📅 ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

দুর্গোৎসবের শেষে ভালোবাসা ও বিষাদে মিশে বিসর্জনযাত্রা: ঢাকেশ্বরীর ঐতিহ্যবাহী বিদায়

দুর্গোৎসবের শেষে ভালোবাসা ও বিষাদে মিশে বিসর্জনযাত্রা: ঢাকেশ্বরীর ঐতিহ্যবাহী বিদায়

📷 ছবি: শেয়ার বিজ

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 Share Biz ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 দশমীর দিন ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে শুরু হওয়া দুর্গাপূজার বিসর্জনযাত্রায় ভক্তদের হৃদয় বিষাদে ভরে যায়। রাজধানীর বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে আসা প্রতিমাগুলি বুড়িগঙ্গার ওয়াইজঘাটে পৌঁছবে। এছাড়াও সিঁদুর খেলা, মেডিকেল ক্যাম্প ও রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়

দশমীর দিন ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শুরু হওয়া দুর্গাপূজার বিসর্জনযাত্রায় ভক্তদের হৃদয় বিষাদ ও আনন্দের মিশ্র অনুভূতি ভরে যায়। বুধবার বিকাল ৪টায় রাজধানীর পলাশী মোড়ের ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রায় জগন্নাথ হল, দোয়েল চত্বর, গুলিস্তান মোড়, নবাবপুর রোড ও রায়সাহেব বাজার হয়ে বুড়িগঙ্গার ওয়াইজঘাটে গিয়ে শেষ হবে। রাত ১০টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • 📌 বিসর্জনযাত্রা: ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে শুরু হওয়া দুর্গাপূজার বিসর্জনযাত্রা বুড়িগঙ্গার ওয়াইজঘাটে শেষ হবে।
  • 📌 দশমীর অনুষ্ঠান: সকাল ৭টায় দশমীর বিহিত পূজা, ৯টায় দর্পণ বিসর্জন, ১১টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে সিঁদুর খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
  • 📌 বঙ্গভবনে শুভেচ্ছা বিনিময়: সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
  • 📌 সামাজিক কর্মসূচি: মন্দির প্রাঙ্গণে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প ও ৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
  • 📌 বিশেষত্ব: ঢাকেশ্বরী মন্দিরের মূল প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় না। প্রতীকীভাবে সপ্তমীর কলাবউ বিসর্জন দেওয়া হবে।
  • 📌 সংখ্যাগত তথ্য: ঢাকায় ২৫৮টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সারা দেশে মোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

📰 বিস্তারিত

হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী দুর্গা মহালয়ার দিন মর্ত্যে আসেন এবং দশমীর দিন পিতৃগৃহ ছেড়ে কৈলাসে ফিরে যান। এই দিনটিকে ‘শুভ বিজয়া’ হিসেবে উদযাপন করা হয়। তবে ভক্তদের হৃদয় বিষাদে ভরে যায় যখন দেবীকে বিদায় জানানো হয়। দশমীর দিন সকালে দশমীর বিহিত পূজা ও সিঁদুর খেলা অনুষ্ঠিত হয়। সিঁদুর খেলায় সধবা নারীরা দেবীর চরণে সিঁদুর নিবেদন করে একে অপরের কপালে ও গালে সিঁদুর মেখে উল্লাসে মেতে ওঠেন।

বঙ্গভবনে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পূজা কমিটির প্রায় ১০০ সদস্য অংশগ্রহণ করেন। মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশিষ কুমার বিশ্বাস বলেন, “আমাদের মধ্যে যে সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে উঠেছে, তা ধরে রাখতে চাই। এ বন্ধনকে ধারণ করেই সামনের দিনে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই।”

