📌 শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় নৌযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৬টি নির্দেশনা জারি করেছে। এতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ, ফিটনেসবিহীন নৌযানের চলাচল নিষিদ্ধ, উদ্ধার জাহাজ প্রস্তুত রাখা এবং নদীর মাঝপথে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা জারি করেছে। এ সময় নৌদুর্ঘটনা মোকাবিলায় উদ্ধারকারী জাহাজ প্রস্তুত রাখা, ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল বন্ধ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রতিরোধ এবং রাতে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখাসহ মোট ১৬টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৬টি নির্দেশনা জারি করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নৌযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।
- 📌 ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- 📌 অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ এবং সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন করতে হবে।
- 📌 রাতে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ এবং দিনের বেলায় নদীর মাঝখান দিয়ে চলাচল নিষিদ্ধ।
- 📌 সদরঘাটসহ নদীর মাঝপথে লঞ্চের সঙ্গে নৌকা বা ট্রলারের মাধ্যমে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ রাখতে হবে।
- 📌 উদ্ধারকারী জাহাজ প্রস্তুত রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দরে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার করতে বলা হয়েছে।
- 📌 নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে টার্মিনালে পানি, স্যানিটেশন, নিরাপত্তা এবং বিশ্রামের ব্যবস্থা উন্নত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- 📌 ৮ অক্টোবর থেকে এই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
গত ৮ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য বলা হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব ছন্দা পালের স্বাক্ষরে জারি করা নির্দেশনাটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যাত্রীদের নৌযানে ওঠানামা নির্ধারিত টার্মিনালের পন্টুন ব্যবহার করে করতে হবে। সদরঘাটসহ নদীর মাঝপথে লঞ্চের সঙ্গে নৌকা বা ট্রলারের মাধ্যমে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ রাখতে হবে। লঞ্চ ও অন্যান্য নৌযানে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন করতে হবে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করতে হবে। দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে ফিটনেসবিহীন লঞ্চ, নৌযান ও ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাতে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকবে। দিনের বেলায় স্পিডবোট নদীর মাঝখান দিয়ে চলাচল করতে পারবে না এবং যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরা নিশ্চিত করতে হবে। নৌদুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উদ্ধারকারী জাহাজ প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দরে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
আবহাওয়ার সতর্কবার্তা অনুসরণ করে নৌযান পরিচালনার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সদরঘাট নৌ টার্মিনাল ও পন্টুন এলাকায় হকার ও ক্যানভাসারদের অবস্থান বন্ধ রাখতে হবে। টার্মিনালের প্রবেশপথে নৌযানের রুট ও পন্টুনের তথ্য প্রদর্শন এবং অবৈধ পার্কিং বন্ধের ব্যবস্থা নিতে হবে। নৌপথের নাব্য বজায় রাখার পাশাপাশি ফেরিঘাটে যানবাহনের প্রবেশ ও সারিবদ্ধ চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফেরিতে ওঠার আগে চালক ছাড়া অন্য যাত্রীদের বাস বা যানবাহন থেকে নেমে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এ বিষয়ে ফেরিঘাটে নির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করতে হবে। নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে টার্মিনালে পানি, স্যানিটেশন, নিরাপত্তা, মোবাইল ফোন চার্জিং ও বিশ্রামের ব্যবস্থা উন্নত করার কথাও বলা হয়েছে।
নৌযাত্রায় জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য লঞ্চে চারটি হটলাইন নম্বর প্রদর্শন করতে হবে। নম্বরগুলো হলো- জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, ফায়ার সার্ভিস ১০২, বিআইডব্লিউটিএর যাত্রীসেবা ১৬১১৩ এবং কোস্ট গার্ড ১৬১১১। আবহাওয়ার তথ্যের জন্য ১০৯০ অথবা ৪১০২৫৭৩০ ও ৪১০২৫৭৩১ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।
"যাত্রীদের নৌযানে ওঠানামা নির্ধারিত টার্মিনালের পন্টুন ব্যবহার করে করতে হবে। সদরঘাটসহ নদীর মাঝপথে লঞ্চের সঙ্গে নৌকা বা ট্রলারের মাধ্যমে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ রাখতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশের নদী ও নৌপথ, সদরঘাট, নদীবন্দর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব ছন্দা পাল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬টি নির্দেশনা, ৮ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!