্য কিনে অসাধু চক্র টেলিগ্রাম, ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তা বিক্রি করছিল। এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থামাতে ইসি ইতিমধ্যে বেশ কিছু অবৈধ গ্রুপ বন্ধ করেছে। এবার সরাসরি ডার্কওয়েবে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাতে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশেষ মনিটরিং সফটওয়্যার কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
"এনআইডি আবেদন প্রক্রিয়ায় মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং তথ্যের শতভাগ সঠিকতা নিশ্চিত করতে নতুন নিয়ম যুক্ত করা হচ্ছে। বাবা-মায়ের নাম এনআইডি নম্বর দিয়ে যুক্ত করা, ফ্যামিলি ট্রি গঠন, বারকোড স্ক্যান ও রেটিনা স্ক্যান প্রযুক্তি চালু — এসব উদ্যোগের লক্ষ্য নাগরিকদের সেবা দ্রুততর ও নিরাপদ করা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা:
- ৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা — এনআইডি উইংয়ের বাজেট
- ৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা — আইসিটি সিস্টেম সাপোর্ট ও নিরাপত্তা বরাদ্দ
- ২৪ ঘণ্টা — ডার্কওয়েব নজরদারি সময়সীমা
- ১৬ বছর — ফ্যামিলি ট্রি গঠনের বয়স
- ২ কোটি টাকা — ডার্কওয়েব মনিটরিং সফটওয়্যার কেনার ব্যয়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!