দুর্গাপূজা কেবল ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মন্দির প্রাঙ্গণে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প চালানো হয়। এছাড়াও বুধবার দুপুরে মন্দিরে প্রায় ৫০ বছর ধরে চলমান ঐতিহ্যবাহী রক্তদান কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়। শুভাশিষ কুমার বিশ্বাস জানান, “বিশ্বের মধ্যে এটি বিরল যে এক ধর্মের অনুষ্ঠান সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে অন্য ধর্মের মানুষ, বিশেষ করে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম ভাইয়েরা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সহযোগিতা করেন।”

শোভাযাত্রায় ভক্ত ও শিল্পীদের চোখে বিষাদের ছায়া ছিল। পুরান ঢাকার ওয়ারীর বাসিন্দা কারিগর চন্দন চন্দ্র দাস বলেন, “মা দুর্গা আমাদের আরাধ্য দেবী। জগতের সব শক্তির উৎস তিনি। আজ আবার ধরাধাম থেকে তিনি মৃন্ময়ী থেকে চিন্ময়ীতে চলে যাবেন। জগতের অশুভ শক্তি বিনাশ হোক— এই প্রার্থনা নিয়ে মাকে বিদায় জানাচ্ছি।”

লালবাগের বাসিন্দা শ্রাবণী দাস জানান, “আজ একটু কষ্ট হচ্ছে। আবার এক বছর পর মায়ের সঙ্গে দেখা হবে। তবে ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে এবার সিঁদুর খেলায় অংশ নিতে না পারার আক্ষেপও ঝরে তার কণ্ঠে।” শিক্ষক সীমা রানী পাল বলেন, “শহরে উৎসবটা সবার হয়ে যায়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি মুসলিম সহকর্মী ও তাদের সন্তানদেরও রাতে পূজা দেখতে আসতে দেখা যায়। এ কারণে শহরে সম্প্রীতির মেলবন্ধনটা বেশি।”

ঢাকেশ্বরীর বিসর্জনে রয়েছে নিজস্ব ঐতিহ্য। এখানকার মূল প্রতিমাটি বিসর্জন দেওয়া হয় না। শুভাশিষ কুমার বিশ্বাস বলেন, “ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দেবী দুর্গা স্বয়ং অধিষ্ঠিত। মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ঐতিহ্য রয়েছে, এই প্রতিমা আমরা এক বছর সংরক্ষণ করি। পরবর্তী পূজার আগে বিসর্জন দেওয়া হয়। এবার প্রতীকীভাবে সপ্তমী পূজার দিন প্রতিষ্ঠা করা কলাবউ বা কলাগাছটি বিসর্জন দেওয়া হবে।”

"আমাদের মধ্যে যে সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে উঠেছে, তা ধরে রাখতে চাই। এ বন্ধনকে ধারণ করেই সামনের দিনে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই।"
"বিশ্বের মধ্যে এটি বিরল যে এক ধর্মের অনুষ্ঠান সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে অন্য ধর্মের মানুষ, বিশেষ করে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম ভাইয়েরা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সহযোগিতা করেন।"
"মা দুর্গা আমাদের আরাধ্য দেবী। জগতের সব শক্তির উৎস তিনি। আজ আবার ধরাধাম থেকে তিনি মৃন্ময়ী থেকে চিন্ময়ীতে চলে যাবেন। জগতের অশুভ শক্তি বিনাশ হোক— এই প্রার্থনা নিয়ে মাকে বিদায় জানাচ্ছি।"

📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ

  • 📍 স্থান: ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির (পলাশী মোড়), ঢাকা
  • 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শুভাশিষ কুমার বিশ্বাস (মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক), চন্দন চন্দ্র দাস, শ্রাবণী দাস, সীমা রানী পাল
  • 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫৮টি মণ্ডপ (ঢাকা), ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপ (সারা দেশ), ১০০ সদস্য (বঙ্গভবনে অংশগ্রহণকারী), ৫০ বছর (রক্তদান কর্মসূচির ঐতিহ্য), ৫০ হাজার (মহাপ্রসাদ বিতরণ)

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